‘রাস্তায় নেমেছি, ফয়সালা হবে রাজপথে’-আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ২ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : ভয়ভীতি উপেক্ষা করে জনগণ বর্তমান সরকারের পতন ঘটাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের হাতে এখন একটাই অস্ত্র আছে- তা হলো ভয়ভীতি দেখিয়ে ক্ষমতা দখলে রাখা। বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন ভয়ের ঊর্ধ্বে। তারা জীবনের চিন্তা করে না। মৃত্যুর ভয় নেই তাদের। বুলেট, লাঠি, অস্ত্র আসুক সামনে এগিয়ে যাবে। রাস্তায় নেমে গেছি, ফয়সালা হবে রাজপথে। হয় জীবন দিয়ে যাব, নয়ত বেঁচে থাকলে দেশকে মুক্ত করে ছাড়ব। এই সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাব না।’

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর ধোলাইখালের কাজী কমিউনিটির সামনে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া, ওয়ারী, কোতয়ালী ও বংশাল থানা বিএনপির যৌথ উদ্যোগে ‘বিদ্যুতের নজিরবিহীন লোডশেডিং, জ্বালানি তেলসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, গণপরিবহণের ভাড়া বৃদ্ধি এবং ভোলা ও নারায়ণগঞ্জে তিন নেতাকে হত্যার প্রতিবাদে’ এই সমাবেশ হয়।

আমীর খসরু বলেন, ‘পুলিশের আচরণ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। তাই পালিয়ে গিয়ে রক্ষা পাবেন না। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আপনাদের বিচার হবে। আওয়ামী পুলিশদের এখনো সময় আছে, নয়ত আন্তর্জাতিক আদালতেও বিচার হবে। বিদেশিদের চিন্তা করার দরকার নেই। বাংলাদেশ সম্পর্কে তারা জানে। এই দেশে মানবাধিকার নেই, বাক স্বাধীনতা নেই, ভোটের অধিকার নেই। এটা বিশ্ববাসীর কাছে এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।’

তিনি বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের মানুষ জেগেছে। তারা শপথ নিয়েছে এ দখলদার, স্বৈরাচার ও অবৈধ অনির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার। গুলি আসুক, লাঠি আসুক, কেউ পেছনে ফিরে যাব না। সামনের দিকে এগিয়ে যাব। বাংলাদেশের আত্মাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে সেই বাংলাদেশকে ফেরত আনতে হবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, ‘এদেশে চরম দুর্নীতি হচ্ছে। মানবাধিকার বলতে কিছু নেই, নির্বাচন ব্যবস্থা বলে কিছু নেই। আইনের শাসন নেই, জনগণের নিরাপত্তা নেই। এ বিষয়গুলো সারাবিশ্বে পরিষ্কার হয়ে গেছে। সেই কারণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পুলিশের আক্রমণের প্রতিবাদ করে বৃহস্পতিবারও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বক্তব্য দিয়েছে।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, চেয়াপরসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্স, গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক প্রমুখ।