বিদ্যুৎ খাতে উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ; টেকনাফে ৫৬ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago

মোহাম্মদ শফি : বর্তমানে বিদ্যুৎ হচ্ছে সকল উন্নয়নের চালিকা শক্তি। তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন দৌরগোড়ায় পৌঁছাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ খাতকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালে ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা টেকনাফে শুভ উদ্ভোধন করেন। এরপর হতে টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল দপ্তরটি প্রতি ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌছে দিয়ে গ্রাহকদের নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। যা অতীতের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের নবনিযুক্ত ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডি.জি.এম) ২০১৯ সালে ৪ এপ্রিল এ দপ্তরে যোগদানের পর বিদ্যুৎ উন্নয়নে আমুল পরিবর্তন ঘটিয়েছে। অতীতে ১৫ মেগওয়ার্টের বিপরীত গ্রাহক ছিল ৩০ হাজার এবং প্রধনমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বর্তমানে টেকনাফ ও লেদা সাব ষ্টেশনে ৪০ মেগওয়ার্টের বিপরীত উন্নীত হয়ে ৫৬ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। শতভাগ বিদ্যুতায়িত বিপ্লব ঘটিয়ে টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল দপ্তরটি গ্রাহকদের সুনাম অর্জন করে যাচ্ছেন। চৌকষ পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা আবুল মুমিত চৌধুরী এ দপ্তরে জনবল সংকট এবং নানা সমস্যা ও চ্যালেঞ্জকে বাস্তবে পরিণত করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গ্রাহকদের কাছে প্রশংসিত হয়েছেন। অতীতে গ্রহকেরা যে হারে বিদ্যুৎ লোডশেডিং এর যন্ত্রনায় থাকতো ; বর্তমানে নেই বললেই চলে। টেকনাফ পৌরসভাসহ হোয়াইক্যং, হ্নীলা, বাহারছড়া, টেকনাফ ও সাবরাং ৬ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ এর আলো পৌঁছে গেছে। পাল্টে যাচ্ছে উন্নয়নের চেহারা। এ সাফল্য অর্জনের নেপথ্যে ভোল্টেজ বৃদ্ধির জন্য ৬টি রেগুলেটর স্থাপন করে ভোল্টেজ বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া টেকনাফ কক্সবাজার দূএত্বর কারণে বর্ষার মৌসমে বিদ্যুৎ সমস্যা দেখা দেয়। এই সমস্যা দুর করতে উখিয়া টেকনাফের মধ্যখানে গ্রীড স্থাপন করলে এই সমস্য চিরতরে লাঘব হবে। শতভাগ বিদ্যুতায়িতের পর টেকনাফে দেশী ও বিদেশী পর্যটকের আগমন এবং অবস্থান অতীতের তুলনায় অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে স্থানীয় কর্মরত সংবাদ কর্মীরা ও বিদ্যুৎ সুবিধা পেয়ে সংবাাদ পরিবেশনে স্বাধীনভাবে কাজ করছে।

স্থানীয় আবুল কালাম, ছালেহ আহমদ, জিয়াউল হক, নাছির উদ্দীন, নুর মোহাম্মদ ও সিরাজ নামে কয়েজন গ্রাহক জানায়, বিদ্যুৎ উন্নয়ন এবং চাহিদা মোতাবেক বিদ্যুৎ পেয়ে আমরা লোডশেডিং এর যন্ত্রনা থেকে পরিত্রাণ পেয়েছি। এভাবে বিদ্যুৎ চলমান থাকলে দেশ ও জাতির ভাগ্যের চেহারা পাল্টে যাবে।

টেকনাফ উপজেলা আঃ লীগের সভাপতি ও সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, এটি বর্তমান সরকারের কৃতিত্ব। প্রধানমন্ত্রী কথা ও কাজের সাথে বিশ্বাসী এবং তিনি জনগণকে কথা দিয়ে বাস্তবে পরিণত করেছেন।

পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল দপ্তরে বিভিন্ন পদে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে দিবা নিশি গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সেবা দিয়ে যাচ্ছে। । টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে অতীত এবং বর্তমানে যে, কজন ডিজিএম কর্মকর্তা কর্মরত ছিলেন তাদের মধ্যে বর্তমান কর্মরত কর্মকর্তা আবুল মুমিত চৌধুরী একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ ও আন্তরিক হিসাবে খ্যাত। তিনি এ দপ্তরে যোগদানের পর শতভাগ বিদ্যুতায়ন বিপ্লব ঘটিয়ে গ্রাহকদের মন জয় করেছেন।

তিনি আরো বলেন, আমি স্যার নয়, সেবক হিসাবে এ দপ্তরে গ্রহক সেবায় মনোনিবেশ করা আমার দায়িত্ব। এ অর্পিত দায়িত্ব পালনে যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে গ্রাহকদের আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।