গর্জনিয়ায় ডাকাত মতলবকে হত্যার ঘটনায় লাইসেন্সধারী অস্ত্র লুট হওয়া নিয়ে তোলপাড়!

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago

নিজস্ব সংবাদদাতা : কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়ার পূর্ব থিমছড়ির গহিন জঙ্গলে গত সোমবার (২২ জুলাই) রাতে পরিকল্পিতভাবেই ডাকাত সদস্য আব্দুল মতলবকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্ত্রী সাজেদা বেগম। তাঁর দাবি ঘটনার দিন রাতে একই গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে ডাকাত আব্দুর রহিম আব্দুল মতলবকে শুকর শিকারের কথা বলে বাড়ি থেকে বের করেন। কিন্তু সকালে স্বামীর লাশের খবর পান। রহিমের নেতৃত্বেই তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের বলেন- খুন হওয়া আবদুল মতলবের বিরুদ্ধে রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় তিনটি ডাকাতির মামলা রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়- আব্দুল মতলব পশু শিকারের পাশাপাশি ডাকাতিও করতেন। তাঁর একটি অবৈধ অস্ত্রও ছিল। তবে প্রায় সময় গর্জনিয়ার বোমাংখিল গ্রামের বাসিন্দা ইলিয়াছ চৌধুরীর লাইসেন্সধারী বন্দুক ভাড়া এনে অবৈধ কর্মকান্ডে ব্যবহার করতেন। ঘটনার কয়েকদিন আগে ইলিয়াছ চৌধুরী নিজেই ডাকাত মতলবকে লাইসেন্সধারী বন্দুকটি দিয়ে যান। ঘটনার দিন রাতে মতলবকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা সেই লাইসেন্সধারী বন্দুকটিও লুট করেছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। এ ঘটনায় রামু উপজেলায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে রামুর গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির সহকারি উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মোনজুর এলাহী ও নূর উল্লাহ ভূঁইয়া বলেন- এ ঘটনা গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। লাইসেন্সধারী অস্ত্র অন্য কাউকে দেওয়া বেআইনি। ঘটনাটি সত্য হলে অবশ্যই শাস্তি ভোগ করতে হবে।

বৈধ অস্ত্র অবৈধ কাজে ভাড়া :
রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের বোমাংখিল গ্রামের বাসিন্দা ইলিয়াছ চৌধুরীর বিরুদ্ধে তাঁর লাইসেন্সধারী বন্দুকটি ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তার বৈধ অস্ত্রটি ব্যবহার হয়েছে জমি দখল, সীমানা প্রাচীর লুটপাট, অপহরণ, ডাকাতি ও হরিণ শিকারের মতো জঘণ্যকাজে। বোমাংখিল গ্রামের বাসিন্দা আমিন উল্লাহ অভিযোগে জানিয়েছেন- সম্প্রতি তাঁর ভোগ দখলিয় জমি দখলচেষ্টায় ইলিয়াছ চৌধুরী নিজেই অস্ত্র বহন করে নানা ধরণের হুমকি দিয়েছেন। থিমছড়ি এলাকার এক জনপ্রতিনিধি জানান- ডাকাত আব্দুল মতলবের সঙ্গে গভীর সখ্যতা ছিলো ইলিয়াছ চৌধুরীর। মতলবের সব ধরণের অবৈধ কর্মকান্ডে ইলিয়াছ চৌধুরীর লাইসেন্সধারী বন্দুক ব্যবহার হয়েছে। যার অন্যতম প্রামান ডাকাত মতলবের হাত থেকেই বন্দুকটি লুট হওয়ার ঘটনা।

অভিযুক্ত ইলিয়াছ চৌধুরীর কাছে এ ব্যাপারে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে (তাঁর ব্যক্তিগত নাম্বার ০১৮২০ ০৫৩০৬) সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া মাত্র সংযোগ কেটে দেন। এ প্রসঙ্গে রামু থানার উপরিদর্শক (এসআই) দেবব্রত রায় দীপ্ত বলেন- নিজের ইচ্ছায় লাইসেন্সধারী অস্ত্রের হাতবদল হলে আইনে কঠিন শাস্তির বিধান রয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।