নিজস্ব প্রতিনিধি, টেকনাফ টুডে :
ইসলামি ব্যাংক টেকনাফ শাখায় গ্রাহকের ৬৫ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন ব্যাংকের ৩ কর্মকর্তা। এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে ইসলামি ব্যাংক টেকনাফ শাখায়। এ ঘটনায় ব্যাংকের ওই ৩ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে টেকনাফ থানা পুলিশ। তবে কোন গ্রাহকের এত বিপুল টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে সে সম্পর্কে কোন না দেয়ায় এ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।
টেকনাফ মডেল থানার এসআই মো: মঞ্জু জানান, গত বুধবার (১৫ নভেম্বর) অভিযুক্ত ৩জনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরন করা হয়। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট টেকনাফ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক তাদের কারাগারে পাঠিয়েছেন। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপ-পরিচালক দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় কক্সবাজার বরাবর ব্যাংক ব্যবস্থাপক কর্তৃক দায়েরকৃত এজাহারটি ফরোয়াডিং সহ প্রেরণ করা হয়েছে।
দুদক কার্যালয়ের উপপরিচালক মনিরুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানা থেকে আমাদের কাছে দায়েরকৃত এজাহারটি ফরোয়ার্ডিং করেছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দুদক হেড অফিসে অনুমতির আবেদন করা হয়েছে। অনুমতি আসলে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে দুদক কার্যক্রম শুরু করবে।
ইসলামি ব্যাংক টেকনাফ শাখার ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ অলতাফ হোসেন জানান, ব্যাংকের কয়েকজন গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে অভিযুক্ত ওই ৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তিনি বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে টেকনাফ থানা পুলিশ অভিযুক্ত ৩ কর্মকর্তাকে গত বুধবার গ্রেফতার করেন।
ব্যাংক ব্যবস্থাপকের দায়ের করা এজাহার থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ৬ নভেম্বর ইসলামি ব্যাংক টেকনাফ শাখায় একজন গ্রাহক তার হিসাবের স্থিতিতে গরমিল পাওয়ায় ব্যবস্থাপকের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন। উক্ত মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে তার হিসাবের স্থিতির গরমিলের ব্যাপারে যাচাই-বাছাই করে সত্যতা পায় ব্যবস্থাপক। একইভাবে ১২ নভেম্বর অন্য এক গ্রাহক তার হিসাবের স্থিতির ব্যাপারেও একই অভিযোগ করেন ব্যবস্থাপকের কাছে। সেটিও ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ অলতাফ হোসেন নিজ উদ্যোগে যাচাই-বাছাই করে সত্যতা পান।
ব্যবস্থাপক উক্ত অভিযোগ দুটির সত্যতা যাচাই-বাছাই করে দেখতে পান যে ওই ব্যাংকের কর্মকর্তা ঈমান হোসেন ও আজিজ আহমেদ জাবেদ তাদের ব্যাংক প্রদত্ত আইডি ব্যবহার করে পরস্পরে গ্রাহকের চেকবই জালিয়াতির মাধ্যমে ইস্যু করে এবং উক্ত চেকসমূহ ব্যবহার করে নগদ ও ট্রান্সফারের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রাহকদের হিসাব থেকে অবৈধভাবে টাকা উত্তোলন করেন। তাদের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন গ্রাহকের হিসাবে উক্ত টাকা স্থানান্তর করে। উক্ত জমাকৃত টাকা পরে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। এ বিষয়টি ব্যবস্থাপক নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রæত আঞ্চলিক প্রধানকে অবহিত করে নিরীক্ষার ব্যবস্থা করেন। উক্ত তদন্তে এ পর্যন্ত ব্যবস্থাপক সর্বমোট ৫৮ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা বিভিন্ন গ্রাহকের হিসাব হতে অননুমোদিত উত্তোলনের প্রমাণ পান।
এরই ভিত্তিতে ব্যাংকের কর্মকর্তা অভিযুক্ত ঈমান হোসেনকে ব্যবস্থাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন। অভিযোগকারী দুইজন গ্রাহকের হিসাবের গরমিলের ১৩ লক্ষ টাকা ব্যবস্থা করে তাদের অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে নিষ্পত্তি করেন।
অভিযুক্ত ঈমান হোসেন তার লিখিত বক্তব্যে সর্বমোট ৬৫ লক্ষ টাকা একই পদ্ধতিতে আত্মসাতের কথা স্বীকার করেন। অভিযুক্ত ঈমান হোসেন তার লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী সে নিজে ৩০ লক্ষ টাকা, আজিজ আহমেদ জাবেদ ৩০ লক্ষ টাকা এবং মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম ৫ লক্ষ টাকা পারস্পারিক যোগসাজশে মাধ্যমে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন।
অডিট টিম সমন্বয়ে পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে যে, অভিযুক্ত ঈমান হোসেন ৬৫ লাখ টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করলেও ব্যবস্থাপক এপর্যন্ত ৫৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা অননুমোদিত উত্তোলনের প্রমাণ পেয়েছেন। এই অবৈধ উত্তোলনের ক্ষেত্রে ঈমান হোসেন ও আজিজ আহমেদ জাবেদ যৌথভাবে তাদের ব্যাংক কর্তৃক প্রদেয় আইডি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে উক্ত লেনদেনগুলো সংঘটিত করেছেন। আরও কোন অবৈধ লেনদেন আছে কিনা অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এমতাবস্থায় অভিযুক্ত ৩ জনের সাথে এবং তাদের পরিবারের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করে ব্যবস্থাপক টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা ঈমান হোসেনের স্বীকারোক্তি মতে আরও ৫২ লক্ষ টাকা ফেরত দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। অবশেষে ব্যাংকের হেড অফিস থেকে সিদ্ধান্তমতে ব্যবস্থাপক অভিযুক্ত ৩ কর্মকর্তাকে চাকুরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।
