মিয়ানমারে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে জান্তা : হারিয়েছে ১৫৪টি ঘাঁটি : ৪৪৭ সেনা আত্মসমর্পণ

: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

অনলাইন ডেস্ক |
মিয়ানমারে ক্ষমতাসীন জান্তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছে তিন বিদ্রোহীগোষ্ঠী। ক্ষমতা দখলে শুরু হয়েছে ‘অপারেশন-১০২৭’। সংঘবদ্ধ সশস্ত্রগোষ্ঠী ‘ব্রাদারহুড অ্যালিয়েন্স’র হাতে ইতোমধ্যেই ১৫৪টি ঘাঁটি হারিয়েছে জান্তা সরকার।

বিভিন্ন রাজ্যে ৪৪৭ সেনা আত্মসমর্পণ করেছেন। ফলে মিয়ানমারে একে একে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন ক্ষমতাসীনরা। সশস্ত্র সেসব বাহিনীর সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন বেসামরিক নাগরিকরাও। তাদের জোর সমর্থনে আরও পাকাপোক্ত হচ্ছে জান্তাবিরোধী অভিযান।

উদ্দেশ্য আরও দ্রুত সফল হওয়ার জন্য গ্রামীণ বাসিন্দারাও যুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন। সোমবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইরাবতির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।

জান্তাবিরোধী মিশনে সংঘবদ্ধ বিদ্রোহীগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রয়েছে আরকান আর্মি (এএ), মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালিয়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ) এবং তাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (এনএলএ)। দেশটির শান, কায়াহ, চীন, রাখাইন, মন রাজ্য এবং সাগাইং ও মাগওয়ে অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দারাও এতে বেশ উচ্ছ্বসিত।

এমনকি তারা যত দ্রুত সম্ভব শহরগুলোতে অভিযান চালানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। ইয়াঙ্গুনের বাসিন্দা থাজিন বলেন, তিনি উত্তরাঞ্চলীয় শান রাজ্য এবং অন্যান্য রাজ্যে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প দখল করে আনন্দিত। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ওপর হামলা ইয়াঙ্গুন পর্যন্ত গেলে আরও ভালো হবে।

এই বাসিন্দা আরও বলেন, গ্রামের মানুষ তাদের জীবন বিসর্জন দিয়ে স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করছে। আমি চাই শহরের মানুষও জানুক, গ্রামের মানুষ কেমন অনুভব করে। আমি সমতা চাই। প্রতিরোধের হামলা এরই মধ্যে সাগাইং অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে।

মান্দালেতে বসবাসকারী কো মিন লুইন বলেন, শহরগুলো জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নিলে বিপ্লব আরও শক্তিশালী হবে। তিনি বলেন, আমি চাই যুদ্ধটি ইয়াঙ্গুন, মান্দাল এবং নেপিদোর মতো বড় শহরে ছড়িয়ে পড়ুক। এতে জনগণ আরও অনুপ্রাণিত হবে। সামরিক শাসনের অধীনে শহরের মানুষও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।

ইয়াঙ্গুনের বাসিন্দা মা ওয়াথান বলেন, পরবর্তী প্রজন্ম যাতে ভালো পরিস্থিতিতে বাস করতে পারে, সে জন্য স্বৈরতন্ত্রকে নির্মূল করতে হবে। তিনি বলেন, যদি আমরা যুদ্ধে মারা যাই, কিন্তু যারা বেঁচে থাকবে, তারা শান্তিতে থাকতে পারবে।

ইয়াঙ্গুনের এক বাসিন্দা বলেন, স্বৈরাচারকে পরাস্ত করতে দেশব্যাপী বিপ্লবের প্রয়োজন হলেম তা সফল না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে রণাঙ্গনে থাকতে হবে।’

অন্যদিকে জান্তাবিরোধী আরও একটি গোষ্ঠীর কাছেও নাকানিচুবানি খাচ্ছেন মিয়ানমারের সেনারা। ‘অপারেশন-১১১১’ নামে সেই যুদ্ধটি চালাচ্ছে কারেনি ন্যাশনালিটিজ ডিফেন্স ফোর্সের (কেএনডিএফ) নামে একটি বাহিনী।

মিয়ামারের কায়াহ রাজ্যের রাজধানী লোইকাউতে জান্তা নিধনে এ প্রতিরোধ অভিযান চালাচ্ছেন তারা। বুধবার পর্যন্ত গত ১০ দিনের এ সংঘর্ষে ২০০ জনেরও বেশি সেনা নিহত হয়েছেন।

উলটোদিকে কেএনডিএফ বাহিনীর নিহত হয়েছেন মাত্র ৪৫ জন সদস্য। বাহিনীপ্রধান খুন বেদু বলেন, লোইকাওতে প্রতিদিন সংঘর্ষ হয়, জান্তা বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এখন পর্যন্ত আমরা ২০০টিরও বেশি অ্যাসল্ট রাইফেল এবং ভারী অস্ত্র জব্দ করেছি।