টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে টাইগারদের লজ্জাজনক হার

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৪ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : ক্রিকইনফো লাইভ একবার করে রিফ্রেশ দেওয়া মানেই যেন, একজন করে ব্যাটসম্যান সাজঘরে! শেষমেশ ৫৩ রানে শেষ বাংলাদেশের ইনিংস।

২২ গজে বাংলাদেশ এতটা খারাপ সময় শেষ কবে কাটিয়েছিল মনে নেই। তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রানে অলআউটের লজ্জা পেয়ে গেছে মুমিনুল হকের দল। সঙ্গে ডারবানের কিংসমিডে ভারতকে সরিয়ে বাংলাদেশের ৫৩ রানই এখন সবার তলানিতে।

২২০ রানের বিশাল পরাজয়ে শেষ ডারবান টেস্ট।
ব্যাটসম্যানদের দায় স্বীকার করে নিয়েছেন মুমিনুল, ‘আমার মনে হয় বিদেশে এসে স্পিনারদের উইকেট দেওয়া বিরাট বড় ক্রাইম। আমার মনে হয় বিদেশে এসে আপনি স্পিনারদের উইকেট দিতে পারবেন না। এই কারণে দায়টা আমারই বেশি। বিদেশে এসে স্পিনারদের কোনোভাবেই উইকেট দেওয়া যাবে না। অবশ্যই এটা ব্যটিং ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছুই না।’

বড় পার্থক্য গড়ে দেয় লোয়ার অর্ডার: প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকাকে পুরোপুরি চাপে রেখেছিল বাংলাদেশ। প্রোটিয়ারা ৮ উইকেট হারায় ২৯৮ রানে। সেখান থেকে লোয়ার অর্ডারে শেষ ২ উইকেটে ৬৯ রান যোগ করে স্বাগতিকরা। এই সময়ে আলগা বোলিংয়ে কোনো চাপ তৈরি করতে পারেননি মিরাজ, খালেদ, ইবাদতরা। ফলে অতি সহজেই রান নেন ব্যাটসম্যানরা। অন্যদিকে বাংলাদেশের ইনিংসে শেষ ২ উইকেটে পুঁজি মাত্র ৩১ রান। সেটাও পরীক্ষিত ব্যাটসম্যান জয় থাকায় হয়েছে। নয়তো সেই রানটাও হতো না। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৬৯ রানে পিছিয়ে ছিল। যা পরাজয়ের অন্যতম বড় কারণ। লোয়ার অর্ডার ব্যাটিং নিয়ে মুমিনুল বলেছেন, ‘আগে খারাপ ছিল, কিন্তু এখন উন্নতি হয়েছে অনেক। লোয়ার অর্ডাররা এখন ব্যাট করতে চায়। একসঙ্গে উন্নতি হবে না, আস্তে আস্তে হচ্ছে। তাসকিন জিম্বাবুয়েতে রিয়াদ ভাইয়ের সঙ্গে ভালো জুটি গড়েছে। নিউ জিল্যান্ডেও ওরা ভালো করেছে। তো উন্নতি হচ্ছে আগের চেয়ে অনেক ‘

রিভিউয়ের বাজে ব্যবহার: দ্বিতীয় ইনিংসের ঘটনা। পেসার খালেদ আহমেদের ভেতরে ঢোকানো বল মিস করেছিলেন কিগান পিটারসেন। বাংলাদেশের আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। অধিনায়ক মুমিনুল আত্মবিশ্বাস রাখতে পারেননি খালেদের ওপর। কিন্তু টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বল ঠিকই সঠিক লাইনে পিচ করে উইকেটে আঘাত করছিল। চতুর্থ দিন মধ্যাহ্ন বিরতির পর তাসকিন ফেরান এলগারকে। কিন্তু ডানহাতি পেসারের আবেদনে সাড়া দেননি হোল্ডস্টক। রিভিউ নেন তাসকিন। পেয়ে যান সাফল্য। রিভিউয়ের এমন দোলাচল ছিল পুরো ম্যাচ জুড়ে। কখনো বাংলাদেশের অধিনায়ক সাহস দেখিয়েছেন। কখনো পারেননি। কখনো সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের পক্ষে এসেছে। কখনো বিপক্ষে গেছে। ডারবানে অনফিল্ড দুই আম্পায়ারের এরকম ‘ইনকন্সিসটেন্স আম্পায়ারিংয়ে’ হতাশ বাংলাদেশের অধিনায়ক। সঙ্গে নিরপেক্ষ আম্পায়ারিংয়ের জোর দাবিও করে রাখলেন তিনি, ‘আম্পায়ারিং আমাদের হাতে নেই। এখন আইসিসির উচিত নিরপেক্ষ আম্পায়ার দিয়ে দেওয়া। আগে কোভিডের কারণে সুযোগ-সুবিধা ছিল না, এখন তো সেই অবস্থা ওভাবে নেই। নয়তো এরকম তো অনেক সিরিজেও হয়েছে এবং এই সিরিজেও হলো যে আম্পায়াররা ওদের দেশের পক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকে।’

দুই দলের পরবর্তী টেস্ট জোহানেসবার্গে ৭ এপ্রিল। নিজেদের ভুলগুলো শুধরে বাংলাদেশ সিরিজে সমতা আনতে পারে কি না সেটাই দেখার।