হোয়াইক্যংয়ে ষড়যন্ত্রমূলক মাদক মামলায় ৩ বারের এক ইউপি মেম্বার কারাগারে ; জনদূর্ভোগ চরমে

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago

বার্তা পরিবেশক : হোয়াইক্যং একটি হত্যা মামলা আপোসের সুযোগে ওসির নাম ভাঙ্গিয়ে মোটাংকের টাকা দপাদার আতœসাৎ করার দায়ে ক্ষিপ্ত ওসির রোষানলে পড়ে একজন ইউপি মেম্বার ৭ মাসের অধিক সময় ধরে কারাগারে মানবেতর দিন-যাপন করছে। এলাকার মেম্বার না থাকায় স্থানীয় জনসাধারণ সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন সেবা ও সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় জনসাধারণ চলমান করোনা সংকটে এলাকার মেম্বার না থাকায় চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন অভিযোগ করে জনস্বার্থে কারারুদ্ধ মেম্বারের দ্রুত মুক্তির দাবী জানিয়েছেন।

চলতি বছরের পূর্ব মহেশখালীয়া পাড়ার কালা চাঁদের পুত্র আবুল মনসুর হত্যা টেকনাফ মডেল থানার মামলা নং-৩৫/২০২০ইং এর প্রকৃত আসামীদের যাচাই-বাছাই এবং অধিকতর তদন্তের জন্য থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ মুঠোফোনে ডাকলে চলতি বছরের ২ এবং ৩ জানুয়ারী থানায় গিয়ে ওসির সাথে স্বাক্ষাত করে এই ঘটনার তথ্য-উপাত্ত প্রদান করেন স্থানীয় মৃত হাজী আব্দুস সাত্তারের পুত্র এবং ৮নং ওয়ার্ড ইউপি মেম্বার ও প্যানেল চেয়ারম্যান জাহেদ হোছাইন।

এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জাহেদ হোছাইন মেম্বার বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এই সুযোগে হোয়াইক্যং ইউপির কাঞ্জর পাড়ার মৌলভী সিরাজের পুত্র দপাদার নুরুল আমিন ওসি প্রদীপের নামে ৪লাখ টাকা দাবী করে। জাহেদ মেম্বার তখন লোকজন থেকে সংগ্রহ করে উক্ত দপাদারকে ১লাখ ৮০হাজার টাকা দেন। ঐ দপাদার উক্ত টাকা ওসি প্রদীপকে বুঝিয়ে না দেওয়ায় মেম্বারের প্রতি তেলে-বেগুনে জ¦লে উঠে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।

এরই সুত্রধরে ৪ জানুয়ারী পূর্ব মহেশখালীয়া পাড়ার কালা চাঁদের পুত্র আবুল মনসুর হত্যা মামলা নং-৩৫/২০২০ইং মামলার প্রকৃত আসামীদের যাচাই-বাছাই এবং অধিকতর তদন্তের জন্য টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ মুঠোফোনে ডাকলে থানায় গিয়ে ওসির সাথে দেখা করতে যায় প্যানেল চেয়ারম্যান জাহেদ হোছাইন। ঐ দিন দুপুরে জাহেদ হোছাইন মেম্বারকে আকস্মিক থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলায় আটকিয়ে রাখেন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।

এরপর বিকাল ৫টারদিকে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ পুলিশের বিশেষ বহর নিয়ে বাড়িতে এসে বসত ঘর ভাংচুর করে এবং বাড়িতে থাকা জমিনের যাবতয়ি দলিলাদি, ব্যাংকের চেক বহি, নগদ ১লাখ ২৫ হাজার টাকা, ডেপোজিটের চেক ২টি, ৪পুত্রের ৪টি মাটির ব্যাংকে জমানো ৪০হাজার ও ৩ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে নেয়। এবং জাহেদ মেম্বারের শয়ন কক্ষের নীচে ২০হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার দেখায়। পরে উক্ত মামলায় জনপ্রিয় এই মেম্বারকে কারাগারে প্রেরণ করে ওসি প্রদীপ। এই মামলায় তার সহধর্মিনী পারভীন সোলতানা ববিকে পলাতক আসামী করে। পরে তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় ববিকে সিএস থেকে বাদ দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, এই মেম্বারকে একই দিন সন্ধ্যা ৭টায় টেকনাফ বাসষ্টেশন হতে মামলা নং-০৯/২০ইং আটক করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এক ঘন্টা পর ১০/২০ইং মামলায় পশ্চিম সাতঘরিয়া পাড়া থেকে আটক করে বলে এজাহারে উল্লেখ করেন। এখন জনতার প্রশ্ন হচ্ছে পুলিশের হাতে আটক একই আসামী এক ঘন্টা পূর্বে আটক হওয়ার পর আবারো ভিন্ন জায়গা হতে স্বল্প সময়ে কিভাবে আটক করা সম্ভব বলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।
এদিকে এলাকায় মেম্বার উপস্থিত না থাকায় ভূক্তভোগী নাছর পাড়ার মৃত উম্মত আলীর পুত্র মীর কাশেম (৭০) জানান, আমার এলাকার মেম্বার না থাকায় চরম দুঃসময়ে আমি বয়স্ক ভাতা পাচ্ছিনা।

মৃত আলী আকবরের পুত্র মোঃ হাশেম (৬৫) বলেন, এলাকার মেম্বার না থাকায় করোনায় চরম দুঃসময়ে কোন ধরনের সহায়তা পাচ্ছিনা।
মৃত অছিউর রহমানের পুত্র আব্দুস সালাম (৭৫) বলেন, এলাকার মেম্বার হাজির না থাকায় জন্ম নিবন্ধন এবং নাগরিক সনদ সংগ্রহে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।

পূর্ব মহেশখালীয়া পাড়ার মৃত ইসহাক আহমদের ছেলে আলী আহমদ জানান, মেম্বার হাজির না থাকায় বিদেশ যাওয়ার জন্য পাস্টপোর্ট তৈরী করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে পারছিনা।

জালাল আহমদের ছেলে মোস্তাক আহমদ জানান, এলাকার মেম্বার না থাকায় জমিজমা ও বসত-ভিটা বিরোধের নিষ্পত্তি করা যাচ্ছেনা।

খারাংখালী রাখাইন পল্লীর বাসিন্দা কুদিংয়ের ছেলে ছিং ছু মং স্বর্ণাকার বলেন, এলাকার মেম্বার না থাকায় ব্যবসায়িক সমস্যা এবং সংখ্যালঘু হওয়ায় নিরাপত্তা সংকটে বসবাস করছি। এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও জনসেবার স্বার্থে হোয়াইক্যং মডেল ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান এবং ৮নং ওয়ার্ড ইউপি মেম্বার জাহেদ হোছাইনের দ্রæত মুক্তির প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।

উক্ত এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘব এবং জনসেবা নিশ্চিত করতে জনপ্রিয় এই মেম্বারের দ্রæত মুক্তির জন্য মানবিক দিক বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রæত হস্তক্ষেপ কামনা কামনা করেছেন। ###