শামীম ইকবাল চৌধুরী : নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে ভূখন্ড। ওই ভূখন্ড থেকে মাস ধরে বেশ কয়েক দফা গুলাগুলি শব্দ আর গোলা নিক্ষেপ, সীমান্ত ঘেঁষে হেলিকপ্টার ও যুদ্ধ বিমান সীমানা অতিক্রম করার ঘটনায় তুমব্রু সীমান্তের লোকজনের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গত রোববার, সোমবার(১৮-১৯ সেপ্টেম্বর) মিয়ানমার সীমান্তে গুলাগুলির শব্দ শুনা গেছে। এর আগেও (১৬ সেপ্টেম্বর) শুক্রবার তুমব্রু সীমান্তের কোনার পাড়া এলাকায় সীমান্তে মিয়ানমার থেকে ছোঁড়া একটি মর্টরশেল রোহিঙ্গা বসবাসরত নোম্যান্সল্যান্ডে এসে পড়ে বিস্ফোরিত হয়। সেই বিষ্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবক ইকবাল নিহত ও পাঁচজন আহত হন।এ ঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
একটি সূত্রে মতে জানাযায়, এসব বিষয়ে কড়া প্রতিবাদ জানাতে রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত অং কিউ মোয়েকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মিয়ানমার অনুবিভাগের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক নাজমুল হুদার দপ্তরে তলব করা হয়।প্রায় আধঘন্টা বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলাপে বলা হয়, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইনে শান্তিপূর্ণ সহায়ক পরিবেশ প্রয়োজন। কিন্তু সে খানকার গোলযোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গারা ফেরত যেতে রাজি হবে না।
আর এদিকে স্থানীয়রা জানান, ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্তের কোনার পাড়া নোম্যান্সল্যান্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গা আশ্রয় কেন্দ্রের পাশে কোনাকখাল এলাকায় ফের তিনটি মর্টারশেলের গোলা এসে পড়েছিল গত ১৬ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) রাত ৮টায়।সীমান্তের এপারে এসে পড়েছিল ভারী অস্ত্রের গুলিও। ওই রাতে সীমান্ত এলাকার মিয়ানমারের আকাশে বিমান ও হেলিকপ্টার টহল দিতে দেখা গেছে। মর্টরশেল বিস্ফোরিত হয়ে রোহিঙ্গা শিশুসহ চারজন আহত হয়।আহতদের মধ্যে গুরুতর মো: ইকবাল সামে এক রোহিঙ্গা যুবকের মৃত্যু হয়। আহতদের অবস্থাও গুরুতর। তারা কক্সবাজার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক নোম্যান্সল্যান্ডে বসবাসরত একজন রোহিঙ্গা নেতা জানান, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মর্টরশেলের গোলা নিক্ষেপের প্রতিবাদ ও যুবক রোহিঙ্গা ইকবাল হত্যার বিচার দাবী করে নোম্যান্সল্যান্ডের বসবাসরত রোহিঙ্গাদের মানববন্ধন। তিনি আরও জানান সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্তের বিপরীতে নোম্যান্সল্যান্ডের মিয়ানমার সেনাবাহিনী মর্টারের গোলা নিক্ষেপের প্রতীবাদ ও যুবক ইকবাল হত্যার বিচার দাবীতে শূন্যরেখার আশ্রয়শিবিরের অভ্যন্তরে মানববন্ধন কর্মসূচীর আয়োজন করে রোহিঙ্গারা। আশ্রয়শিবির প্রতিষ্ঠার ৫ বছরে এই প্রথম রোহিঙ্গারা শূন্যরেখায় মানববন্ধনের আয়োজন করে। মানববন্ধনে ইংরেজিতে লেখা ব্যানার-পোষ্টার প্রদর্শন করা হয়। প্রাপ্ত বয়স্কদের পাশাপাশি শিশুরা মানববন্ধনে অংশ নেয়। এসময় মানববন্ধন অংশকারীদের মাঝে বক্তব্য দেন আশ্রয়শিবিরের ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান দিল মোহাম্মদ, রোহিঙ্গা নেতা কামাল আহাম্মদ, আরেফ আহাম্মদ, আব্দু রহিম প্রমূখ।
মানববন্ধে রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, তাদের আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করে৷ তারা আরও বলেন, মাসখানেক আগের শুরুর দিকে মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে দেশটির বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) গুলাগুলি-সংঘর্ষ শুরু হলেও এখন তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী পুলিশ (বিজিপি) একতরফা ভাবে গুলাগুলি করেছে।থেমে থেমে আর্টিলারি, মর্টরশেলের গোলা ছুড়ে পরিস্থিতি অশাস্ত করেছে। তাতে শূন্যরেখার আশ্রয়শিবিরের ৫ হাজারের কাছাকাছি রোহিঙ্গারা আতঙ্কে। সকাল-বিকাল, রাত-বিরেতে যখন-তখন গুলাগুলি ও মর্টরশেলের গোলা নিক্ষেপের ঘটনায় নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে।
আশ্রয়শিবিরের ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান দিল মোহাম্মদ জানান, মাসখানেক আগের অর্থাৎ ২৮ আগষ্টের শুরুর দিকে মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে দেশটির বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) গুলাগুলি-সংঘর্ষ শুরু হলেও এখন তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী পুলিশ (বিজিপি) একতরফা ভাবে গুলাগুলি করেছে।থেমে থেমে আর্টিলারি, মর্টরশেলের গোলা ছুড়ে পরিস্থিতি অশাস্ত করেছে। তাতে শূন্যরেখার আশ্রয়শিবিরের ৫ হাজারের কাছাকাছি রোহিঙ্গারা আতঙ্কে। সকাল-বিকাল, রাত-বিরেতে, যখন-তখন গুলাগুলি ও মর্টরশেলের গোলা নিক্ষেপ আর সীমান্ত বরাবর আকাশে যুদ্ধের মতো বিমান, হেলিকপ্টার সীমারেখা অতিক্রমের ঘটনায় নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে।
তিনি জানান, তুমব্রু সীমান্তের বিপরীতে শূন্যরেখার আশ্রয়শিবিরে ৫ বছর ধরে বসবাস করছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে থেকে বিতাড়িত ৫ হাজার জনের কাছাকাছি রোহিঙ্গা।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ আগষ্ট বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম এলাকার জনবসতিতে দুইটি মর্টারশেলের গোলা এসে পড়ে।এতে কেউ হতাহত না হলেও সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই থেমে থেমে গুলাগুলি শব্দ শোনা যায়। এর মধ্যে দুইটি যুদ্ধ বিমান ও দুইটি ফাইটিং হেলিকপ্টার থেকেও গোলা নিক্ষেপ করে দেশটি।এদিকে, ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যান্তরে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে আহত হন উইনু থোয়াইং তঞ্চঙ্গ্যা (২২) নামে এক তরুণ। এরপর রাত ৮টার দিকে মিয়ানমার থেকে ছোঁড়া একটি মর্টারশেল এসে পড়ে সীমান্তের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে। নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের কোনার পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। ঝুকিপূর্ণ পরিবারদের প্রাথমিক ভাবে তালিকা হচ্ছে।
