Monday, January 17, 2022
Homeকক্সবাজারকক্সবাজার সৈকতে নারী-শিশুর জন্য ‘বিশেষ এলাকা’ উদ্বোধন

কক্সবাজার সৈকতে নারী-শিশুর জন্য ‘বিশেষ এলাকা’ উদ্বোধন

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : নারী পর্যটক ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর সমুদ্র সৈকতে নারী পর্যটকদের জন্য আলাদাভাবে চালু হলো ‘বিশেষ এলাকা’।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে সংরক্ষিত এ ‘বিশেষ এলাকা’টি উদ্বোধন করেছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ।

উক্ত ‘বিশেষ এলাকা’টিতে নারী পর্যটকদের জন্য রয়েছে আলাদা ড্রেসিং রুম ও লকার রুম। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে আসা নারী পর্যটকদের যাদের ইচ্ছা বা স্বেচ্ছায় ওই ‘বিশেষ এলাকা’য় প্রবেশ করতে পারবেন। এ জন্য ১০০ থেকে ১৫০ গজ এলাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

উদ্বোধন শেষে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ জানান, ‘কক্সবাজার পর্যটন এলাকা নারীবান্ধব করার জন্য সৈকতে নারীদের জন্য ‘বিশেষ এলাকা’ ঘোষণা করা হল। এতে নারী পর্যটকেরা স্বাচ্ছন্দ্যে সৈকত ভ্রমণ করতে পারবেন। সৈকতে নারীদের নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের বড় একটি অংশে নারীদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের মধ্যেও নারী পুলিশ রয়েছেন।

মামুনুর রশীদ আরও জানান, ‘হোটেল বা গেস্ট হাউজে যেন পর্যটকরা নিরাপদে থাকতে পারেন, এ ব্যাপারেও তারা ব্যবস্থা নিয়েছেন। মালিক ও পরিচালকদের সঙ্গে তারা বৈঠক করেছেন। হোটেল কর্মীদের এসব ব্যাপারে প্রশিক্ষণ ও সচেতন হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

নারী পর্যটকদের জন্য আলাদা বিশেষ জোন করার বিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সৈকতে বেশি ঝুঁকিতে থাকে নারী ও শিশুরা। এবার সেই ঝুঁকি কমবে। পর্যটকদের জন্য আগে থেকেই কাজ করছি। জনবল কম হলেও আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করে যাব।’

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের (টুয়াক) সভাপতি আনোয়ার কামাল বলেন, ‘সার্বিক নিরাপত্তা যেমন প্রয়োজন তেমনি আলাদা জোনেরও দরকার আছে। কারণ অনেকেই একটু আলাদা করে সমুদ্র স্নান করতে চায় তাদের জন্য এ জোন। নারী ও শিশুর সুরক্ষা নিরাপত্তা দুটিই এখানে বাস্তবায়ন করা হতে পারে।’

গত ২২ ডিসেম্বর রাতে স্বামী-সন্তান নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে আসা ধর্ষণের শিকার হন নারী পর্যটক। ধর্ষণের শিকার নারীর ভাষ্য, ‘স্বামী-সন্তান নিয়ে ওই দিন সকালে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে পৌঁছান। উঠেন শহরের হলিডে সি-ল্যান্ডের ২০১নং কক্ষে। ওই দিন বিকেলে স্বামী-সন্তানকে নিয়ে লাবণি বিচে যান। রাতে হোটেলে ফেরার পথে এক যুবকের সঙ্গে তার স্বামীর ধাক্কা লাগে। এতে স্বামীর সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে ওই যুবক।

বাধা দিলে তার সঙ্গেও তর্কে জড়ায় যুবক। ওই সময় আরও দুই যুবক ঘটনাস্থলে এসে হাজির হয়। তারা স্বামী-সন্তানকে ইজিবাইকে তুলে দিয়ে ওই নারীকে আলাদা করে ফেলে।

পরে ওই এলাকার একটি ঝুপড়ি ঘরে নিয়ে তিনজন ধর্ষণ করে। এরপর স্বামী-সন্তানকে হত্যার ভয় দেখিয়ে শহরের জিয়া গেস্ট ইন নামের একটি হোটেলে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় নারীর স্বামী বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আশিকুল ইসলাম আশিক, বাবু, জয় ও রিয়াজ উদ্দিনের নাম উল্লেখ করে আরও দুই-তিনজনকে অজ্ঞাত আসামি দেখানো হয়েছে। ওই মামলায় পুলিশ ও র‌্যাব পৃথক অভিযান চালিয়ে ৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ভ্রমণের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাত দফা নির্দেশনা দিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে বেঁধে দেয়া নির্দেশনায় রয়েছে-

১. সকল আবাসিক হোটেলে রুম বুকিং করার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শন ও জমা দিতে হবে।

২. আবাসিক হোটেলগুলোয় একটি অভিন্ন আদর্শ কর্মপদ্ধতি প্রণয়ন করতে হবে।

৩. প্রতিটি হোটেলে কক্ষ সংখ্যা, মূল্য তালিকা ও খালি কক্ষের সংখ্যা, রেস্তোরাঁয় খাবারের মূল্য তালিকা প্রকাশ্যে প্রদর্শন করতে হবে।

৪. প্রতিটি আবাসিক হোটেলে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করতে অথবা জোরদার করতে হবে।

৫. শহর এলাকায় বসবাসকারী স্থানীয় বাসিন্দাদের কক্ষ ভাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

৬. হোটেল-মোটেল বা গেস্ট হাউজের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষিত হতে হবে।

৭. সকল হোটেল-রেস্তোরাঁর নিবন্ধন করতে হবে।

RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments