মাওলানা খালেদুজ্জামান : রমজান মাসে জ্ঞানসম্পন্ন, প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ ও সক্ষম সব মুমিন নারী-পুরুষের উপর রোজা পালন করা ফরজ। রমজানে রোজা ফরজ হওয়ার শর্তগুলো হলো—স্বাভাবিক জ্ঞানসম্পন্ন হওয়া, সাবালক হওয়া, সুস্থ ও সক্ষম হওয়া, নারীদের পবিত্র অবস্থায় থাকা, সফর বা ভ্রমণে না থাকা।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তা’আলা এরশাদ করেন, সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই এ মাস পাবে সে যেন এ মাসে রোজা রাখে।” (সুরা বাকারা : ১৮৫)। কিন্তু যারা অসুস্থতা বা বার্ধক্যের কারণে রমজানের রোজা আদায় করতে সক্ষম নয়, পরম করুণাময় বিধানদাতা আল্লাহ তা’আলা তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা দিয়েছেন। ইসলামের পরিভাষায় ফরজ বিধান শিথিলতার বিশেষ অবস্থাকে রুখসত বলা হয়।
সুদবিহীন এমএফএস
‘নগদ ইসলামিক’ হলো একমাত্র শরিয়াহসম্মত সুদবিহীন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট; যা একটি শরিয়াহ সুপারভাইজারি কমিটির তত্ত্বাবধানে সরাসরি পরিচালিত হয়। গ্রাহকরা নগদ অ্যাপের ‘আমার নগদ’ অপশন থেকে ‘অ্যাকাউন্টের ধরন’ পরিবর্তন করে সহজেই নগদ ইসলামিক একাউন্ট ব্যবহার করতে পারছেন।
স্বাভাবিক অবস্থায় প্রাপ্তবয়স্ক সকল নর-নারীর উপর রোজা ফরজ হলেও বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে এই বিধানে কিছু শিথিলতা রয়েছে।
রমজান মাসে যাদের উপর এই রুখসত বা শিথিলতার বিধান রয়েছে তারা মোট পাঁচ শ্রেণির— ১. মুসাফির ২. অসুস্থ ৩. অতিবৃদ্ধ ৪. গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিনী নারী ৫. হায়েজ ও নেফাসগ্রস্ত নারী।
১. সফররত ব্যক্তি সম্ভব হলে রোজা পালন করবে, এটাই উত্তম। আর কষ্ট হলে রোজা ভাঙতে পারবে। তবে এই রোজা পরে কাজা আদায় করতে হবে। প্রখ্যাত সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনও এক রমজানে রোজা অবস্থায় মক্কার পথে যাত্রা করলেন। কাদিদ নামক স্থানে পৌঁছার পর তিনি রোজা ছেড়ে দিলে সবাই রোজা ছেড়ে দিলেন। (সহি বুখারী: হাদিস নং: ১৮২০)।
এ প্রসঙ্গে বিখ্যাত সাহাবি আনাস বিন মালেক (রা.)-এর বর্ণিত ঘটনাটি প্রসিদ্ধ। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা মুসাফিরের রোজা ও অর্ধেক নামাজ হ্রাস করে দিয়েছেন আর গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিণী মহিলাদের রোজা (পরবর্তীতে কাজা করার শর্তে) মাফ করে দিয়েছেন। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৭১৫)।
২. অসুস্থ বা রোগীর রোজা রাখার দরুন অসুস্থ বেড়ে যাওয়া বা প্রাণনাশের আশংকা সৃষ্টি হলে রোজা ছেড়ে দিতে পারবে। রোগ থেকে দ্রুত আরোগ্য লাভ করে পরবর্তীতে রোজা রাখার সক্ষমতা ফিরে পেলে কাজা আদায় করতে হবে অন্যথায় ফিদইয়া দিতে হবে। উল্লেখ্য, সামান্য অসুখ, যেমন, মাথা ব্যথা, সর্দি, কাশি অনুরূপ কোনও সাধারণ অসুখের কারণে রোজা ভঙ্গ করা জায়েজ নয়। রোজা পালন করার দরুন রোগ বৃদ্ধি নিশ্চিত হলে অতি পরহেজগারি মনে করে রোজা পালন করা অনুচিত। এ অবস্থায় রোজা ভঙ্গ করা জরুরি।
আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের নিজেদের হত্যা করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তোমাদের প্রতি অতিশয় দয়ালু।’ (সুরা নিসা : ২৯)।
মৃত্যুমুখী বৃদ্ধলোক অথবা এমন রোগে আক্রান্ত হলে, যা থেকে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা নেই, এমন অক্ষম ব্যক্তি প্রতিটি রোজার পরিবর্তে পৌনে দুই সের গম (ফিতরার পরিমাণ) অথবা তৎপরিমাণ মূল্য আদায় করবে। ইসলামের পরিভাষায় এটাকে ফিদয়া বলা হয়। (জাওয়াহিরুল ফিকহ : ১/২৯)।
৩. অতিবৃদ্ধ ব্যক্তি যিনি রোজা রাখতে অক্ষম এবং পরবর্তীতে রোজা কাজা করার সক্ষমতাও ফিরে পাওয়ার সম্ভবনা নেই এমতাবস্থায় এই ব্যক্তির প্রতিটি রোজার জন্য একটি সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ সদকা আদায় করতে হবে। অতিবৃদ্ধ ব্যক্তির রোজার সকল বিধান অসুস্থ ও রোগীর অনুরূপ।
লেখক: মুহাদ্দিস, জামিয়া ইসলামিয়া লালমাটিয়া, মুহাম্মাদপুর, ঢাকা।
