নাফনদীতে ৪ লাখ ইয়াবার চালান পেয়ে কোটিপতি রোহিঙ্গা হানিফ্ফা চোরা!

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : টেকনাফের নাফনদীতে চিরিং মাছ শিকারে গিয়ে গর্তের ভেতরে লুকানো ৪লাখ ইয়াবার চালান পেয়ে আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মতো বদলে গেছে চুরির দায়ে দৈনিক ৩-৪ বার গণপিটুনি খাওয়া নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বার্মাইয়া হানিফ চোরার। এটি কোন কল্পকাহিনী না বাস্তব কাহিনী। যা এলাকায় তার নিজ মুখ দিয়ে বের হচ্ছে এসব তথ্য। সে রোহিঙ্গা হলেও এলাকার কিছু প্রভাবশালী মানুষের নিকট এই মাদকের টাকায় অর্জিত সম্পত্তি আমানত রেখে এখনো মাদক বাণিজ্যে সম্পৃক্ত রয়েছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়,মিয়ানমারের রাখাইন পরিবারে জন্ম নেওয়া এক যুবক। পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে সুস্থ জ্ঞান সম্পন্ন হয়ে নও মুসলিম হয়ে যায়। এরপর মোহাম্মদ হানিফ। ওপারের রাখাইনদের কারণে টিকতে না পেরে ২০০০ সালের আগে মিয়ানমার হতে এসে স্বপরিবারে নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পে বি-বøকে আশ্রয় নেয়। সরকার ও এনজিও সংস্থা প্রদত্ত ত্রাণ নিয়ে সংসার না চলায় সে নিয়মিত চুরি করে বেড়াতো। ক্যাম্প এলাকায় সে হানিফ্ফা চোরা নামে পরিচিত হয়ে উঠে। এই অপরাধে সে দৈনিক ২-৩ বার পর্যন্ত গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছে। মাঝে-মধ্যে নাফনদীতে চিরিং মাছ শিকারে যেত। যা পেত তা দিয়ে কোন প্রকারে দৈনিক পকেট খরচ চালাত।

সাম্প্রতিকালে গত ২/৩ মাস আগে নাফনদীর বুকে কাদাঁর গর্ত হতে চিরিং মাছ শিকারের সময় তার নজরে পড়ে একটি দৃশ্য। ওপার হতে নৌকা নিয়ে আসা ৩/৪ জন মানুষ কেওঁড়া গাছের পাশে কাদাঁয় কি যেন লুকিয়ে রাখছে। নৌকাটি চলে যাওয়ার পর হানিফ্ফা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে ইয়াবার চালান। তখন সে মনে মনে ভাবে আল্লাহ যেন আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপ হাতে দিয়েছেন। সেখান হতে এই ইয়াবার চালানটি অন্যত্র সরিয়ে সুবিধামতো সময়ে তোলার জন্য মনস্থ করে বাড়ি চলে যায়। পরে লোকজন জমায়েত করে রাতের অন্ধকারে খালাস করে বাড়িতে নেয়। গণনা করে ৪০ কার্ড তথা ৪লাখ ইয়াা পাওয়া যায়। এই চালান তখন পাশর্^বর্তী এক প্রভাবশালী রোহিঙ্গার নিকট ৪ কার্ডের বিনিময়ে রেখে বিক্রি শুরু করে। এসব ইয়াবা স্থানীয় বাজার মূল্যে বিক্রি করে নগদ পৌনে ২ কোটি টাকা আয় করে। তা দিয়ে ৫টন ওজনের ১টি পিকআপ, ২টি সিএনজি কিনে স্থানীয় চালকদের নিকট ভাড়ায় নে। ঐ পিকআপটি হ্নীলার এক নেতার তত্তাবধানে থাকে বলে জনশ্রæতি রয়েছে। এই সেয়ানা হানিফ্ফা পাগল আলিশান বাড়ি না করলেও অবশিষ্ট থাকা দিয়ে শক্তিশালী সিন্ডিকেটের সাথে যুক্ত হয়ে গোপনে মাদক বাণিজ্য চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

এসব মাদক অপরাধীদের দ্রæত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে এখনো সক্রিয় মাদক সিন্ডিকেটের শেকড় উম্মোচন করা দরকার বলে সচেতনমহল মনে করেন।