কক্সবাজার পৌরসভাকে রেড জোন ঘোষনা, শুরু হচ্ছে ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago

কক্সবাজার প্রতিনিধি।
সংক্রমণের হার মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ায় কক্সবাজার পৌরসভাকে রেড জোন ঘোষনা করে শনিবার(৬জুন) মধ্যরাত থেকে কঠোর লকডাউনের ঘোষনা দিয়েছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মো. কামাল হোসেন। আগামী ২০ জুন রাত ১১টা ৫৯মিনিট পর্যন্ত এই লকডাউন কার্যকর থাকবে। শুক্রবার জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

লকডাউন কঠোরভাবে বাস্তবায়নে বেশ কিছু নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

জরুরী ঘোষণা, জরুরী ঘোষণা, জরুরী ঘোষণা

এতদ্বারা কক্সবাজার পৌরসভার সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানে যাচ্ছে যে, কোভিড-১৯ সংক্রমণ কার্যকর ও অধিকতর দক্ষতার সাথে নিয়ন্ত্রনে আনার লক্ষে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সমগ্র পৌরসভাকে রেড জোনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রেড জোনে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক বিবেচনায় আগামী ০৬ জুন ২০২০ খ্রি. রাত ১২.০০ ঘটিকা থেকে ২০ জুন ২০২০ খ্রি. রাত ১১.৫৯ ঘটিকা পর্যন্ত নিম্নবর্ণিত নির্দেশনা প্রদান করা হল।

১. রেড জোন এলাকায়-

ক) সকল প্রকার ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক গণজমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হল। সকল জনসাধারণ আবশ্যিকভাবে নিজ নিজ আবাসস্থলে অবস্থান করবে।

খ) সকল ব্যক্তিগত ও গণপরিবহণ বন্ধ থাকবে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বহনকরী হালকা ও ভারী যানবাহন রাত ৮.০০ ঘটিকা থেকে সকাল ৮.০০ পর্যন্ত ঘটিকা পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে। কোভিড ১৯ মোকাবেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত বেসরকারি গাড়ি চলাজচলে জেলা প্রশাসকের অনুমতি গ্রহণ করবে। এম্বুলেন্স, রোগী পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ব্যত্তিবর্গের (অনডিউটি) পরিবহন, কোভিড ১৯ মোকাবেলা ও জরুরী সেবা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের গাড়ি এর আওতার বাইরে থাকবে।

গ) সকল প্রকার দোকান, মার্কেট, বাজার, হাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। কেবলমাত্র রবিবার ও বৃহস্পতিবার কাঁচা বাজার ও মুদি দোকান স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে সকাল ০৮.০০ ঘটিকা থেকে বিকাল ০৪.০০ ঘটিকা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। ঔষধের দোকান এর আওতার বাইরে থাকবে।

ঘ) কেবলমাত্র কোভিড ১৯ মোকাবেলা ও জরুরী সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে খোলা থাকবে। কেবলমাত্র রবিবার ও বৃহস্পতিবার ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ খোলা থাকবে। সকল হাসপাতাল, চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও কোভিড ১৯ মোকাবেলায় পরিচালিত ব্যাংকিং সেবা প্রদান এর আওতার বাইরে থাকবে।

ঙ) জরুরি সংবাদ সংগ্রহের জন্য নির্বাচিত সংবাদকর্মীদের রেড জোনে কাজ করার নিমিত্ত কক্সবাজার প্রেস ক্লাব কর্তৃক প্রদত্ত ছবিযুক্ত বিশেষ পরিচিতি পত্র দৃশ্যমান অবস্থায় গলায় ঝুলানো থাকা সাপেক্ষে এবং কোভিড ১৯ মোকাবেলায় রেড জোনে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবীদের উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কক্সবাজার সদর কর্তৃক প্রদত্ত ছবিযুক্ত বিশেষ পরিচিতি পত্র দৃশ্যমান অবস্থায় গলায় ঝুলানো থাকা সাপেক্ষে কাজ করার অনুমতি দেয়া হবে।

চ) সকল প্রকার গণপরিবহন টার্মিনাল রেড জোনের বাইরে স্থানান্তর করতে হবে।

ছ) প্রকাশ্য স্থানে বা গণজমায়েত করে কোন প্রকার ত্রাণ, খাদ্য সামগ্রী বা অন্য কোন পণ্য বিতরণ করা যাবে না।

এতদ উদ্দেশ্যে গঠিত ওয়ার্ড কমিটিসমূহ নির্দেশনাবলী কঠোরভাবে বাস্তবায়নে দায়িত্বপালন করবে।
কোভিড ১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধে জনস্বার্থে এ নির্দেশনা প্রদান করা হল।

এর আগে বৃহস্পতিবার করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় কক্সবাজার পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০টি ওয়ার্ডকে রেডজোন হিসাবে চিহ্নিত করা হলেও আজ শুক্রবার গোঠা পৌরসভাকে রেড জোন হিসাবে চিহ্নিত করে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

একিভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি ইতিমধ্যে জেলাকে ৩টি জোনে বিভক্ত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এতে জেলার ৮টি উপজেলা ও ৪টি পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের অতি সংক্রমিত এলাকা গুলোকে রেড জোন, এরপর সংক্রমিত এলাকাকে ইয়েলো জোন এবং যেখানে কোন সংক্রমণ হয়নি সেসব এলাকাকে গ্রীণ জোন হিসাবে চিহ্নিত করে প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। সেসব এলাকায় কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে।

প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে কমিটি থাকবে। পৌরসভার কাউন্সিলর ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মেম্বাররা হবেন সে কমিটি প্রধান। এছাড়া প্রত্যেক ওয়ার্ড থেকে যুবক ও ছাত্রদের’কে নিয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করা হবে।

কমিটিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট, সেনাবাহিনীর সদস্যবৃন্দ, পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ সার্বিক সহযোগিতা করবেন।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন আরো জানান, জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৮৭২ জন (০৩ জুন পর্যন্ত)। এরমধ্যে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৪০ জন। ১৮ জন মৃত্যুবরন করেছেন এবং ৬১৪ জনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। জেলায় মোট ৩৫৬৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে এবং ৮৩৭ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আনা হয়। ২৫১২ জন কে কোয়ারেন্টাইন হতে ছাড়পত্র দেয়া হয়। অপরদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৩৫ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে একজন।