টেকনাফে পৃথক অভিযানে সোয়া ৭কেজি আ*ই*স ৩লাখ ৯০হাজার ই*য়া*বা ও জাল বোঝাই নৌকা নিয়ে দুই মিয়ানমার নাগরিকসহ গ্রেফতার-৩

: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ১ বছর আগে

হুমায়ূন রশিদ : টেকনাফে বিভিন্ন বিওপির বিজিবি জওয়ানেরা পৃথক অভিযান চালিয়ে ৭.৩৮২কেজি আইস, ৩ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা ও ৩শ কেজি সুঁতার জাল বোঝাই ৩টি কাঠের নৌকা নিয়ে মিয়ানমারের নাগরিকসহ ৩জনকে গ্রেফতার করেছে।

সুত্র জানায়, ১১মে (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৮টায় টেকনাফ বিওপির বিজিবি জওয়ানেরা নাইট্যংপাড়া ট্রলার ঘাট দিয়ে মিয়ানমার হতে মাদকের চালান বিশেষ একটি টহলদল ঘটনাস্থলে গিয়ে কেওড়া বাগানের আঁড় নিয়ে কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে। কিছুক্ষণ পর ৩/৪ জন ব্যক্তিকে একটি ইঞ্জিন চালিত কাঠের নৌকাযোগে ট্রলার ঘাটের দিকে আসতে দেখে তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় বিজিবি টহলদল তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করে। তারা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের মধ্য হতে নাইট্যং পাড়ার আমির হোছনের পুত্র মোঃ জাহিদ হোসেন (২২) কে নৌকা ও মাছ ধরার জালসহ গ্রেফতার করে। পরে নৌকা তল্লাশি করে জালের ভিতরে লুকায়িত পলিব্যাগে মোড়ানো ২টি পুটলা হতে ১লাখ ১০হাজার পিস ইয়াবা এবং ২শ কেজি সুতার জাল জব্দ করে।

এছাড়া গত ১০মে রাত সাড়ে ৯টারদিকে মিয়ানমার থেকে মাদকের চালান আসার সংবাদ পেয়ে টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর ও দমদমিয়া বিওপির বিশেষ ২টি টহলদল বরইতলী এলাকায় কৌশলী অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পর ২জন ব্যক্তি ১টি কাঠের নৌকা নিয়ে শূন্যলাইন অতিক্রম করে বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করলে ওঁৎপেতে থাকা বিজিবি জওয়ানেরা তাদের দাড়ানোর জন্য চ্যালেঞ্জ করে। তখন কাঠের নৌকাসহ মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় বিজিবি জওয়ানেরা ধাওয়া করে মিয়ানমারের বুচিদং জেলার মন্ডু থানার প্রাংপুরের মৃত আব্দুস সালামের পুত্র মোঃ রবি উল্লাহ (২৩) এবং আবুল কালামের পুত্র মোঃ আয়াছ (২৫) কে কাঠের নৌকাসহ আটক করে। পরে নৌকাটি তল্লাশী করে ৭.৩৮২কেজি আইস, ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ও ১শ কেজি সুঁতার জাল পাওয়া যায়।

এদিকে রাত পৌনে ১১টারদিকে সাবরাং বিওপির বিশেষ টহল দল সাবরাং বিওপির দক্ষিণ নোয়াপাড়া দিয়ে মাদকের চালান প্রবেশের খবর পেয়ে বেড়িবাঁধের আঁড়ে কৌশলী অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পর ২জন ব্যক্তিকে ১টি পুটলা হাতে নিয়ে বেড়িবাঁধ অতিক্রম করে বাংলাদেশ সীমানা অভ্যন্তরে প্রবেশ করায় দাড়ানোর জন্য চ্যালেঞ্জ করে। তারা বিজিবি উপস্থিতি টের পেয়ে পুটলাটি ফেলে দ্রæত পালিয়ে গ্রামের ভেতরে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশী করে মালিকবিহীন পুটলাটি উদ্ধারপূর্বক গণনা করে ৫০হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। তাছাড়া একই রাত পৌনে ১২টারদিকে নাজির পাড়া বিওপির বিশেষ টহলদল ক্যাম্পের উত্তর-পূর্বদিকে আলুগোলার প্রজেক্ট এলাকা দিয়ে মাদকের চালান আসার সংবাদ পেয়ে কেওড়া বনে অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পর ৪/৫জন লোক ১টি কাঠের নৌকা নিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করলে বিজিবি জওয়ানেরা তাদের দাড়ানোর জন্য চ্যালেঞ্জ করে। তারা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে আটক এড়ানোর জন্য নৌকাটি ফেলে নদীতে লাফ দিয়ে মিয়ানমার সীমান্তে চলে যায়। বিজিবি টহলদল ঘটনাস্থলে গিয়ে নৌকাটি জব্দের পর তল্লাশী চালিয়ে ২লাখ পিস ইয়াবার চালান জব্দ করে।

টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ মহিউদ্দিন আহমেদ (বিজিবিএমএস) জানান, ৭.৩৮২ কেজি আইস, ১লাখ ৪০হাজার ইয়াবা ও ৩শ কেজি সুঁতার জাল নিয়ে মিয়ানমার নাগরিকসহ আটককৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে পৃথক মামলা দায়েরের পর টেকনাফ মডেল থানায় সোর্পদ করা হয়েছে। এছাড়া মালিকবিহীন উদ্ধারকৃত আড়াই লাখ পিস ইয়াবা পরবর্তীতে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মিডিয়া কর্মীদের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে ধ্বংস করার জন্য ব্যাটালিয়ন সদরে জমা রাখা হয়েছে। ###