এম,এস রানা : ক্যাম্পে ধরে রাখা যাচ্ছেনা রোহিঙ্গাদের। দায়িত্বরত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর চোখ কে ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে যাচ্ছে দেশের নানান প্রান্তে। কক্সবাজার টেকনাফ সড়কে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চেকপোস্ট থাকায় তারা এখন ব্যবহার করছে বিকল্প পথ।
মায়ানমার সেনাবাহিনী কতৃক নির্যাতনের শিকার হয়ে উখিয়া-টেকনাফে ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা। তারা উখিয়া টেকনাফের বন রেঞ্জের ৮হাজার একর বনভুমি ধ্বংস করে পাহাড়-পর্বত কেটে ক্যাম্প তৈরি করে আশ্রয় নিয়েছে। সরকারের পাশপোর্ট অধিদপ্তরের গননাও তথ্যানুযায়ী ১০লাখ ৭৫ হাজার রোহিঙ্গা নারী পুরুষও শিশু নিবন্ধিত হয়েছে।আর কোন ধরনের নজরদারি না থাকায় ক্যাম্প ছেড়ে প্রতিদিন হাজার হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে যাচ্ছে।সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলো অরক্ষিত তথা কোন ধরনের সীমানা প্রাচীরে আবদ্ধ না থাকায় প্রতিদিনি যে যার মত করে চলাফেরার সুযোগ পেয়ে ক্যাম্প থেকে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। তাদের স্বদেশ মায়ানমারে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে রোহিঙ্গারা প্রানপনে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রত্যাবাসনের ভয়ে। ইতিমধ্যে অনেক রোহিঙ্গা স্বপরিবারে বা একা পালিয়ে গিয়ে দোশের বিভিন্ন জেলায় শিকড় গেঁড়ে বসে আছে। সড়ক পথ বাদ দিয়ে তারা বিকল্প রাস্তা,উপসড়ক দিয়ে জেলা শহরে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে মরিচ্যা উত্তর মাথা লাল ব্রীজ সংলগ্ন একটি পুলিশের চেকপোস্ট থাকা রোহিঙ্গারা মরিচ্যা বাজারে গাড়ি থেকে নেমে গিয়ে এসব রোহিঙ্গারা গরুর বাজার গোয়ালিয়া রোড় , পাগলির বিল রোড সহ বিভিন্ন গ্রামীন রাস্তা দিয়ে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ধেছুয়াপালং, ধোয়াপালং গিয়ে পূনরায় গাড়ি চড়ে শহরের দিকে চলে যা। উখিয়া পাতাবাড়ি নিউ ফরেষ্ট অফিস সংলগ্ন অন্য একটি পুলিশের চেকপোস্ট থাকায়, মধুরছড়া, মাছকারিয়া, শিলেরছড়া, পাতাবাড়ী, ফলিয়াপাড়া, মৌলভীপাড়া, হাজির পাড়া, লম্বাঘোনা, দরগাহবিল, হাঙ্গরঘোনা, আজুখাইয়া, তুলাতলী, ডেইলপাড়া, করইবনিয়াসহ কয়েকটি গ্রামের বিভিন্ন রাস্তা উপ-সড়ক দিয়ে রোহিঙ্গারা চলে যাচ্ছে।
তাদের পালিয়ে যেতে সাহায্য করছে এ দেশের কিছু অসাধু সিএনজি ও টমটম চালক। তারা ক্যাম্পের বিপরিত মূখী গোপন পথ দিয়ে গাড়ি করে মরিচ্যা, কোটবাজার, সোনারপাড়াসহ বিভিন্ন রাস্তার ধারে পৌছে দিচ্ছে মোটা অংকের ভাড়ার বিনিময়ে। রোহিঙ্গাদের অবাদ বিচরন ঠেকাতে কক্সবাজার টেকনাফ সড়কের কয়েকটি পয়েন্টে বসানো আইনশৃঙখলা বাহিনীর চেকপোষ্ট ভরসা নেই স্থানীয়দের, এলাকাবাসীর অভিযোগ রোহিঙ্গা পালিয়ে যাওয়ার সময় কিছু কিছু রোহিঙ্গাকে আটক করলেও চেকপোষ্টের দায়িত্বরত আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর কিছু দুর্লোভী সদস্য রোহিঙ্গদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে ছেড়ে দিচ্ছে। ইতিমধ্যে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী,যুবক ও শিশু কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসা বাড়িতে গোপনে কাজ করে যাচ্ছে।আর স্থানীয়রাও কম পারিশ্রমে তাদের পেয়ে আশ্রয় দিচ্ছে।জানা যায়,থেকে রোহিঙ্গারা প্রতিদিনি এসব গ্রামের বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট দিয়ে সিএন্ডজি-টমটম ভাড়া করে সোজা কক্সবাজার ও রামুতে ঢুকে পড়ছে। সেখান থেকে দুরপাল্লার যানবাহন করে ঢাকা, চট্রগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে চলে যাচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি ক্যাম্পেের চতুর পার্শে কাটা তারের ব্যাষ্টনী দিয়ে রোহিঙ্গাদের বিচরণ বন্দের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ২৪ ঘন্টা টহল জোরদার করে পলায়নরত রোহিঙ্গাদের আটক করে ক্যাম্প অভ্যান্তরে ফেরত পাঠানো জরুরী। অন্যতায় রোহিঙ্গারা হয়ে উঠবে স্বাধীন দেশের সুনাগরিকের অশান্তির অন্যতম কারন।
