মাহবুব নেওয়াজ মুন্না : বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের উপজেলা টেকনাফের সর্বমোট আয়তন ৩৮৮.৬৮ বর্গকিলোমিটার। এই উপজেলায় রয়েছে একটি স্থলবন্দর, বঙ্গোপসাগরের বুকে দেশের সর্বাধিক পর্যটক সমৃদ্ধ সেন্টমার্টিন দ্বীপ (জিনজিরা) এবং পূর্বে প্রবাহিত হয়েছে ৬৩ বর্গকিলোমিটার দৈর্ঘ্যের আন্তর্জাতিক সীমানার নদী নাফ নদ যা বঙ্গোপসাগরের বর্ধিত অংশ বলে উইকিপিডিয়ায় উল্লেখিত।
টেকনাফ উপজেলায় মোট ৬টি ইউনিয়ন এবং একটি “A(ক)” ক্যাটাগরির পৌরসভা রয়েছে। সময়ের চাহিদায় বিগত ১ দশকে টেকনাফ উপজেলার সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষা, লবণ শিল্প, কৃষি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, বৈদেশিক বাণিজ্য ও পর্যটনের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে।
শিক্ষা ক্ষেত্রে টেকনাফ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ স্থাপনের মাধ্যমে উপজেলায় প্রথমবারের মতো কারিগরি শিক্ষার যাত্রা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে হ্নীলা ইউনিয়নে বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মঈন উদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজ এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপ ইউনিয়নে বিএন ইসলামিক স্কুল এন্ড কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শাখা চালু হয়েছে। কওমী শিক্ষা ক্ষেত্রে টেকনাফ আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসায় চালু হয়েছে দাওয়ারে হাদিস (স্নাতকোত্তর সমমান) কোর্স। এবং একটি স্নাতক (পাস) পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টেকনাফ সরকারি কলেজ ও একটি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টেকনাফ এজাহার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় অধ্যয়নের সুযোগ হিসেবে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়ে চালু করা হয়েছে এসএসসি প্রোগ্রাম।
টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের আয়তন ৬৬.৭২ বর্গকিলোমিটার। যার দক্ষিণদিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়ন, পশ্চিমদিকে বাহারছড়া ইউনিয়ন এবং উত্তরদিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন অবস্থিত। কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক এই ইউনিয়নটির প্রধান যাতায়াত ব্যবস্থা।
হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী থেকে বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজপুরা পর্যন্ত সড়কটির দূরত্ব ৮.৫ বর্গকিলোমিটার (প্রায়)। বিগত তিন দশক ধরে দীর্ঘকালের সম্ভাবনাময়ী স্বপ্নের পাহাড়ি এই সড়কটি অনেক প্রচেষ্টার পরেও এখনো পুরোপুরি কার্পেটিং (বিটুমিন দ্বারা) নির্মাণ করা সম্ভব হয়ে উঠেনি।সড়কটির কিয়দংশ সেই সময়ের প্রচেষ্টা সরূপ এইচবিবি (ইট) দ্বারা নির্মিত অবস্থায় এখনো থেকে গেছে।
পানখালী-জাহাজপুরা এই সড়কটির পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব হলে ১৫.৩১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বাহারছড়া ইউনিয়নের সাথে সহজে সড়ক যোগাযোগ করা যাবে যা বঙ্গোপসাগরের তীরে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। এই সড়কে অনেকগুলো স্কুল, মাদরাসা, হাসপাতাল এবং পর্যটন স্পট পাহাড়ি ঝর্ণা স্বপ্নপুরী, জাহাজপুরা গর্জন বাগান ইত্যাদির অবস্থান রয়েছে।
সড়কটির দ্রুত বাস্তবায়ন হলে বাহারছড়া ইউনিয়ন থেকে সড়কপথে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে অতি অল্প সময়ে পৌঁছা সম্ভব হবে। যার কারণে সড়ক যোগাযোগ ক্ষেত্রে উন্নয়নের ফলে ব্যাপক অন্যান্য সম্ভাবনাও বাড়বে। রামুর গোয়ালিয়া সড়ক ও রাঙামাটির সাজেক সড়কের মতো পাহাড়ি পর্যটন শিল্পে এগিয়ে যাবে টেকনাফ উপজেলা। সাথে সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য, বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদ থেকে আহরিত মৎস্য বিক্রি, শিক্ষা, কৃষির ও অন্যান্য ক্ষেত্রের উন্নয়ন ঘটবে।
এই দুইটি ইউনিয়নের জনসাধারণের সহজ সড়ক যোগাযোগ, পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্ভাবনা বিবেচনাপূর্বক পানখালী থেকে জাহাজপুরা পর্যন্ত এই সড়কটি বাস্তবায়নে এলজিইডি ও পর্যটন কর্পোরেশন যথাসম্ভব দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে সড়কটি বাস্তবায়ন করলে উপকৃত হবে হাজারো মানুষ ও এই অঞ্চল।
