টেকনাফে কর্মসৃজন প্রকল্পে অনিয়ম-অনিয়ম-দুর্নীতি ও হরিলুট চলছে, দেখার কেউ নেই

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ২ years ago

জামাল উদ্দিন, টেকনাফ ( কক্সবাজার) প্রতিনিধি।
টেকনাফে  কর্ম সৃজন প্রকল্পে দুর্নীতি ও হরিলুট চলছে, দেখার কেউ নেই। তারই ধারাবাহিকতায় টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন প্রকল্পের আওতায় ১ ও ২ নং ওয়ার্ডের প্রকল্পেও চলছে হরিলুট ।
উপজেলায় প্রণীত শ্রমিক  তালিকার বাইরে গিয়ে কম সংখ্যক শ্রমিক  দিয়ে সংস্কার কাজ করানোর অভিযোগ  উঠেছে। কম সংখ্যক শ্রমিক কাজে নিয়োজিত থাকলেও বরাবরই সকল শ্রমিকের বিল পরিশোধ দেখিয়ে অনুপস্থিত শ্রমিকদের বিল মিলেমিশে লোপাট করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা প্রদান করা হলেও পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকে সেই টাকা কর্তন নিয়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সাথে শ্রমিকদের অতীতেও নানা দরকষাকষি ও অডিও রেকর্ড ভাইরাল হওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। তারই ধারাবাহিকতায় এইবারও হরিলুটের প্রক্রিয়া চলছে। শুধু তাই নয় কর্মসৃজনের শ্রমিকদের নিয়ে মেম্বারের বাড়ির কাজ সহ নানা ভাবে অনিয়ম ঘটে চলছে।
১অক্টোবর  ( রবিবার) সকাল ১০ টার দিকে হ্নীলা  ইউনিয়নের  ১ ও ২ নং ওয়ার্ড সংশ্লিষ্ট ২ টি প্রকল্পে  সরেজমিনে  গিয়ে দেখা গেছে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিচ্ছবি।
১,২ ও ৪ নং ওয়ার্ড  সংরক্ষিত  মহিলা মেম্বার রাহামা আক্তার ও ২ নং ওয়ার্ড মেম্বার বেলাল উদ্দীনের চলমান প্রকল্প নাইক্ষ্যংখালী বৃহত্তর কবরস্হান সংস্কার। এই প্রকল্পে সরকারী  তালিকা মোতাবেক ১২৯ জন শ্রমিক  থাকার কথা। তৎমধ্যে ৭৭ জন পুরষ শ্রমিক, ৫২ জন নারী শ্রমিক।
সরেজমিনে  গিয়ে দেখা যায়, দুই জনের প্রকল্পে শ্রমিক  কাজ করছে সর্বসাকুল্যে ৫০/৫৫ জনের মত। যদিও বা সংশ্লিষ্ট  কাজের মাঝি মো: আমীন ৭০/ ৮০ জন শ্রমিক আছে বলে দাবী করলেও দেখা যায়, ২০/৩৫ জনের মত পুরুষ শ্রমিক, ও ১৫/২০ জনের মত নারী শ্রমিক।  নারী শ্রমিক কে কোন কাজ না করে গাছের ছায়ায় বসে থাকতে দেখা গেছে। ১২৯ জনের মধ্যে দুই মেম্বারের  শ্রমিক  পাওয়া যায় ৫৫ জনের মত, আর বাকী শ্রমিক  গুলো কোথায়। এই নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
একই ভাবে ১ নং ওয়ার্ডের বশির মেম্বারের প্রকল্প রোজারঘোনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ফরিদুল হকের বাড়ি পযর্ন্ত রাস্তা সংস্কার । ঐপ্রকল্পে ৯৪ জন শ্রমিকের মধ্যে ৭১ জন পুরুষ ও ২৩ জন নারী শ্রমিক থাকার কথা থাকলেও সর্বসাকুল্যে পুরুষ ও নারী শ্রমিক  দেখাযায় ৪৫ জনের মত। ত্দ্মধ্যে পুরষ শ্রমিক ৩৫ জন,ও নারীশ্রমিক দেখা যায় ১০ জনের মত। তারাও দেখা গেছে উক্ত প্রকল্পের কাজ দিয়ে ব্যাক্তি মালিকানাধীন ভিটে ভরাট করতে। ঐ প্রকল্পের  শেড মাঝি কাদির হোসেন ও নবী হোসেন জানিয়েছেন একটা গরীব লোক ভীটাটা ভরাট করতে আমাদের নাস্তা খাওয়েছে তাই এটা একটু ভরাট করছি।বাকী শ্রমিকদের ব্যাপারে জানতে চাইলে  এদের কে মেম্বার বাড়ি দিকে নিয়ে গেছে বলে জানায়।
এবিষয়ে ১,২ ও ৪ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার  রাহামা বলেন,আপনারা সরেজমিনে গিয়ে যে ভাবে পেয়েছেন সেইভাবে লিখেন কি আর বলব। ১ নং ওয়ার্ড মেম্বার বশির আহমদ বলেন, আমি অসুস্হ তাই দেখা শুনা করতে পারছিনা ওখানে শেড মাঝি কে দায়িত্ব  দিয়েছি,তবে বাড়িতে শ্রমিক  নেয়ার বিষয়ে বলেন বাড়িতে একটা টিবউয়েলের কাজ চলছে তাই ৪/৫ জন শ্রমিক নিয়েছি।
২ নং ওয়ার্ড মেম্বার বেলাল উদ্দিন বলেন,আমাদের সাইট দুইটা তাই দুই দফায় ভাগ করে কাজ চলছে,  তবে দুই টা সাইটের কথা বললে ও একটি সাইটের  খোঁজ মেলেনি।
ট্যাগ অফিসার  আব্দুল করিম  বলেন, শ্রমিক  উপস্হিতির বিষয়ে আমরা মাঝি সহ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির  মাধ্যমে ব্যবস্হা নিচ্ছি, আগামী সপ্তাহ থেকে তালিকা অনুযায়ি  শ্রমিক  উপস্হিত হবে বলে আশা করছি। অন্যথায় নতুন ভাবে গরীব শ্রমিক  নিয়োগ দেয়া হবে।
উপজেলা প্রকল্পবাস্তবায়ন কর্মকর্তা ( পি আই ও) মো:  হাবিবুর রহমান বলেন, এবিষয়ে অফিস  চলাকালীন সময়ে অফিসে এসে  আমার সাথে কথা বলেন।