চকরিয়ায় টাকা চুরির অপবাদে গরম পানিতে ঝলসে দেওয়া হলো দুই কিশোরের শরীর : পৌর কাউন্সিলর গ্রেফতার

: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ১১ মাস আগে

এম জিয়াবুল হক :চকরিয়ায় টাকা চুরির অভিযোগ তুলে গরম পানিতে ঝলসে দেওয়া হয়েছে দুই কিশোরের শরীর। চকরিয়া পৌরসভার এক কাউন্সিলরের মাছের ঘেরে নিয়োজিত শ্রমিকের ছোড়া গরম পানিতে দুই কিশোরের শরীর ঝলসে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকাল আনুমানিক ছয়টার দিকে উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের রামপুর এলাকার ৪ নম্বর হোল্ডারে কাউন্সিলর আব্দুস সালামের মাছের ঘেরে ঘটনার সুত্রপাত হলেও কিশোরদের ঝলসানো শরীরের কয়েকটি ভিডিও চিত্র পরদিন রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগ (ফেসবুক) মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নড়চড়ে বসেন স্থানীয় প্রশাসন। অবশ্য এ ঘটনায় এক শিশুর দাদা বাদি হয়ে শনিবার রাতে চকরিয়া থানায় একটি এজাহার জমা দিয়েছেন।
এরই প্রেক্ষিতে ঘটনার দুইদিন পর চকরিয়া থানা পুলিশ গতকাল সোমবার দুপুরে মৎস্য ঘেরটির মালিক চকরিয়া পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুস ছালামকে আটক করেছে।

আহত দুই কিশোর হলেন চকরিয়া উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ঈদমনি লালব্রিজ এলাকার মোজাম্মেল হকের ছেলে মনির উদ্দিন (১৪) ও একই এলাকার মোহাম্মদ ইউছুফের ছেলে মোহাম্মদ সিফাত (১৬)। তারা চকরিয়া উপজেলা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

গতকাল ঘটনাস্থল রামপুর এলাকার মৎস্য ঘেরের নিয়োজিত কয়েকজন শ্রমিক বলেন, শুক্রবার (১৯ মে) দিবাগত রাত একটার দিকে চকরিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর আবদুস ছালাম নিয়ে দুটি ইঞ্চিন চালিত নৌকায় করে তার মাছের ঘেরে চোঁয়ারফাঁড়ি ঘাট থেকে মাছ ধরার শ্রমিক নিয়ে যায় কিশোর মনির উদ্দিন ও মো. সিফাত। পরে শ্রমিকদের পুনরায় চোঁয়ারফাঁড়ি ঘাটে আনতে হবে এজন্য কাউন্সিলরের মাছের ঘেরের পাশে নৌকা নোঙর করে ঘুমিয়ে পড়ে ওই দুই কিশোর।

নির্যাতনের শিকার দুই কিশোরের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, শনিবার ভোরে কাউন্সিলর আবদুস ছালাম নিজের শার্টের পকেট থেকে ১৮ হাজার ৬০০ টাকা চুরি করেছে এমন অজুহাত তুলে কিশোরদের মাছের ঘেরের টঙ ঘরে নিয়ে যান। এসময় আব্দুস সালামের নেতৃত্বে মো. ছাদেক ও মো. নাছির উদ্দিন নামের দুই ব্যক্তি ওই কিশোরদের ব্যাপক মারধর করে টাকা চুরির স্বীকারোক্তি নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে কিশোরেরা টাকা চুরির কথা স্বীকার না করায় কাউন্সিলর আব্দুস সালাম তাঁর শ্রমিক ছাদেককে দিয়ে কিশোরদের শরীরে গরম পানি ছুঁড়ে শাস্তি দিতে নির্দেশ দেন। এসময় ছাদেক গরম পানি ছুঁড়ে মারলে দুই কিশোরের শরীর ঝলসে যায়। পরে দুপুরের দিকে স্থানীয় লোকজন ও আত্মীয়-স্বজনেরা খবর পেয়ে ওই দুই কিশোরকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে।

এঘটনায় আহত কিশোর মনির উদ্দিনের দাদা আব্দুল কাদের বাদি হয়ে শনিবার (২০মে) রাতে একটি এজাহার জমা দিয়েছেন। এজাহারে পৌর কাউন্সিলর আব্দুস সালাম, তাঁর মাছের ঘেরের কর্মচারী মো. ছাদেক ও নাছির উদ্দিনকে আসামি করা হয়েছে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, দুই কিশোরকে নির্যাতন ও গরম পানিতে শরীর ঝলসে দেওয়ার ঘটনায় চকরিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর আবদুস ছালাম সহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। এ মামলায় কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গ্রেফতারের আগে চকরিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুস সালাম মোবাইল ফোনে বলেন, ওই দুই ‘কিশোরকে ভয়ভীতি দেখানোর পর একজন ( মনির উদ্দিন) টাকা চুরির কথা স্বীকার করেছে। এরপর আমি ঘের থেকে চলে আসি। তবে আসার সময় আমার কর্মচারীদের নির্দেশ দিয়ে আসি, যেন দুই কিশোরকে কোনধরনের মারধর করা না হয়।
তিনি বলেন, আমি ঘের থেকে চলে আসার আধাঘণ্টা পর শুনি, দুইজনের শরীর গরম পানিতে ঝলসে গেছে।’ সবাই বলছে, আমার কর্মচারী ছাদেক ঘটনাটি করেছে। ##