মিয়ানমারে নিমার্ণ সামগ্রী পাচার সংক্রান্ত বিষয় ও মামলা নিয়ে সেন্টমার্টিনের নারী ইউপি সদস্য মাহফুজা আক্তারের বক্তব্য প্রতিবাদ এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি।

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

বার্তা পরিবেশক : সেন্টমার্টিনের পর্যটন তথ্য ও অভিযোগ কেন্দ্রের জন্য বরাদ্দ নিমার্ণ সামগ্রীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনওর অনুমতিপত্র জালিয়াতি করে মিয়ানমারে নিমার্ণ সামগ্রী পাচার সংক্রান্ত ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ এবং এ বিষয়ে দায়ের করা মামলা নিয়ে সেন্টমার্টিনের নারী ইউপি সদস্য মাহফুজা আক্তার তাঁর বক্তব্য প্রদান করেছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবাদ জানিয়ে এ ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

নারী ইউপি সদস্য মাহফুজা আক্তার তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা হওয়ায় যেখানে স্থাপনা নিমার্ণ নিষিদ্ধ রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনের কোন নিমার্ণ সামগ্রী নৌ রুটে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনওর অনুমতিপত্র সংগ্রহের আইনগত বিধি রয়েছে। সেন্টমার্টিনে রয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের একটি পর্যটন তথ্য ও অভিযোগ কেন্দ্র। জেলা প্রশাসকের নিয়োগকৃত কর্মচারি আসেকুর রহমান এই কেন্দ্রটির ইনচার্জ। কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন তিনি নিজেই। দূযোর্গপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পর্যটন তথ্য ও অভিযোগ কেন্দ্রটি ভেঙ্গে গেলে মেরামতের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সম্প্রতি টেকনাফের ইউএনও সেন্টমার্টিনে যান। যেখানে ভেঙ্গে যাওয়া কেন্দ্রটি দেখিয়ে এটি সংস্কারের দাবি জানান তিনি। এর প্রেক্ষিতে ইউনিয়ন পরিষদের অনুকুলে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ টিআর প্রকল্পের অধিনে পর্যটন তথ্য ও অভিযোগ কেন্দ্র মেরামতের জন্য বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ওই বরাদ্দের অনুকুলে ইউএনও কেন্দ্রের ইনচার্জ আসেকুর রহমানকে কিছু নিমার্ণ সামগ্রী সেন্টমার্টিনে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি প্রদান করেন। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে গত ২৮ এপ্রিল ইউএনও শেখ এহসান উদ্দিন অনুমতিপত্রটি প্রদান করেন। যেখানে ৯ বাইন টিন, ৭০ ফুট কাঠ, ২০ ব্যাগ সিমেন্ট, ৩০ কার্টুন টাইলস এবং ৩০০ ফুট বালি দ্বীপে নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়। যার স্মারক নম্বরটি হল : ০৫.২০.২২৯০.০০০.০৯.১৪.২৫.৮১৭। কিন্তু গত ৩০ এপ্রিল টেকনাফের ঘাট থেকে যে ট্রলারটি নিমার্ণ সামগ্রী বোঝাই করে মিয়ানমারে পাচার করে সেখানে যে অনুমতিপত্রটি দেখানো হয়েছে ওটা ০৫.২০.২২৯০.০০০.০৯.১৪.২৫.৮১৭ নম্বর স্মারকের নাম।

প্রকৃত পক্ষে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পর্যটন তথ্য ও অভিযোগ কেন্দ্রের ০৫.২০.২২৯০.০০০.০৯.১৪.২৫.৮১৭ নম্বর স্মারকের অনুমতি পত্রটি আদলে একটি পত্র ভূঁয়া বা জালিয়াতি করেছে। যেখানে স্মারকটি সকল নম্বর ঠিক রেখে থেকে দুইটি অংক পরিবর্তন করা হয়েছে। যেখানে ৮১৭ স্থলে রয়েছে ৮১৬। আর সামগ্রীর তালিকায় ৯ বাইন টিন, ৭০ ফুট কাঠ, ৩০ কার্টুন টাইলস এবং ৩০০ ফুট বালি পরিবর্তন করা না হলেও সিমেন্ট ২০ ব্যাগের স্থানে ৪০০ ব্যাগ লেখা হয়েছে।

মাহফুজা আক্তার বলেন, টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী পাড়ার আলম মাঝির ঘাট থেকে জালিয়াতি করা কাগজটি অনুবলে আকতার কামাল মেম্বারের কথায় তারই ম্যানেজার কেফায়েত উল্লাহর উপস্থিতিতে মোহাম্মদ আলমের মালিকাধিন ট্রলারে এসব সামগ্রী বোঝাই করা হয়। এটা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ আকারে প্রকাশিতও হয়েছে।

এ ঘটনার সাথে মাহফুজা আক্তার কোনভাবে জড়িত নন উল্লেখ করে বলেছেন, প্রকাশিত সংবাদের কারণে আমার মানহানিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কারা এমন জালিয়াতি করে পাচারের মতো অপরাধ করেছেন তা সংবাদে উঠে এসেছে। সাংবাদিকবৃন্দ আরও সুষ্ঠু তদন্ত করলে প্রকৃত জড়িতের শনাক্ত করা সহজ হবে। এর মধ্যে আমাকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন নানা করার অনুরোধ জানাই। ইতিমধ্যে আমি কোনভাবেই জড়িত না থাকলেও প্রশাসনের দায়ের করা মামলার আসামি হয়েছি। এতে হয়রানীর শিকার হচ্ছি। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্যও আকুল আবেদন জানাচ্ছি।##