Wednesday, January 19, 2022
Homeটপ নিউজটেকনাফ বাহারছরায় প্রবাসী হত্যা ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা

টেকনাফ বাহারছরায় প্রবাসী হত্যা ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা

নুরুল হোসাইন, টেকনাফ :
টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়ার ইউনিয়নের বড়ডেইল এলাকায় সদ্যবিবাহিত প্রবাসী মৌ:আনোয়ার হোসাইনকে হত্যার ঘটনায় আটক স্ত্রী সুফিয়া আফরিন লুৎফার পিতা মুহাম্মদ আয়ুব মামলার বাদীকে ফাঁসানো ও ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবারের লোকজন। এনিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টিসহ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী করছে এলাকাবাসী।

জানা যায়, গত ২০ জানুয়ারী সকাল ১০টার দিকে নিহতের বড়ভাই মো: হোসাইন মাতা, স্ত্রী ও প্রথম কন্যাসহ পাশ্ববর্তী এলাকায় পারিবারিক দাওয়াতে বেড়াতে যায়। বিকাল ৪.০৭ মিনিটের দিকে নিহতের বড়ভাই মো: হোসাইন ২য় কন্যা মোকাররমা আক্তার হীরামনি (১৪) তার পিতাকে মোবাইল ফোনে জানায়, তার মেঝ আব্বু খাটের নিচের পার্শে¦ পড়ে আছে এবং শ্বাস-নি:শ্বাস নেই। তাৎক্ষনিক তারা বাড়ির রুমে ঢুকে দেখতে পান, ভিকটিমের কপাল, কানের নিচে, পিছনের ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন, কপাল ও কান দিয়ে রক্ত বাহির হচ্ছে। ঘটনার বিষয়ে আসামীর নিকট জিজ্ঞাসা করিলে নিহতের স্ত্রী জানায়, দরজাÑজানালা বন্ধ করে দুইজনই ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘুমানোর এক পর্যায়ে ভিকটিম খাঁট থেকে পড়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েছে। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত টেকনাফ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ভিকটিম মৌ: আনোয়ার হোছাইনকে মৃত ঘোষনা করেন। নিহতের স্ত্রীর সরল কথা বিশ্বাস করে দাফন সম্পন্ন করেন।

পরে ঢাকায় অবস্থান করা নিহতের ছোটভাই ডা: শাহাদাত হোছাইন স্থানীয় লোকজনের মুখে ক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া শুনে নিহতের বড় ভাই মোহাম্মদ হোসাইন নিহতের রুমে বিভিন্নভাবে তল্লাশী করে খাটের উপরে বালিশ ও তোষকে ভিকটিমের রক্তভেজা কাপড় ও খাটের মাথার অংশে তোষকের নিচে ৭-৮ ইঞ্চি ধারালো ছোরা, ১০-১২ ইঞ্চির একটি রক্তমাখা লোহার হাতল দেখতে পান।

এ ঘটনায় নিহতের বড়ভাই মোহাম্মদ হোসাইন বাদী হয়ে কক্সবাজার সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (টেকনাফ) বরাবর সিআর মামলা নং- ৩৩/২০১৭ইং রুজু করেন। এই মামলায় ভিকটিমের স্ত্রী সুফিয়া আফরিন লুুৎফা কে প্রধান করে ২/৩জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বাদীর ছোটভাই ভিকটিম মৌলানা আনোয়ার হোসাইন (৩৫) দীর্ঘ ১৪ বছর যাবত সৌদি আরব অবস্থান করে একটি সৌদি মসজিদে ইমামতি করেছিলেন। দেশে এসে গেল বছরের ৮ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়।

এবিষয়ে ভিকটিমের পরিবারের লোকজন দাবী করেছেন, সদ্য বিবাহিত স্ত্রীর সাথে পর পুরুষের সহিত কথা হত এবং অনেকবার বারণ করা হলেও প্রায় সময় ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত থাকত। এব্যাপারে বাদী আসামীর পিতাকে মৌখিকভাবে ও মোবাইল ফোনে জানিয়ে সমাধানের চেষ্টা করে। পিতা মেয়েকে চাপ দিলে সে মানষিকভাবে নির্যাতন শুরু করলে ভিকটিম লোক লজ্জার ভয়ে সদ্য বিবাহিত হওয়ায় লোকজনের নিকট আড়াল করার চেষ্টা করেছিল।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মজিদ জানান, আদালতে মামলার প্রেক্ষিতে প্রাথমিক তদন্তে স্ত্রী জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। আদালতের অনুমতি পেলে লাশ তুলে ময়নাতদন্ত রির্পোট অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments