নিজস্ব প্রতিবেদক : অবশেষে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে নুর খাতুন পেয়েছে মাথাগোঁজার ঠাঁই। বাংলাদেশ পুলিশ মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে সারাদেশ ব্যাপী প্রতি উপজেলায় ভুমিহীন ও হতদরিদ্রদের মাথাগোঁজার ঠাঁই হিসেবে দিচ্ছেন একটি করে সেমিপাঁকা ঘর। পুলিশের আন্তরিকতায় মাথাগোঁজার ঠাঁই হয়েছে নুর খাতুনের। পেয়েছে স্থায়ী ঠিকানা ।
নুর খাতুন। বয়স প্রায় ৫০। তিন ছেলে সন্তানের জন্মের পর স্বামী ছৈয়দ নুর চলে যান। এরপর থেকে নুর খাতুন খুব কষ্ট করে বড় করে তুলেন সন্তানদের। এরমধ্যে এক সন্তান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করার সুযোগ পান। মা ও অন্য দুই সন্তান দিনমজুরের কাজ করে কোন রকম সংসার চালাচ্ছে। কোনরকম খেতে-পড়তে পারলোও, ছিলো না কোন মাথাগোঁজার ঠাঁই।
কক্সবাজারের চকরিয়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় নুর খাতুনের ঠাঁই হয়েছে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের পহরচাঁদা এলাকায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি এসব ঘরের উদ্ধোধন করেন। বৃহস্পতিবার বিকালে নুর খাতুনকে আনুষ্টানিকভাবে ঘরে চাবি তুলে দেন চকরিয়া-পেকুয়া সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) মো.তফিকুল আলম।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী, থানার অপারেশন অফিসার এসআই রাজিব সরকার, পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোজাম্মেলসহ থানার অপরাপর কর্মকর্তারা।
চকরিয়া থানার অপারেশন অফিসার (এসআই) রাজিব সরকার বলেন, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় হতদরিদ্র ও ভুমিহীন একটি পরিবারকে ঘর দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশের আইজিপি স্যার মো.বেনজীর আহমদ। এরই অংশ হিসেবে চকরিয়ার হতদরিদ্র ও ভুমিহীন নুর খাতুনকে সেমিপাঁকা ঘর নির্মাণ শেষে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো.মোজাম্মেল উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের পহরচাঁদা গ্রামে তার নিজস্ব সাড়ে ৩ শতক জমি নুর খাতুনের নামে দান করেন। পরবর্তীতে চকরিয়া থানা পুলিশ ওই জমিতে ৩ রুম বিশিষ্ট একটি সেমিপাঁকা ঘর নির্মাণ করে দেন। যার অর্থায়ন করেছেন বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগ।
মুজিব বর্ষের নতুন ঘর পেয়ে আবেগে আপ্লাত হয়ে পড়েন নুর খাতুন। তিনি এসময় বলেন, স্বামীর ঘরে গিয়ে সুখে থাকবো এই আশা নিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলাম। তিন সন্তান জন্মের পর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে চলে যান। অনেক দু:খ-কষ্ট ও মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে কোন রকমে তিন ছেলেকে বড় করেছি। আমার তিন ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে খুব মেধাবী ছিলো। ছোট ছেলে পড়াশোনা যাতে চালিয়ে যেতে পারে সেজন্য আমার আর দুই সন্তানও খুব কষ্ট করেছে।
তিনি আরও বলেন, কোন রকম সংসার চলতো। কিন্তু ছেলেদের দিয়ে যাওয়ার মতো কোন জমিজমা ছিলোনা ! ছিলোনা কোন স্থায়ী নিবাস। অবশেষে সেই মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু পেয়েছি পুলিশের সহযোগিতায়। পুলিশ যে চোর-ডাকাত দৌঁড়ানোর পাশাপাশি মানবিক কাজও করেন তা আজকে দেখলাম। আলাহর কাছে প্রার্থনা পুলিশ যেন আরও ভালো কাজ করে।
চকরিয়া থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশ পুলিশের মাননীয় আইজিপি স্যার বেনজীর আহমদ হতদরিদ্র ও ভুমিহীন পরিবারের মাঝে প্রতি উপজেলায় একটি করে সেমিপাঁকা ঘর দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
আমরা অনেকের মধ্যে থেকে নুর খাতুনকে বেছে নিই। তিনি আগে উপজেলার হারবাং ইউনিয়নে বনভুমির জমিতে বসবাস করতো। তিনি স্বামী পরিত্যক্ত একজন নারী। তাছাড়া তার এক ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত। সবকিছু বিবেচনা করে নুর খাতুনের হাতে মুজিববর্ষে পুলিশের পক্ষ থেকে ঘরটি উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছে।##
