Monday, January 17, 2022
Homeউখিয়াপালংখালী ওয়াকফ এস্টেট সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা

পালংখালী ওয়াকফ এস্টেট সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা

গুলি বর্ষণ ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আটক ১০ জনকে জেল হাজতে প্রেরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি, উখিয়া ॥
উখিয়ার ক্রাইম জোন হিসাবে পরিচিত জনপদ পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমান পাড়া মৌলভী আব্দুল লতিফ ওয়াকফ এস্টেটের সংঘর্ষ লুটপাট গুলি বর্ষণ অস্ত্র উদ্ধার হতাহত ও আটকের ঘটনায় উখিয়া থানা পুলিশ বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক ১০ আসামীকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে উখিয়া থানার পুলিশ। এ নিয়ে এলাকায় আইনশৃংখলা চরম অবনতি হয়েছে। উক্ত গুলিবর্ষণের ঘটনায় এলাকায় এখনো চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গত ১৩ ডিসেম্বর উখিয়া থানা এসআই আবুল কালাম বাদী হয়ে ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে। মামলার আসামীরা বিভিন্ন ওয়ারেন্ডভূক্ত পলাতক আসামী ও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী। গত ১২ ডিসেম্বর ঘটনার ঘটনার মূল নায়ক সোহেল মোস্তফা চৌধুরী কে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্র সহ আটকের আধা ঘন্টা পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
প্রতক্ষ্যদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পালংখালী আঞ্জুমান পাড়া গ্রামের মায়নমার সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৫০ একর সিংড়ি চাষ যোগ্য জমি নিয়ে আঞ্জুমান পাড়া আব্দুল লতিফ ওয়াকফ এস্টেটের বৈধ মোতায়াল্লি লতিফ আনোয়ার চৌধুরী ও তার প্রজাদের উচ্ছেদ করে জবর-দখল করে নেওয়ার জন্য সোহেল মোস্তফা চৌধুরী ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা পাকা ধান লুটপাটের সময় উক্ত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে শত শত রাউন্ড গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটায়। ঘটনায় এলাকাবাসী ও চাষীরা দিকেদিক চুড়াচুড়ি করে পালিয়ে গেলেও বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড ৩৪ (বিজিবি) সদস্যরা এসে ঘটনা নিয়ন্ত্রন নেওয়ার চেষ্টা চালালে সোহেল মোস্তফা চৌধুরী ভাড়াটিয়া বাহিনীরা পাল্টা হামলা চালায়। হামলায় উভয় গ্রুপে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। হামলার গুলিবর্ষন লুটপাট ও জবর-দখলের খবর পেয়ে উখিয়া থানা পুলিশ ও বিজিবি জোয়ান সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ৩টি অস্ত্র ও বিপুল পরিমান তাজা কার্টোজ ও দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার করে এবং ঘটনার সাথে জড়িত ১০ জন সন্ত্রাসীকে আটক করে। আটকৃতদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে গত ১৩ ডিসেম্বর উখিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। উখিয়া থানা মামলা নং-১২। মামলায় উল্লেখিত আসামীরা হলেন পালংখালী গ্রামের মৃত আব্দুল মনজুরের পুত্র শফিকুর রহমান প্রকাশ মতিয়া (৪৭)। তার বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মামলা নং- ২২, তারিখ ২৩-০৮-২০১২ইং, মামলা নং- ১৭৪ (১৬) তারিখ ১০-০৯-২০১৪ইং, পুলিশের অস্ত্র ছিনতায় ঘটনায় মামলা সহ একাধিক মামলার পলাতক আসামী। পূর্ব ফাঁরির বিল গ্রামে মৃত আবু শমার পুত্র শামশুল আলম প্রকাশ শাশু (২৪)। তার বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মামলা নং- ১৩, তারিখ ১৪-১১-২০১১, মামলা নং- ২১, তারিখ- ২০-০২-২০১১ মামলা নং- ৪৮ (১), তারিখ- ০৮-০৩-২০১১ইং তারিখে বিভিন্ন ধারায় একাধিক অস্ত্র ও ডাকাতি মামলা রয়েছে। আঞ্জুমান পাড়া গ্রামে নুর হোসনের পুত্র আবুল বশর (২৫)। উখিয়া থানায় মামলা নং- ১৩, তারিখ- ২৬-০৭-২০১৬, মামলা নং- ০৬, ১০-০৫-২০০৫, মামলা নং- ৪৮, তারিখ- ১৬-০৫-২০০৫, মামলা নং- ১২০, তারিখ- ১৩-০৮-২০০৫, উখিয়া থানায় মামলা নং- ০৩, তারিখ ০৪-০৭-২০০৯, মামলা নং- ১৪২, তারিখ- ০৭-১০-২০০৯ইং তারিখে অস্ত্র ছিনতায় ও দ্রুত মামলায় পলাতক আসামী। আঞ্জুমান পাড়া গ্রামের মোহাম্মদ কলিম উল্লার পুত্র আবুল খায়ের প্রকাশ শফিক (৩২) ও তার ভাই ছাদ্দাম হোসেন। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম সদর থানায় মামলা নং-১২, তারিখ- ১৭-০৮-২০১৫, উখিয়া থানায় মামলা নং- ১৫, তারিখ- ২০-০১-২০১৪, মামলা নং- ৯৪ (৮), তারিখ- ৩১-০৫-২০১৬ এবং তার ভাই ছাদ্দামের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মামলা নং- ০৭, তারিখ- ১৬-১২-২০১১, মামলা নং- ৩৮, তারিখ- ০৮-০৩-২০১৬, উখিয়া থানায় মামলা নং- ১৫, ২০-০১-২০১৪, মামলা নং- ৯৯ (৩), তারিখ- ৩১-০৫-২০১৬ইং উখিয়া থানায় ডাকাতি জবর-দখল সহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। পূর্ব ফাঁরির বিল গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের পুত্র জাহেদ হোসেন (৩০)। তার বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মামলা নং- ১৬, তারিখ ১৯-০৯-২০১৬ইং রয়েছে। পূর্ব ফারির বিল গ্রামে মৃত সুলতান আহমদের পুত্র রমিজ আহমদ (৪৯)। তার বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মামলা নং- ১৪, তারিখ- ১৬-১১-২০১৬ইং সংশ্লিষ্ট ধারা মামলা রয়েছে। আঞ্জুমান পাড়া গ্রামের আবু বক্করের পুত্র আক্তার (৩১)। তার বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মামলা নং- ১৪, তারিখ- ২০/০১/২০১৪ইং ও মামলা নং- ৪৮, তারিখ- ৩১-০৫-২০১৪ইং মামলার পলাতক আসামী। নলবনিয়া গ্রামের মৃত আমির উর জামানের পুত্র মোহাম্মদ কাউসার (২৪) এবং একই এলাকার জাহেদ আলমের পুত্র জসিম (২৬) কে আসামী করে উখিয়া থানায় অস্ত্র উদ্ধার ও সংঘর্ষের ঘটনায় মামলার আসামীরা ঘটনা স্থল থেকে বিজিবি ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে আটক করে। আটকৃত ১০ আসামী কে গত (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ওয়াকফ এস্টেটের মোতায়াল্লি লতিফ আনোয়ার প্রকাশ খোকা মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার চিহিৃত সন্ত্রাসী ও ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতার নেতৃত্বে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। তাই আমি কক্সবাজারের বাইরে থাকা অবস্থায় সন্ত্রাসী সোহেল চৌধুরীর ভাড়াটিয়া বাহিনীরা এস্টেট দখলে নেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে। অথচ অস্ত্র সহ সোহেল মোস্তফাকে আটক করলেও রহস্যজক কারণে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত সোহেল মোস্তফা চৌধুরী তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, উক্ত ওয়াকফ এস্টেটের বৈধ মোতায়াল্লি তিনি দাবী করেন।
এ ব্যাপারে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আবুল খায়ের বলেন, এলাকায় আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কেউ জোরপূর্বক এস্টেট দখল করার চেষ্টা চালালে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments