হ্নীলায় অপহরণে ব্যর্থ হয়ে গুলিবর্ষণে এক ব্যক্তি রক্তাক্ত

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৩ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : হ্নীলায় প্রকাশ্য দিবালোকে এক ব্যক্তিকে অপহরণের চেষ্টা চালিয়েছে স্বশস্ত্র দূবৃর্ত্তরা। স্থানীয় জনতার বাঁধার মুখে গুলিবর্ষণ করে পালিয়েছে দূবৃর্ত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় গুলিবিদ্ধকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।

ভিকটিমের পরিবার ও স্থানীয় সুত্রের দাবী,২৭জানুয়ারী (শনিবার) বিকাল ৫টারদিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউপির রঙ্গিখালী স্কুল পাড়া সংলগ্ন জনৈক নুরু সওদাগরের দোকানের সামনে হতে একদল স্বশস্ত্র দূবৃর্ত্ত রঙ্গিখালী লামার পাড়ার ইসমাঈল হাজীর ৩য়পুত্র মোহাম্মদ ইলিয়াছ (৩০) কে অপহরণ করে পাহাড়ের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে ইলিয়াছকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে স্বশস্ত্র দূবৃর্ত্ত দলের সদস্যরা ইলিয়াছকে লক্ষ্য করে মাথায় লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে এবং পায়ে গুলিবর্ষণ করে পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়। এসময় ইলিয়াছ ও পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। হামলাকারীরা চলে গেলে উপস্থিত লোকজন গুলিবিদ্ধ ইলিয়াছকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য লেদা আইএমও হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করে।

এ বিষয়ে ভিকটিমের ভাই মোঃ ইদ্রিস জানান,আমার ভাইকে প্রকাশ্য দিনের বেলায় চিহ্নিত স্বশস্ত্র দূবৃর্ত্তরা অপহরণের চেষ্টা চালিয়েছে। জনতার বাঁধার মুখে নিরুপায় হয়ে তাকে প্রাণের মারার উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন স্থানে লোহার রড দিয়ে প্রহার ও গুলিবর্ষণ করে ফেলে যায়। হামলাকারীরা ২০১৪ সালে আমার ভাই ইলিয়াসকে গুলি করে পঙ্গু করে দেয়। যে মামলাটি বর্তমানে কক্সবাজার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন আছে। সেই মামলা তুলে না নেওয়ায় তারা আজ আমার ভাইকে গুলি করে।


ভিকটিম ইলিয়াছ জানান, শাহ আলম, নুরুল আবছার ও জাকের হোছনসহ একটি গ্রুপ পাহাড়ে নিতে না পেরে গুলি করে ফেলে দিয়ে চলে যায়।

এদিকে রঙ্গিখালী এলাকার সাধারণ মানুষ জানিয়েছে,এই ধরনের ঘটনা দুঃখজনক তবে হামলায় আহত ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন চক্রের সাথে যোগ-সাজশ করে নানা অপকর্ম করে বেড়াত।

গোলাগুলির ঘটনায় স্থানীয় ইউপি মেম্বার জামাল হোছনের নিকট জানতে বার বার মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করে সংযোগ না পাওয়ায় কোন ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানান,আমি ব্যক্তিগত কাজে কক্সবাজার অবস্থান করছি। বিভিন্ন জনের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। তিনি আরো বলেন,সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ঘটনা সাধারণ মানুষকে আতংকিত করে তুলেছে। দল-মত নির্বিশেষে যেসব অপরাধী রয়েছে সবাইকে আইনের আওতায় আনার জন্য আইন-শৃংখলা বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ মুহাম্মদ ওসমান গণি ছুটিতে থাকায় ওসি (অপারেশন) এর নিকট জানতে চেষ্টা করেও ফোন রিসিভ না হওয়ায় কোন ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ###