কক্সবাজার প্রতিনিধি |
দীর্ঘ ২ বছর ৯ মাস পর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের হিমছড়ি সৈকতের বালুচরে পুঁতে ফেলা বিশাল একটি তিমির কঙ্কাল উত্তোলন করা হয়েছে। বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইন্সটিটিউটের ল্যাবে তিমির এই কংকালটি সংরক্ষণ করে রাখা হবে এটি। আগামী শনিবার থেকে শুরু হওয়া দুদিনের আন্তর্জাতিক সমুদ্র বিষয়ক সম্মেলনে দর্শনার্থীদের জন্য তিমির এই কংকালটি উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ রোডে অবস্থিত বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইন্সটিটিউটের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড তৌহিদা রশীদ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান আগামী শনিবার থেকে কক্সবাজারস্হ সমুদ্র গবেষণা ইন্সটিটিউটে দুদিনের আন্তর্জাতিক সমুদ্র বিষয়ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে দেশ বিদেশের সমুদ্র বিজ্ঞান নিয়ে গবেষকরা তাদের গবেষণা পত্র উপস্থাপন করবেন।
তিনি জানান ২০২১ সালের ৯ ও ১০ এপ্রিল দুটি মৃত তিমি হিমছড়ি সৈকতে ভেসে আসে। পরে সৈকতের বালুচরে গর্ত খুঁড়ে তিমি দুটি পুঁতে ফেলা হয়। ১০ এপ্রিল আসা মৃত তিমিটির ওজন ছিল প্রায় ৯ মেট্রিক টন, দৈর্ঘ্য ৪৬ ফুট ও প্রস্থ ১৬ ফুট। গভীর বঙ্গোপসাগরে তিমিটির মৃত্যু হওয়ায় শরীরের বিভিন্ন অংশ পচে বিকৃত হয়ে গিয়েছিল।
গত তিনদিন থেকে তিমির কঙ্কাল সংগ্রহের কাজে নামেন কক্সবাজার বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। বাংলাদেশ বন বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় তিমির এই কংকাল উত্তোলন কার্যক্রম চলে।
কক্সবাজারের বাংলাদেশ সমুদ্র মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড তৌহিদা রশীদ জানান ২০২১ সালের ১০ এপ্রিল জোয়ারের পানিতে ভেসে এসেছিল তিমিটি। পুঁতে ফেলা তিমির শরীরের মাংস এত দিনে ঝরে গেছে। এখন কঙ্কাল সংগ্রহ করা হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যে বালুর নিচ থেকে তিমির শরীরের হাড়গোড় সংগ্রহ করা সম্পন্ন হবে। এটি কক্সবাজার সমুদ্র মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের নিজস্ব সংরক্ষণাগারে নেওয়া হবে। আগামী শনিবার শুরু হওয়া দুদিনের আন্তর্জাতিক সমুদ্র সম্মেলনে দর্শনার্থীদের দেখার পাশাপাশি গবেষণার কাজেও এটি লাগানো হবে। সৈকত থেকে তোলা তিমির হাড় জোড়া দিয়ে কঙ্কাল তৈরির জন্য একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা হাড় জোড়া দিয়ে এর পূর্ণাঙ্গ রূপ দেবেন।
