মাসের শেষে বাড়বে শীতের তীব্রতা

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : ডিসেম্বরের শেষ দিকে কমতে থাকবে রাতের তাপমাত্রা। সেই সঙ্গে প্রকৃতিতে বইবে শৈত্যপ্রবাহ। তাই এ মাসের শেষদিকে হাড় কাঁপানো শীত নামার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ ওই সময় বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়ে তা নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এছাড়া জানুয়ারিতে দেশে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে জানালেন আবহাওয়া সদর দপ্তরের জলবায়ু মহাশাখার উপপরিচালক আবদুর রহমান।
এবারে শীতের প্রকোপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ডিসেম্বরের শেষ থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত শীত বাড়তে থাকবে। এসময় ঘন কুয়াশারও দেখা মিলবে। প্রকৃতিতে বইবে শৈত্যপ্রবাহ। তবে ডিসেম্বর অপেক্ষা জানুয়ারির শৈত্যপ্রবাহ আরো তীব্র হবে বলে জানালেন এই আবহাওয়াবিদ।
জলবায়ুর পরিবর্তন কতটা প্রভাব ফেলবে এই শীতে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ুর পরিবর্তন হলেও তার তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি এই শীতে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে আমাদের দেশে শীত এখনো তার স্বাভাবিক রূপেই বিরাজ করছে।
এদিকে, আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ডিসেম্বরে সারাদেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ মাসের প্রথমার্ধে রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক অপেক্ষা বেশি থাকলেও মাসের শেষার্ধে রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক অপেক্ষা কম থাকতে পারে। এছাড়া মাসের শেষার্ধে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে এক থেকে দুটি মৃদু (৮-১০ ডিগ্রি সে.) অথবা মাঝারি (৬-৮ ডিগ্রি সে.) শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
এ মাসে শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের উত্তরাঞ্চল ও নদ-নদী অববাহিকায় মাঝারি অথবা ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা অথবা মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। তবে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোতে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এছাড়া জানুয়ারিতে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল এবং মধ্যাঞ্চলে একটি তীব্র ধরনের (৪-৬ ডিগ্রি সে.) শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে।
এদিকে ডিসেম্বরে সারাদেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও নভেম্বরে স্বাভাবিক অপেক্ষা কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।
নভেম্বর মাসের আবহাওয়া বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৯ নভেম্বর দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়, যার বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এটি ১৪ নভেম্বর পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়।
১৫ নভেম্বর এটি পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় নিম্নচাপে পরিণত হয়।
এরপর নিম্নচাপটি প্রথমে উত্তর, উত্তর-পূর্ব দিকে এবং পরে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে ১৭ নভেম্বর উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়। সুস্পষ্ট এ লঘুচাপ পরদিন অর্থাৎ ১৮ নভেম্বর উত্তর বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপে রূপ নেয় এবং পরে গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে।