সেন্টমার্টিনে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে আব্দুল আজিজ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গত কাল রোববার চার জনের নাম উল্লেখ করে টেকনাফ মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
অনুসন্ধানে জানাযায়, সেন্টমার্টিন ডেইলপাড়া এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে আব্দুল আজিজ এর কাছে মাছ ব্যবসা বাবদ ২০২৪ সালে ৫১ হাজার ও চলতি বছর ১৮ হাজার সহ মোট ৬৯ হাজার টাকা পাওনা রয়েছেন সেন্টমার্টিন উত্তরপাড়া এলাকার মাছ ব্যবসায়ী নুর আহমদ। গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারী) রাত সাড়ে ৮ টার সময় নুর আহমদ তার ছেলে ওমর ফারুককে আজিজের কটেজে পাওনা টাকার জন্য পাঠালে আব্দুল আজিজ (৪২) মাহাবুবুর রহমান (১৯), হাবিব উল্লাহ (৫৫), ফাহাদ (২৫), ও আজিজের স্ত্রী সাবেকুন নাহার (২৬) মিলে মারধর করে রুমে তালাবদ্ধ করে রাখে। এসময় ফারুকের সাথে থাকা মার্টিন হাউসের আমদানি বাবদ আনুমানিক ৬০ হাজার ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার সংবাদ পেয়ে রাত ১২টার দিকে এলাকার গণ্য-মান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে আজিজের মালিকানাধিন জারা রিসোর্টের ১০১নং রুমের তালা ভেঙ্গে ওমর ফারুককে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
আব্দুল আজিজের দাবী, তার অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী ও ফারুককে কটেজের রুমে দেখতে পেয়ে বাহির থেকে তালা লাগিয়ে দেয় আজিজ। এসময় স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করা হলে ফারুক তাকে কু-প্রস্তাব দেওয়ার কথা জানায়। তাই তাকে স্ত্রীর সাথে রুমে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।
প্রতিবেশীদের প্রশ্ন, ফারুক কু-প্রস্তাব দিলে আজিজের স্ত্রী চিৎকার করে প্রতিবেশীদের সাহায্য চাইতে পারতো। ফারুক যাওয়ার আধা ঘন্টা পরে আজিজ লোক জন নিয়ে এসে রুমে তালা লাগিয়ে দেওয়ার বিষয়টি পরিকল্পিত বলে অনুমান করা যায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগেও আজিজের স্ত্রী সাবেকুন নাহারের আশ্লীল বেশ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দ্বীপে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
ভোক্তভূগী সেন্টমার্টিন উত্তরপাড়া এলাকার মাছ ব্যবসায়ী নুর আহমদ জানান, আব্দুল আজিজ পাওনা টাকা ফেরত না দিতে নাটক সাজিয়ে কতিপয় ব্যক্তিদের পরোচনায় তার স্ত্রী সাবেকুন নাহারকে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগ তুলে আমার তিন ছেলে ওমর ফারুক, আব্দুর রহমান, সাদ্দাম হোসেন ও আমার নিকট আত্মীয় আরাফাতকে আসামী করে টেকনাফ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এদিকে ঘটনার পরের দিন শনিবার (২৪ জানুয়ারী) ভোক্তভোগী ওমর ফারুকের ভাই বাদী হয়ে আব্দুল আজিজ (৪২), মাহাবুবুর রহমান (১৯), হাবিব উল্লাহ (৫৫), ফাহাদ (২৫), সাবেকুন নাহারকে (২৬) অভিযুক্ত করে সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়িতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ফারুকের ভাই আব্দুর রহমান।
অভিযোগ রয়েছে মোটা অংকের বিনিময়ে আব্দুল আজিজের সাথে আতাত করে ওই অভিযোগের বিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি পুলিশ ফাঁড়ি।
এই বিষয়ে জানতে সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ উসমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এর পরে কয়েক দফা কল করেও তার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
