টেকনাফে মুজিববর্ষের স্বপ্নের ঘরে বৃষ্টিতেই ভূক্তভোগীদের অস্বস্তি!

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৩ years ago

বৃষ্টি হলেই মুজিববর্ষের ঘরে হাঁটু পানি ; ঘর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে উপকারভোগীরা। পানি নিস্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা না হলে চলতি বর্ষায় বসবাসের সুযোগ থাকছেনা। সংশ্লিষ্টদের অপরিকল্পতি কাজের খেসারত দিচ্ছে অতিদরিদ্র পরিবার গুলো।

নিজস্ব প্রতিবেদক : সারাদেশের ন্যায় টেকনাফে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী তথা মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে অতিদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য বরাদ্ধকৃত ঘর সমুহে চলতি বর্ষায় পানিতে ডুবতে শুরু করেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই মুজিববর্ষের ঘরে হাঁটু পরিমাণ পানি ঢুকে। গরীব-অসহায় ছিন্নমূল মানুষ গুলোর স্বপ্ন ছিল মুজিববর্ষের ঘরে তারা স্বপরিবারে স্বস্তির নিঃশ^াস ফেলবে। আজ সেই স্বপ্ন পানিতে ডুবছে। স্বস্তির চেয়ে ভোগান্তি বাড়ছে উপকারভোগী পরিবার গুলোতে। স্বপ্নের মাথা গোঁজার ঠাঁই ছেড়ে কোথাও যাওয়ার পথ খোলা নেই। ঘর পেলেও স্বস্তি পাচ্ছেনা এসব অসহায় পরিবার গুলো। চলতি বর্ষায় মাটি ভরাট করে,নালা তৈরী করে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা না গেলে বসবাসের সুযোগ আর থাকছেনা। সংশ্লিষ্টদের অপরিকল্পতি কাজের খেসারত দিচ্ছে অতিদরিদ্র পরিবার গুলো। অবশেষে ঘর ছাড়তে বাধ্য হবে উপকারভোগীরা। সরকারের দেওয়া কোটি কোটি টাকার বাজেট পানিতে ভেসে যাবে। আসবেনা কোন উপকারেই।
Teknaf Pic A 3 21 07 22 TEKNAF TODAY - সীমান্তের সর্বশেষ খবর
বৃহস্পতিবার (২১জুলাই) সকালে সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়,টেকনাফ উপজেলাধীন হোয়াইক্যং ইউপির মিনাবাজার এলাকায় মুজিববর্ষের ৭২টি ঘর দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী সমতল ভূমিতে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় ঘরে বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানিতে ডুবে। ঘরের অনেকের মালামাল নষ্ট হচ্ছে। অসহায়-দরিদ্র পরিবার হওয়ায় নষ্ট মালামাল পুনরায় কেনার সামর্থ্য নেই বলে জানান ভূক্তভোগীরা।

হ্নীলা ইউপির হোয়াব্রাং এলাকায় মুজিববর্ষের ঘরে ২৮টি পরিবারের মধ্যে ২৭টি পরিবার বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। বাড়ির আসবাবপত্র ভিজে গেছে। বন্ধ হয়ে গিয়েছিল রান্না-বান্নার কাজ। ভূক্তভোগী হেলাল, মিজান, রিদুওয়ান, বাদশা ও ছৈয়দ আলম বর্ষায় বৃষ্টিতে তাদের ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন। বৃষ্টির পানিতে সব কিছু লন্ড-ভন্ড হওয়ায় ছেলে-মেয়েরা স্কুল-মাদ্রাসায় যেতে পারেনি।
Teknaf Pic A 2 21 07 22 TEKNAF TODAY - সীমান্তের সর্বশেষ খবর
এই বিষয়ে হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানান,আমি গত দুই বছর ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে পর্যাপ্ত সুলিশ গেইট নির্মাণের দাবী জানিয়ে আসছি। কিন্তু তা বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণে বৃষ্টি হলেই নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। গতরাতের প্রবল বৃষ্টির কারণে রঙ্গিখালী লামার পাড়া,হ্নীলা চৌধুরী পাড়ার কিছু অংশ এবং হোয়াব্রাং গ্রামসহ মুজিববর্ষের ঘর-বাড়ি প্লাবিত হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। তা অচিরে লাঘবের জন্য সীমান্ত সড়কে পর্যান্ত সুলিশ গেইট বসানোর দাবী জানাচ্ছি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানান,বৃষ্টিতে মুজিববর্ষের ঘর ডুবে যাওয়ার খবর শুনেছি। আমরা তা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।

এদিকে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কায়সার খসরুর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মুজিববর্ষের ঘর সমুহ পানিতে ডুবে যাওয়ার খবর পেয়ে বিকালে মিনাবাজার ও হোয়াব্রাং আশ্রয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। তিনি ভূক্তভোগীদের দূরাবস্থা সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং তা লাঘবের আশ^াস প্রদান করেন বলে ভূক্তভোগীরা জানান। ###