চকরিয়ায় বসত-ঘরে হামলা লুটপাট আহত-৫ ; মামলা তুলে নিতে ভীতি দেখানোর অভিযোগ!

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৪ years ago

নিজস্ব প্রতিবেদক : চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নে পুর্ব বিরোধের জেরে বসতঘরে ঢুকে হামলা ও লুটতরাজ চালিয়েছে। এসময় বাঁধা দিতে পরিবারের ৪ নারীসহ পাঁচজনকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা হলেও এজাহার নামীয় তদন্তের অজুহাতে কোন আসামি গ্রেফতার হয়নি। এ সুযোগে মামলার আসামিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। এরই জেরে পুনরায় বাদির বাড়িতে গিয়ে মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতি দেখিয়ে উঠানে পিলার স্থাপন করে চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। বরইতলী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের পহরচাদা সবুজপাড়া গ্রামে ঘটেছে এ ঘটনা।
অভিযোগে ভুক্তভোগী পরিবারটির গৃহকর্তা বরইতলীর পহরচাঁদার সবুজপাড়ার মৃত ইয়াকুব মিয়ার ছেলে আব্বাস আহমদ (৬৫) বলেন, তাঁর পরিবার দীর্ঘবছর যাবত পৈত্রিক বসতবাড়িতে শান্তিপুর্ণভাবে বসবাস করছেন। কিন্তু পুর্ব একটি বিরোধ নিয়ে গত ১৬ ফেব্র“য়ারী দুপুরে পাশের বাড়ির লোকজন লাঠিসোটা ও লোহার রড হাতে নিয়ে একযোগে তাঁর (বাদির) বাড়িতে ঢুকে হামলা ও ভাংচুর চালায়। এসময় তিনি ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে উল্টো হামলাকারীরা গালিগালাজ করতে করতে বাড়ির ভেতরে ভাংচুর শুরু করেন। তিনি এসময় বাঁধা দিতে গেলে তাকে সর্বশরীরে হাতুড়ি পেঠা করে আহত করা হয়।
ভিকটিম আব্বাস আহমদ অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার সময় তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা তাঁর স্ত্রী শামারু বেগম (৫৫), মেয়ে শাকেরা বেগম (১৭), দুই পুত্রবধু রাজিয়া বেগম (৩৪) ও জন্নাতুল মাওয়াকে (১৯) টানা-হেচঁড়া করে শ্লীলতাহাণি এবং একইভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরে ঘটনার খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এরপর আহত সবাইকে পেকুয়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হামলায় বাড়িতে স্বর্ণালঙ্কারসহ মালামাল লুট ও ভাংচুরের ঘটনায় প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে।
এ ঘটনায় আক্রান্ত পরিবারের গৃহকর্তা আব্বাস আহমদ বাদি হয়ে ১৭ ফেব্র“য়ারী চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি (সিআর ২৪১/২২) রুজু মামলা করেন। এজাহারে পাশের বাড়ির আক্তার আহমদ, তাঁর ছেলে ইরফান, মছনিয়ারকাটার হেলাল উদ্দিন, পহরচাদা সবুজপাড়ার মাকছুদ, মো.এহেছান, আক্তার আহমদের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, মেয়ে রিপা আক্তারসহ মোট সাতজনকে বিবাদি করা হয়েছে। বাদির নালিশী মামলা আমলে নিয়ে বিজ্ঞ আদালত বিষয়ের আলোকে তদন্তপুর্বক প্রতিবেদন দিতে চকরিয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ওসমান গনী বলেন, আদালতের নির্দেশক্রমে মামলাটি তদন্তের জন্য হারবাং পুলিশ ফাঁিড়তে দেওয়া হয়েছে। এসআই মানিক কুমার বর্তমানে এটি তদন্ত করছেন।
মামলার বাদি আব্বাস আহমদ বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা এক মিনিটের জন্যও আমাদের বাড়িতে আসেনি। এমনকি ঘটনার বিষয়ে জানতে আমাকে ফোনও দেয়নি। এই সুযোগে আসামিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন, আমাকে মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। কয়েকদিন আগে আমার বাড়ির উঠানে জোরপুর্বক পিলার স্থাপন করে আমাদের চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি করছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও হারবাং পুলিশ ফাঁিড়র এসআই মানিক কুমার বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন আছে। সঠিকসময়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এই পর্যন্ত বিষয়ের আলোকে বাদি-বিবাদিকে ডাকা হয়েছে কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত মানে বাদি-বিবাদিকে ডেকে বৈঠক করা বা বাদির বাড়িতে যেতে হবে এমন নির্দেশনা নেই। তবে বিবাদিপক্ষ নতুন কোন ঘটনা করলে বাদি আবারো আইনের আশ্রয় নিতে পারবে। ##