টেকনাফে দুই সিনিয়র সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসায়ীর মামলা খারিজ করে দিলেন ঢাকা সাইবার ট্রাইব্যুনাল

: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৫ years ago

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সংবাদ প্রকাশের জের ধরে টেকনাফের দুই সিনিয়র সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসায়ীর মামলা খারিজ করে দিয়েছেন সাইবার ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশ। গত ৯ অক্টোবর ঢাকা সাইবার ট্রাইব্যুনালে টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপের ইয়াবা কারবারী বার্মাইয়া আব্দু শুক্কুর ও ফয়সাল পৃথক দুইটি মামলার (নং-৩৩৬ ও ৩৩৭) আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত অভিযোগ দুটি খারিজ করে দেন। টেকনাফের সিনিয়র সাংবাদিক প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও “টেকনাফ টুডে ডটকম” সম্পাদক নুরুল করিম রাসেল ও “আমাদের টেকনাফ ডটকম” এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক জিয়াবুল হক এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে উক্ত মামলার আবেদন করেন।

জানা যায়, গত ২৬, ২৮ ও ৩০ সেপ্টেম্বর অনলাইন নিউজ পোর্টাল আমাদের টেকনাফ ডটকম এ “শাহপরীরদ্বীপের ইয়াবা গডফাদারেরা এখনো অধরা”, “অপরাধ জগতের মাফিয়া ডন বার্মাইয়া শুক্কুর ও ফয়সাল অধরা” “শাহপরীরদ্বীপের শীর্ষ ইয়াবা কারবারী বার্মাইয়া শুক্কুর ও ফয়সাল কে বাঁচাতে উচ্চ মহলের তদবির, প্রতিবেদক কে হুমকি” এবং ২৮ সেপ্টেম্বর টেকনাফ টুডে ডটকম এ “অপরাধ জগতের মাফিয়া ডন বার্মাইয়া শুক্কুর ও ফয়সাল অধরা” শীর্ষক অনুসন্ধানী সংবাদ গুলি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।

উক্ত সংবাদ সমুহ প্রকাশিত হলে সাঁড়াশী অভিযানেও অধরা থেকে যাওয়া ইয়াবা কারাবারীদের মাঝে আতংক বিরাজ করে। পাশাপাশি বিচলিত হয়ে উঠে একটি মহল যারা দীর্ঘদিন এ সমস্ত ইয়াবা কারবারীদের কাছ থেকে মাসিক মাসোহারা সহ নানাবিধ সুযোগ সুুবিধাভোগ করে আসছিল। পরবর্তীতে উক্ত চিহ্নিত মহলের যোগসাজসে টেকনাফের দুই সিনিয়র সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার ফন্দি আটতে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় উক্ত ইয়াবা গডফাদারদের পৃষ্টপোষকদের ফন্দিতে ঢাকা সাইবার ট্রাইব্যুনালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ ধারায় মামলার আবেদন করেন।

ঢাকা হাই কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি এড.আব্দুল হামিদ খান ভাসানী উক্ত সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,বিজ্ঞ আদালত অভিযুক্ত দুই সিনিয়র সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা যোগ্য অপরাধ সংগঠনের আলামত না পাওয়ায় এবং সংবাদগুলি মানহানিকর বিবেচিত না হওয়ায় খারিজের আদেশ দেন।

আর উক্ত মামলায় ইয়াবা ব্যবসায়ীদের পক্ষে সাক্ষি হিসাবে যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন টেকনাফ ডেইল পাড়া এলাকার মৃত আমীর হোসেনের ছেলে নুরুল হোসাইন ও কুলাল পাড়া এলাকার আব্দুল গণির ছেলে আবদুস সালাম।

এদিকে বিশ্বস্থ্য সূত্রে জানা গেছে,অধরা ইয়াবা কারবারীরা সেই মহলের যোগসাজসে টেকনাফের মাদক বিরোধী ও প্রতিবাদী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে।

শাহপরীরদ্বীপ ডেইলপাড়া এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে বার্মায়া শুক্কুর ও একই এলাকার সুলতান প্রকাশ ধইল্লার ছেলে ফয়সাল। তারা দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা পাচার করে বাংলাদেশে নিয়ে আসে। শুক্কুর ও ফয়সাল এতই সুচতুর ও কৌশলী যে ইয়াবা ব্যবসা করেও স্থানীয় আইন শৃংখলা বাহিনী তাদেরকে কখনো আটক করতে পারেনি। এতো অভিযানের মাঝেও উক্ত দুই ইয়াবা ব্যবসায়ী আটক না হওয়ায় শাহপরীরদ্বীপবাসীর মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। আবার ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকায় তাদের নাম না থাকায় তারা প্রকাশ্যে বীরদর্পে ঘুরে বেড়ায়। তারই প্রেক্ষিতে আমাদের টেকনাফ ও টেকনাফ টুডে সংবাদ গুলি প্রকাশ করে।

এলাকার সচেতন মানুষের দাবী,টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ ডেইলপাড়া এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে বার্মায়া শুক্কুর ও একই এলাকার সুলতান প্রকাশ ধইল্লার ছেলে ফয়সালকে বাচাঁতে টেকনাফের কয়েকজন কথিত সাংবাদিক স্থানীয় আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের ভূল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে ধরা ছোঁয়ার বাইরে রেখেছে।

জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এই ইয়াবার গডফাদার শুক্কুর ও ফয়সালকে গ্রেফতার না করে উল্টো তাদেরকে বাচাঁতে সেই মহলটি কেন মরিয়া হয়ে উঠছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে বিষয়টি রহস্য জনক। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বাঁচাতে সেই কথিত সাংবাদিকরা কেন মরিয়া !