টেকনাফে চলতি অর্থ বছরে রবি মৌসুমে ৭শ ৬০হেক্টর জমির শাক-সবজি বাজারে আসতে শুরু করছে

: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

হুমায়ূন রশিদ : টেকনাফে চলতি অর্থ বছরে রবি মৌসুমে সমতল ভূমি ও পাহাড়ের পাদদেশে চাষাবাদকৃত শাক-সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে।

টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চাকমা পাড়া বাজার, রইক্ষ্যং বাজার পরিদর্শনে দেখা যায়, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত টাটকা শাক-সবজি নিয়ে চাষীরা বাজার ভরিয়ে রেখেছে। কুতুপালং, বালুখালী, টেকনাফ ও হ্নীলা বাজার এলাকার সবজি ক্রেতারা এসব শাক-সবজি সূলভ মূল্যে কিনে যাচ্ছে তাদের স্ব স্ব বাজারে। স্থানীয়ভাবে প্রচুর শাক-সবজি উৎপাদিত হলেও বাজার কেন্দ্রিক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে নিত্য ব্যবহার্য জিনিস পত্রের দাম দিন দিন সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।

এদিকে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রমতে চলতি অর্থ বছরে রবি মৌসুমে ৭শ ৬০ হেক্টর জমিতে শাক সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা সামনে নিয়ে কৃষকদের শাক সবজির আবাদের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে সার ও কীটনাশক সহজলভ্য হওয়ায় এরং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এই বছর আগাম শাক সবজি আবাদ শুরু হয়েছে। বাজারে সবজি দাম ভালো আছে তাই কৃষকেরা সবজি চাষের কোমর বেঁেধ নেমে পড়েছে। এই উপজেলার হোয়াইক্য ইউপির কম্বনিয়া পাড়া, কাঞ্জর পাড়া, রইক্যং, হরিখোলা, লাতুরীখোলা, লম্বাঘোনা, আমতলী, হ্নীলা ইউপির রোজারঘোনা, মরিচ্যাঘোনা, পানখালী, লেচুয়াপ্রাং, উলুচামরী, আলীখালী, রঙ্গিখালী, দমদমিয়া, টেকনাফ সদর ইউপির রাজারছড়া, হাবিরছড়া, মিঠাপানিরছড়া, লেঙ্গুরবিল, লম্বরী, হাতিয়ারঘোনা, জাহালিয়া পাড়া, পল্লান পাড়া, মহেষখালীয়া পাড়া, কচুবনিয়া, ছোট হাবির পাড়া, বড় হবির পাড়া, বাহারছড়া ইউপির মনতলিয়া, শামলাপুর, শিলখালী, মাথাভাঙ্গা, বড় ডেইল, হাজম পাড়া, মারিশবনিয়া, নোয়াখালী, সাবরাং ইউপির ডেগিল্লারবিল, আলীরডেইল, বাহারছড়া, রুহুইল্ল্যার ডেবা, কচবনিয়াসহ উচু ও পাহাড়ি এলাকায় আগাম শীতকালীন শাক সবজি আবাদ ও উৎপাদন শুরু হয়েছে। শিক্ষিত বেকার যুবকেরা কৃষি কাজের প্রতি ঝুঁকছে। কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর টেকনাফের সার্বিক সহযোগিতায় মাঠ পর্যায়ে কৃষকের পাশে থেকে পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে কৃষির আবাদ বৃদ্ধিতে সার্বিক সহায়তা করা হচ্ছে।

উক্ত বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন ভোক্তভোগী জানান, উৎপাদিত স্থানে শাক-সবজির দাম কম হলেও সিন্ডিকেট ভিত্তিক ব্যবসায়ীদের কারণে অসহায়, খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম লাগামহীন উর্ধ্বমুখী হওয়ায় সাধারণ মানুষ তরি-তরকারী ও শাক-সবজির মূল্য নিয়ে চরম অস্বস্তিতে রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত বাজার মনিটরিং করলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমতে পারে বলে মত প্রকাশ করেন।

হোয়াইক্যং বøকের উপসহকারী কৃষি অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন,সরকার কৃষি খাত এবং কৃষকদের উন্নয়নে ব্যাপক পদক্ষেপ নিলেও সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়কেন্দ্রিক অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের ভয়ে অনেকে পাহাড়ি এলাকায় চাষাবাদে ভয় পাচ্ছে। তা না হলে স্থানীয় বাজারে আরো শাক-সবজির সরবরাহ বাড়ত বলে মনে করি।

উপসহকারী কৃষি অফিসার শফিউল আলম জানান,আমরা সরকারী আদেশে এবং উপজেলা কৃষি অফিসারের নির্দেশনাক্রমে পুরো উপজেলার শাক-সবজি চাষীদের বীজ,সার ও পরামর্শ দিয়ে কৃষি উৎপাদনে স্থানীয় চাষীদের উৎসাহ দিয়ে আসছি।

উপজেলা কৃষি অফিসার জাকিরুল ইসলাম জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কৃষি উৎপাদন বাড়ানো এবং কৃষকদের সার্বিক সহায়তার লক্ষ্যে প্রত্যন্ত এলাকায় কাজ করে যাচ্ছি। সূলভ মূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহের পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে উপসহকারী কৃষি অফিসার দিয়ে শাক-সবজি চাষীদের বিনামূল্যে বীজ, সার ও পরামর্শের দিয়ে যাচ্ছি। কোন শাক-সবজি বা ফসল রোগাক্রান্ত হচ্ছে কিনা তদারকি করছি। স্থানীয়ভাবে খাদ্য চাহিদা পূরণের পর বাহিরে রপ্তানী করে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য উৎসাহ যোগাচ্ছি। আমরা সকলে আন্তরিক হলে আমরাই চাষাবাদের মাধ্যমে আমাদের খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে পারব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ###