বিশেষ প্রতিবেদক, টেকনাফ :
নিখোঁজ ছেলের সন্ধান এবং পূর্ব শক্রতার আক্রোসের প্রেক্ষিতে হামলায় এক অন্তসত্বা নারীসহ চার নারী গুরুতর ভাবে আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সাবরাং বেইঙ্গা পাড়ায়। এর প্রতিকার চেয়ে সাবরাং বেইঙ্গাপাড়ার নুর মোহাম্মদের স্ত্রী হাসিনা আক্তার নিজে বাদী হয়ে মোঃ ইসহাককে প্রধান আসামী করে ৯ জনের বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় মামলা রুজু করে। মামলার বিবরণীতে বাদী উল্লেখ করেন, আমার পূর্বের তালাক প্রাপ্ত স্বামীর পুত্র মোঃ ফয়সাল ১ মাস পূর্বে নিখোঁজ হয়ে যায়। তার সন্ধানে আমিসহ চার নারী গত ৯ মার্চ দুপুর ১২ টায় সাবরাং চান্দলী পাড়া হতে বেইঙ্গা পাড়া গেলে সাবেক স্বামীর বাড়ীর সামনের এক ছেলেকে নিখোঁজ পুত্রের সন্ধানে জানতে চাইলে, এখবর আসামীর বাড়ীতে পৌছে এবং পূর্বের আক্রোশের জের ধরে স্থানীয় ইসহাকের নেতৃত্বে ৭/৮ জন উশৃংখল জনতা ওদের উপর হামলা চালায়। এতে ৩ মাসের অন্তসত্বা হালিমা আক্তারসহ চার নারী গুরুত্বর ভাবে আহত হয়। আহতদের মধ্যে হাসিনা আক্তারের অবস্থা গুরুত্বর দেখে কর্তব্যরত ডাক্তার কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। অপর ৩ নারী সাদিয়া, নাছিমা ও বেড়াতে আসা ভাগিনী খতিজা বেগমকে স্থানীয় টেকনাফ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। ঐদিন দুবৃত্তের হামলায় চার নারী ঘঠনাস্থলে মুমূর্ষা অবস্থায় পুলিশ খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে। মামলার বাদী আরো উল্লেখ করেন, আসামীরা চার নারীকে হামলার সময়ে তাদের মূল্যবান ২টি মোবাইল সেট ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন এবং ঘটনার সংবাদ পেয়ে আহতের আতœীয় আতিকুর রহমানের ব্যবহৃত ২লাখ টাকার মূল্যের মোটর সাইকেলটিও ভাংচর করে। ঐ সময় আতœরক্ষার্থে সে এলাকায় চলে আসে। হামলা শেষে হামলা কারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় বলে ভবিষ্যতে মামলা করলে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। এদিকে উক্ত হামলায় আহতদের মধ্যে টেকনাফ এজাহার সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এস,এস,সি পরীক্ষা দেয়া ছাত্রী খদিজা বেগমও রয়েছে। সে ঐ সময় তার আতœীয়ের সাথে বেড়াতে গেলে সেও আক্রান্তের শিকার হয়। দায়েরকৃত মামলার অপরাপর আসামীরা হচ্ছেন, লাল মিয়ার পুত্র মোঃ ফয়সাল (২০), মোঃ কাসিম (৪০), আবুল হোসেন (৩০), মোঃ ইউসুপ (৪৫),নুর মোহাম্মদের পুত্র আব্দুস শুকুর (৩৫), মৃত আলী মিয়ার পুত্র জহীর আহমদ (৩৫), হোছন আহমদ (৩০), পদ্মা বানু (৪০), স্বামী- মোঃ ইসহাক, সর্ব সাং- সাবরাং ইউনিয়নের বেইঙ্গা পাড়া। এদিকে মামলার বাদী হাসিনা আক্তারের পক্ষে আহত ৩ নারী ১০ মার্চ রাত ৮ টায় টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ও,সি) প্রদীপ কুমার দাশের দপ্তরে মামলাটি দিতে গেলে ও’সি মৌখিক ওদের হামলার ঘটনা মনদিয়ে শুনেন। পরে ও’সি মামলাটি রেকড পূর্বক তদন্তের ব্যবস্থা, নেয়ার জন্য এস,আই সুজিতকে দায়িত্বদেন। এর পর পরই ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে তিনি একদল পুলিশ নিয়ে রওয়ানা করেন। এ চারনারী প্রকাশ্য দিবালোকে দুবৃত্তের হাতে আক্রান্ত হবার পর এলাকায় সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
