টেকনাফ পৌর শহরে যত্রতত্র বেঙের ছাতার ন্যায় গজে উঠেছে স্বমিল, রাইচমিল, ওয়ার্কশপ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
টেকনাফ পৌর শহরের অলিতে গলিতে লাইসেন্স বিহীন বেঙের ছাতার ন্যায় গজে উঠেছে স্বমিল, রাইচমিল ও ওয়ার্কশপ। ব্যক্তি মালিকানাধীন এ প্রতিষ্ঠান পরিবেশ ও জনস্বস্থের জন্য ক্ষতিকর বলে দাবী করেন পরিবেশবাদীরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, টেকনাফ শহরে ৮টি স্বমিল/করাতকল, ৪টি রাইসমিল ও ১০টি ওয়ার্কশপ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সড়কের পাশে এবং বিভিন্ন লোকালয়ে স্থাপিত। কায়ুকখালী খালের পাশে ২টি স্বমিল বা করাতকল থাকলেও বাকিগুলো আবাসিক এলাকায় স্থাপিত। নিয়মানুযায়ী স্বমিল, রাইসমিল ও ওয়ার্কশপ এসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান খালে এবং নদীর পাশে থাকার কথা কিন্তু এ নিয়ম অমান্য করে প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা যত্রতত্র স্থানে স্থাপিত করছে। যাহা পরিবেশ এবং জনস্বাস্থের জন্য মারাতœক হুমকি স্বরূপ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় এ ৩টি প্রতিষ্ঠানের অনেকের লাইসেন্স নেই। লাইসেন্স এবং অনুমতি ছাড়া এ ৩টি প্রতিষ্ঠান কিভাবে চলে তাহ নিয়ে সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে। বনবিভাগ এবং সংশ্লিষ্ঠ দপ্তর থেকে ছাড়পত্র নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছে। বনবিভাগ স্বমিল মালিকদের স্বমিল করার জন্য অনুমতি দেয়ার পর স্থানীয় এবং বনাঞ্চলের বৃক্ষশূণ্য হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। টেকনাফ পৌরসভার কোলাল পাড়া, পুরাতন পল্লান পাড়া, ইসলামাবাদ, অলিয়াবাদ ও কে কে পাড়ার অলিতে গলিতে এবং রাস্তার পাশে রাইসমিল ও স্বমিল বা করাতকল যুগযুগ ধরে বাণিজ্যের নামে জনক্ষতিকর কাজে জড়িত রয়েছে। এ কারনে পরিবেশ বিপন্ন এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাতœক ক্ষতি ডেকে নিয়ে আসবে বলে চিকিৎকেরা জানান। এতে চর্মরোগ, ডায়রিয়া, শব্দ দুষণ, চোখের আলো হৃাস এবং ক্যান্সারের মত মরণব্যাধী রোগ হবার সম্ভাবনা রয়েছে। স্বমিল, রাইসমিল ও ওয়ার্কশপ এ ৩টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান স্থাপনের অনুমতিপত্র নিতে হয় টেকনাফ পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে। তা না নিয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা যত্রতত্র স্থানে স্থাপিত করছে। যাহা সম্পূর্ণ বেআইনী ও নিয়ম বর্হিভূত। এ প্রসংগে টেকনাফ পৌরসভার মেয়র হাজী মোঃ ইসলাম জানান, পৌর এলাকায় রাইসমিল স্বমিল ও ওয়ার্কশপ বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান করতে হলে পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট অনুমতিপত্র নিতে হয়। এসব প্রতিষ্ঠান খাল ও নদীর পাশ্বে করার নিয়ম বা বিধান থাকলেও এ আইন অমান্য করে তারা খালও নদীর পরিবর্তে যত্রতত্র স্থানে এমনকি গ্রামের ভিতর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যাহা সম্পূর্ণ বে-আইনী ও পরিবেশ বিরোধী। এতে পৌরসভা রাজস্ব প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। টেকনাফ বনকর্মকর্তার সাথে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। পরিবেশ জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এসব প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ পূর্বক নিরাপদ স্থানে সরানোর জন্য ভ্রাম্যমান আদালতের দাবী জানান সচেতন পৌরবাসী।