চকরিয়ায় কাল শতভাগ ভুমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত উপজেলা ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী ; মুজিববর্ষে নতুন ঘর পাচ্ছেন ৮৭৪ পরিবার

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৩ years ago

এম জিয়াবুল হক : চকরিয়ায় মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উপহার দুইশতক জমিসহ একটি করে নতুন বাড়ি পাচ্ছেন ৮৭৪ পরিবার। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে উপজেলার ৬৮২ ভুমিহীন পরিবারের মাঝে আনুষ্ঠানিক জমির দলিলসহ নতুন বাড়ি হস্তান্তর করেছে। সর্বশেষ চতুর্থপর্যায়ে নির্মিত অবশিষ্ট ১৯২টি নতুন বাড়ি উপকারভোগী পরিবারের মাঝে হস্তান্তর করা হচ্ছে। আগামী ২২ মার্চ বুধবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে চকরিয়া উপজেলার ভুমিহীন পরিবারগুলোর মাঝে জমির দলিলসহ নতুন বাড়ি হস্তান্তর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার (২০ মার্চ) দুপুরে চকরিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেপি দেওয়ান।

সংবাদ সম্মেলনে এসময় উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি মো রাহাত উজ জামান, চকরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার এসএম নাছিম হোসেন ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আবু হাসনাত সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও)জেপি দেওয়ান বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ তহবিলের বরাদ্দে চকরিয়া উপজেলার ভুমিহীন ৮৭৪ পরিবারের জন্য একটি করে নতুন বাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই আলোকে উপজেলা প্রশাসনের যাছাই বাছাই শেষে ২০১৭ সালের তালিকা অনুযায়ী উপজেলায় মোট ৮৭৪ টি পরিবারকে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে উক্ত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের আওতায় প্রথম পর্যায়ে সরকারি খাসজমিতে ১৮২ টি নতুন বাড়ি নির্মাণপুর্বক বরাদ্দ প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে আরও ৫০০ ভুমিহীন পরিবারের মাঝে জমির দলিল সহ নতুন বাড়ি বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও বলেন, সর্বশেষ চতুর্থ পর্যায়ে একইপ্রকল্পে অবশিষ্ট থাকা ১৯২ টি নতুন বাড়ি বর্তমানে নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। আগামী ২২ মার্চ বুধবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপকারভোগী পরিবারের মাঝে জমির দলিল সহ নতুন বাড়ি হস্তান্তর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও আরও বলেন, ইতোপূর্বে প্রথম দ্বিতীয় ও তৃতীয়পর্যায়ে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে হস্তান্তর করা বাড়িগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বসবাসরত পরিবার সদস্যদের স্বাবলম্বী করতে তিনটি সমিতি গঠন করা হয়েছে। আয়বর্ধক কর্মসুচি হিসেবে ১২৯টি পরিবারকে পুষ্টি বাগান প্রদর্শনীর মাধ্যমে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরে উপকারভোগী পরিবারের ৪৫ জন নারীপুরুষকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকারি ভাতার সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

চকরিয়ার ইউএনও জেপি দেওয়ান বলেন, বসবাসরত পরিবার সদস্যদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বেশিরভাগ পরিবারের নারীপুরুষকে মহিলা বিষয়ক ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রশিক্ষন ও সরকারি সেবার আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আশ্রয়ন প্রকল্প এরিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে আভ্যন্তরিন ও সংযোগ সড়কগুলো জিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রাক্কলন তৈরি পুর্বক স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে।