বিশেষ প্রতিবেদক : টেকনাফে আশ্রয় নেওয়া এক রোহিঙ্গা নারী এক ব্যক্তিকে ভূঁয়া বাবা বানিয়ে ভোটার তালিকাভূক্ত হওয়ার ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর সর্বত্রই তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। পুরো উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বিশেষ সিন্ডিকেটের অপতৎপরতায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
জানা যায়,উপজেলার টেকনাফ সদরের দক্ষিণ লেঙ্গুরবিলের মৃত আবদুল হাকিমের ২সন্তান, ৪কন্যা রয়েছে। সম্পত্তি বন্টন সংক্রান্ত বিষয়ে মৃত আব্দুল হাকিমের ওয়ারিশদের মধ্যে মোঃ আইয়ুব স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে ওয়ারিশ সনদ আনতে গেলে তাদের দুই ভাই, চার বোনের মধ্যে জুহুরা আক্তার নামে আরো একজন ওয়ারিশের সন্ধান পাওয়া যায়। সে রোহিঙ্গা নারী এবং স্থানীয় কালু মিয়ার পুত্র জসিম উদ্দিনের স্ত্রী বলে প্রমাণিত হয়। এই ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর আব্দুল হাকিমের ওয়ারিশসহ এলাকাবাসীদের মধ্যে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।
এই ব্যাপারে অভিযুক্ত জুহুরা আকতার স্থানীয় সংবাদ কর্মীদের নিকট জানান, আমি রোহিঙ্গা নাগরিক ঠিক। হাকিম-রহিমা দম্পতি আমাকে ছোটকালে লালন-পালন করে বিয়ে দেয়। তাদের উত্তারাধিকার সম্পত্তি দাবী না করার মৌখিক শর্তে তারা আমাকে ভোটার হতে সহায়তা করে।
উক্ত রোহিঙ্গা নারীর এনআইডি বা বাংলাদেশী জাতীয়তার সনদ বাতিল চেয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং নির্বাচন অফিস বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন মোঃ আইয়ুব নামে এক ওয়ারিশ। এরপর বিষয়টি দ্রæত খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে টেকনাফ উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার রোহিঙ্গা ও রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন স্থানীয় প্রভাবশালী, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে বাংলাদেশী ভোটার তালিকায় অর্ন্তভূক্ত হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাই অভিযুক্ত রোহিঙ্গা নারীর এনআইডি বাতিলের পাশাপাশি অপরাপর রোহিঙ্গা নাগরিকদের বিষয়ে তদন্ত স্বাপেক্ষে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবী উঠেছে। ###
