Thursday, January 20, 2022
Homeউখিয়ারোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে মালয়েশিয়ার ৩০ সদস্যের প্রতিনিধি দল : ত্রাণ বিতরণের আনুষ্ঠানিকতা...

রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে মালয়েশিয়ার ৩০ সদস্যের প্রতিনিধি দল : ত্রাণ বিতরণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

রফিক মাহমুদ, উখিয়া ॥
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য মালয়েশিয়া সরকারের প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক এর পাঠানো ত্রাণ কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং, বালুখালী ও টেকনাফ লেদা ক্যাম্পে বিতরণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। ত্রাণ বিতরণের জন্য মালয়েশিয়া সরকারের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ এর নেতৃত্বে ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সকাল ১১টায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। এসময় প্রতিনিধি দলের প্রধান আব্দুল আজিজ উপস্থিত দেশী, বিদেশী সাংবাদিকদের সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিং করেন। ব্রিফিংকালে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদেরকে আশ্রয় দেওয়া সহ নানান ধরনের সহযোগীতা করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। প্রয়োজনে আরও সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হবে বলে সফররত মালয়েশিয়া প্রতিনিধি দলের প্রধান আব্দুল আজিজ উল্লেখ করেন।
গতকাল ১৫ ফেয়ারি বুধবার সকাল ৮টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে এই ত্রাণ কক্সবাজারের উখিয়া, কুতুপালং, বালুখালী ও টেকনাফের লেদার রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে এসে পৌঁছায়। এর মধ্যে চাল, ডাল, কফি, চিনি, খাদ্যশস্য, ভোজ্য তেল, কম্বল ও চিকিৎসা সামগ্রীসহ প্রায় ৩৫ প্রকার পণ্য রয়েছে।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি ‘নটিক্যাল আলিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক হাজার ৪৭২ টন ত্রাণ নিয়ে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দরের সিসিটি জেটিতে পৌঁছালে জাহাজ থেকে ত্রাণগুলো খালাস করা হয়। এরপর রাতেই সড়ক পথে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে নিয়ে আসা হয় তা। ত্রাণ বিতরণ সমন্বয় কমিটির প্রধান ও কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাইফুল ইসলাম মজুমদার প্রতিবেদকে বলেন, ত্রাণসামগ্রীগুলো উখিয়া ও টেকনাফ খাদ্য গুদামে রাখা হয়েছে। তা আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে বিতরণ সম্পন্ন করা হবে। উক্ত ত্রাণসামগ্রীগুলো বিতরণ করবেন আওএম ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রতিধিরা। একটি তালিকা করে টিকিটের মাধ্যমে চারটি স্পটে পর্যায়ক্রমে রোহিঙ্গাদের ১৫ হাজার পরিবারের মাঝে এগুলো বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে সাড়ে পাঁচ হাজার পরিবার টেকনাফে এবং সাড়ে ৯ হাজার পরিবার উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী শরণার্থী ক্যাম্পের আশ্রিত রোহিঙ্গা।
এদিকে ত্রাণ বিতরণের জন্য দুটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে প্রধান করে জেলা পর্যায়ে একটি কমিটি এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে প্রধান করে উপজেলা পর্যায়ে অন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়।
এদিকে দুপুর ১২টার দিকে কুতুপালং ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণ শেষে বালুখালীতে ও দুপুর ২টার দিকে টেকনাফের লেদা ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণ করেন। উখিয়া কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে ৫০ পরিবার, বালুখালীতে ৫০ পরিবার ও টেকনাফের লেদা ক্যাম্প ৫০ পরিবারের প্রধান এর মাঝে ত্রাণগুলো বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন ত্রাণ বিতরণ সমন্বয় কমিটির প্রধান কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাইফুল ইসলাম মজুমদার, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাঈন উদ্দিন সহ আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম), রেড ক্রিসেন্ট এর প্রতিনিধিরা। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা আরকান রাজ্যে সে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সীমান্ত পুলিশের ১২ সদস্য নিহত হয়। ওই হামলার জন্য রোহিঙ্গা মুসলমানদের দায়ী করে আসছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। এরপর থেকে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এর হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজারের অধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments