নিজস্ব প্রতিবেদক : চকরিয়া উপজেলার চিংড়িজোনের একটি মৎস্য প্রকল্প ও স্লুইচগেট দখলে নিতে হামলা-গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এসময় বাঁধা দিতে গিয়ে হামলায় বাবা-ছেলেসহ দুইজন আহত হয়েছে। ঘটনার সময় ওই মৎস্যঘের থেকে লুটে নিয়ে গেছে লাখ টাকার মাছ। বুধবার ভোরে উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিন ওমখালীস্থ সরকারী ২নং সুইচ গেইটের সংলগ্ন ১১-২০ একর জহিরা ঘোনা (এম.রহমান) মৎস্য প্রকল্পে ঘটেছে এ ঘটনা।
এদিকে মৎস্যপ্রকল্পে হামলা ও লুটের ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে সর্বত্রে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। এরই মধ্যে তদন্তে গিয়ে পুলিশের এসআই মাঈনুদ্দিন চৌধুরী পক্ষপাত মূলক আচরণ করায় জড়িতরা আস্কারা পেয়ে ফের দখলচেষ্ঠার পরিকল্পনা নিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মৎস্যঘের মালিক। এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকার মৎস্যঘের মালিক চাষী ও কর্মচারীদের মাঝে উদ্বেগ-আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ ঘটনায় উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের রামপুর গুরুইন্যাকাটা গ্রামের মৃত হাজী দুলা মিয়ার ছেলে মৎস্যঘের মালিক আলহাজ্ব আবদুর রহিম (৪৭) বাদী হয়ে গতকাল চকরিয়া থানায় একটি এজাহার জমা দিয়েছেন। এতে বিবাদি করা হয়েছে একই এলাকার আজিজুল হাকিম, তার ছেলে শরিয়ত উল্লাহ ও রাহামত উল্লাহ, মৃত মোজাহের আহামদের পুত্র জাফর আলমসহ আরো অজ্ঞাত ৭/৮ জনকে।
বাদী আবদুর রহিম অভিযোগে জানান, সাহারবিল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ ওমখালীস্থ সরকারী ২নং সুইচ গেইটের সংলগ্ন ১১.২০ একর জহিরা ঘোনা (এম.রহমান ঘোনা) মৎস্য প্রকল্পের তিনি বর্গা চাষা হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত মাছ চাষ করে আসছেন। কিন্তু স¤প্রতিসময়ে অভিযুক্তরা মৎস্য প্রকল্পে কোন মালিকানা না থাকা সত্তে¡ও সন্ত্রাসী ভাড়া করে জবর দখল করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে।
এনিয়ে তিনি (আবদুর রহিম) ইতোপুর্বে বাদী হয়ে উচ্চ আদালতে (হাইর্কোট) আসামিগণের বিরুদ্ধে একটি সিভিল রিভিশন মামলা (নং- ৬৯৩/১২) দায়ের করেন। ওই মামলা বিচারাধীন থাকাবস্থায় বিবাদিদের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্ট গত ৭মার্চ’২২ইং তারিখে নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রচার করেন।
বাদি আবদুর রহিম দাবি করেন, উচ্চ আদালতে আসামিগণের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আদেশ থাকলেও তা অবমাননা করে সর্বশেষ মঙ্গলবার ভোরে ১০-১২ জনের অস্ত্রধারী একটি দল জবরদখলের উদ্দেশ্যে মৎস্য প্রকল্পের খামার ঘরে ঢুকে হামলা চালায়। এসময় তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে বাদী আলহাজ্ব আবদুর রহিমকে (৪৭) গলা চেপে ধরে ও কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। আঘাতে তাঁর হাড়কাটা জখম হয়। ঘটনার সময় বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে ছেলে আলাউদ্দিন সম্রাট (২২) কেও ধারালো ছোরা ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করে জখম করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন চতুর্দিক থেকে এগিয়ে এসে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এরপর আহতদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
আহত মৎস্যঘের মালিক আবদুর রহিম অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার সময় হামলাকারীরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে লুট করে নিয়ে যায় নগদ ৮হাজার টাকা ও খামারে রক্ষিত ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ২ মণ বাগদা চিংড়ি, ২০ কেজি লইল্যা চিংড়ি ও ৩ মণ বিভিন্ন প্রজাতীর মাছ বোট ভর্তি করে লুটে নিয়ে যায়।
বিষয়টি প্রসঙ্গে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার বিষয়ে এজাহার পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানার এসআই মাঈন উদ্দিনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। শুনেছি, ঘটনায় জড়িতরা পরস্পর সহোদর। তাই দু’পক্ষকে নিয়ে আগামী শুক্রবার (১এপ্রিল) বৈঠকে বসার সিদ্ধান্তও হয়েছে। সমাধানের পথ বের না হলে মামলা নেওয়া হবে।##
