হুমায়ূন রশিদ : মায়ানমার সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং মায়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ ব্র্যাঞ্চ (বিজিপি)’র মধ্যে ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত বৈঠকে সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান দমন, অবৈধ অনুপ্রবেশরোধ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাসহ উভয় দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার হয়। আলোচনা শেষে মায়ানমার কারাগারে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাভোগ শেষ হওয়া বাংলাদেশী ২৯জন নাগরিককে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
৩ অক্টোবর সকাল মায়ানমার অভ্যন্তরে মন্ডু এক্সজিট পয়েন্টে পতাকা বৈঠকে ১৫জন সদস্যবিশিষ্ট বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ মহিউদ্দীন আহমেদ (বিজিবিএমএস) এবং মায়ানমার ১১জন সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিজিপি’র ১১ (এগারো) সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পিইন ফিউ ১নং বিজিপির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল ইয়ে ওয়াই শো। প্রায় আড়াই ঘন্টাব্যাপী চলা উক্ত পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এছাড়াও উভয় দেশের পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, উত্তরোত্তর উন্নতি এবং সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য উভয় দেশের প্রতিনিধি দল মতামত ব্যক্ত করেন।
পতাকা বৈঠক শেষে বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমার সীমান্তে আটক হয়ে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাভোগ শেষ হওয়া ব্যক্তিরা হল কক্সবাজার বড় মহেশখালী ধোপা পাড়ার আনসারুল হকের পুত্র শাকের উল্লাহ (২৮), কামাল পাশার পুত্র এখলাছ মিয়া (২৬), মহেশখালী মুন্সীর ডেইল আবুল কালামের পুত্র শফি আলম (২৫), হোছন আহমদের পুত্র পারভেজ (২৪), রহমত উল্লাহর পুত্র মিজানুর রহমান (১৮), লম্বাঘোনা আদর্শ গ্রামের আলতাজ হোসেনের পুত্র মোবারক মিয়া (২৪), মোঃ আব্দুর রহিমের পুত্র মোঃ মহিউদ্দীন (২২),দবঙ্গ পাড়ার আব্দুস শুক্কুরের পুত্র ছালামত উল্লাহ (১৭), পানি ছড়ার আব্দুল হকের পুত্র গিয়াস উদ্দিন (২২), দবঙ্গ পাড়ার আব্দুস সামাদের পুত্র রাকিবুল হাসান রাকিব (২২), সিপাই পাড়ার মোহাম্মদ শফির পুত্র জাহাঙ্গীর আলম (৩৫), লম্বাঘোনা আর্দশ গ্রামের নেজাউল করিমের পুত্র মোবারক উদ্দিন (১৮), গোরক ঘাটা বড় রাখাইন পাড়ার ইউহ্লা থোং চিং এর পুত্র মং থিন (৪২), বান্দরবানের লামা ত্রিসদোয়াইব পাড়ার ইউ থো চিং এর পুত্র থার থোং হ্লা (৩৬), বান্দরবান সদরের কিউআবুক পাড়ার মং চিং মারমার পুত্র চিং থোয়ে মং মামরা (৩২), ইউ আরি মংয়ের পুত্র থুই চিং প্রæ (২৩), রাঙ্গামাটি কাউখালীর কালা কাজী পাড়ার ইউ হ্লা থোং পিউ এর পুত্র ইয়ং ছা থোই মারমা (২৬), দাবুনিয়া ছড়ার আর পিউ চিং এর পুত্র ইউ থান ওয়ারা ওরফে স্যার থো ইউসি চিং (৩৪), কমলপতি এলাকার নিজপাড়া গ্রামের সুইবাই অং মারমার পুত্র থান হ্লা চিং ওরফে ইউসি চিং (৩০), উখিয়া ইনানীর মাদাবুনিয়ার নুরুল আলমের পুত্র মোঃ শাহেদ (১৮), আব্দুল গফুরের পুত্র মোঃ তারেক (১৮), বশির আহমদের পুত্র মোঃ সাবের, টেকনাফ নাইট্যং পাড়ার শামসুল আলমের পুত্র মোঃ ইরফান (২২), নুর হোসাইনের পুত্র মোঃ ইলিয়াছ (১৯), মোঃ সালামের পুত্র জহির আহমদে (৩১), জালিয়া পাড়ার মোঃ ইব্রাহীমের পুত্র আব্দুল আজিজ (২১), মোঃ তৈয়ব(৩২), হ্নীলা দক্ষিণ লেদার হায়দার আলীর পুত্র আবু ছিদ্দিক (২৭) এবং নুর ইসলামের পুত্র রুবেল (২০) কে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নিকট হস্তান্তর করে। পতাকা বৈঠক ও বাংলাদেশী ২৯জন নাগরিক হস্তান্তর ও গ্রহণ শেষে পারস্পরিক বিদায়ী শুভেচ্ছা জ্ঞাপনের পর বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল দেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে।
দুপুরে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ফিরে এসে টেকনাফ ট্রানজিট ঘাটে আনুষ্ঠঅনিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মায়ানমারে পতাকা বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ মহিউদ্দীন আহমেদ (বিজিবিএমএস)। তিনি আরো জানান, এরপর মায়ানমার হতে ফেরত আনা ২৯জন বাংলাদেশী নাগরিককে পরিবারের নিকট সোর্পদ করার জন্য টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য,মায়ানমার কারাগারে কারাভোগ শেষে ২৯জনকে যথাযথ কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিজিবি এবং বাংলাদেশ কনস্যুলেট এর দীর্ঘদিন প্রচেষ্টার ফলে মায়ানমার কারাগার হতে মুক্তি পেয়ে ২৯জন বাংলাদেশী নাগরিককে দেশে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। ###
