কক্সবাজার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১- বাংলাদেশ সরকার এবং মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাসমূহের সমন্বিত প্রয়াসে ৩৪টি ক্যাম্পে ৫ বছরের বেশী বয়সী সকল রোহিঙ্গা শরণার্থী সম্প্রতি ১৬ লক্ষ পুনরায় ব্যবহারযোগ্য কাপড়ের তৈরি মাস্ক পেয়েছেন। রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ২,৪৮০ জনেরও বেশি দর্জি সম্মিলিতভাবে এই পরিবেশবান্ধব মাস্ক তৈরি করেছেন যা কোভিড-১৯ এর সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পেতে মানুষকে সহযোগিতা করেছে।
”কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে এবং মারা যাচ্ছে। এই অবস্থা দূর করার জন্য আমি খুশি মনে মাস্ক বানিয়ে তাদের সহযোগিতা করছি।”- বলছিলেন রোহিঙ্গা শরণার্থী ময়না বেগম যিনি একজন দর্জির কাজ করছেন।
শরণার্থীদের মাসিক খাদ্য সহযোগিতার পাশাপাশি পুনরায় ব্যবহারযোগ্য মাস্কগুলো সরবরাহ করা হয়। এই মাস্ক তৈরির কাজটি বিশেষত খাদ্যনিরাপত্তা, লাইভলিহুড এবং স্বাস্থ্য সেক্টরে অভিজ্ঞ জাতিসংঘ সংস্থা, আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশী এনজিওদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে ।
লাইভলিহুড ওয়ার্কিং গ্রুপের সমন্বয়ক লিয়া বিউলাক বলেন- “রোহিঙ্গাদের জন্য সাড়াদান কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং শরণার্থী সম্প্রদায়ের হাজার হাজার দর্জি সেলাই এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। যা বৈশ্বিক মন্দার প্রভাবে সৃষ্ট অর্থনৈতক সমস্যা কাটিয়ে উঠতে অনেককে সহযোগিতা করেছে এবং একই সঙ্গে বিনামূল্যে নিরাপদ এই মাস্ক বিতরণের ফলে আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর জরুরি স্বাস্থ্য সেবাও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।”
সিভিল সার্জনের অনুমোদন সাপেক্ষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুসরণ করে তিন স্তরের প্রতিটি কাপড়ের মাস্ক নিঃশ্বাসের জন্য উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। পুনরায় ব্যবহারযোগ্য মাস্কের নিরাপদ ও যথাযথ ব্যবহার এবং করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সচেতনতামূলক বার্তাসমূহ শরণার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
কোভিড-১৯ মহামারীর ফলে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনে সৃষ্ট সমস্যা ও আসন্ন অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবেলায় সহযোগিতা করাই এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য। যখন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের সুযোগ সৃষ্টি হবে তখন এই দক্ষতা তাদের জীবিকানির্বাহের সুযোগ তৈরিতে সহযোগিতা করবে।
সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশে কর্মরত মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাসমূহের প্রচেষ্টায় এই উদ্যোগ মাস্ক সরবারাহের বৈশ্বিক শূন্যতা পূরণে সহযোগিতা করেছে, যা কোভিড-১৯ এর সংক্রমন প্রতিরোধে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মহামারীর ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এই উদ্যোগ অনেককে সহযোগিতা করেছে। ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে কক্সবাজারে মানবিক সহযোগিতা প্রদানকারী সংস্থাগুলো সরকার, স্থানীয় জনগণ এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহযোগিতায় ৪৮ লক্ষ মাস্ক বিতরণ করেছে। উপরন্তু, স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে আরও ৪ লক্ষ ১৫ হাজার মাস্কের একটি মজুদ আগামী বছর স্বাস্থ্য সেক্টরের কাছে হস্তান্তর করা হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যহত উদার সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশে মানবিক সহায়তা এবং কোভিড-১৯ প্রতিরোধ ও সাড়াদান কার্যক্রম সম্ভব হয়েছে।
