Thursday, January 20, 2022
Homeকক্সবাজারকক্সবাজার ছেড়ে চট্টগ্রাম বন্দরে মালয়েশিয়ান ত্রাণবাহী জাহাজ

কক্সবাজার ছেড়ে চট্টগ্রাম বন্দরে মালয়েশিয়ান ত্রাণবাহী জাহাজ

টেকনাফ টুডে ডেস্ক :
বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ নিয়ে আসা জাহাজ কক্সবাজারে ভিড়তে পারেনি। সোমবার দুপুরের দিকে মালয়েশিয়ার ত্রাণবাহী এই জাহাজটি কক্সবাজারের মহেশখালী চ্যানেলে নুনিয়াছড়া পয়েন্টে পৌঁছে নোঙ্গরও করেছিল। কিন্তু যোগাযোগ সমস্যার কারণে ত্রাণগুলো খালাসে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় বিকেলে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে ফিরে গেছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
জেলা প্রশাসক জানান, মিয়ানমারে সেনা-পুলিশের নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য মালয়েশিয়া সরকারের পাঠানো ত্রাণসামগ্রী কক্সবাজার থেকে গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
তিনি জানান, পূর্ব সিডিউল মতে ত্রাণবাহী জাহাজটি কুতুবদিয়া বহি: সমুদ্রে নোঙ্গর করার কথা ছিল। কিন্তু যোগাযোগ সুবিধার্থে তা মহেশখালী চ্যানেলের নুনিয়ারছরা বিএমডাব্লিউ ঘাট পয়েন্টে সোমবার সকালের দিকে নোঙ্গর করে। কথা ছিল আগামীকাল মঙ্গলবার দুপুরের দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রাণগুলো জেলা প্রশাসন বুঝে নিয়ে খালাস করার কথা ছিলো। কিন্তু আবারো ডিসিশন বদলানো হয়েছে। বিকেলেই জাহাজটি নোঙ্গর তুলে চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে গেছে। সেখান থেকেই মালামালগুলো খালাস করা হবে।

জানা গেছে, এর আগে এই জাহাজটি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের জন্য জরুরি খাদ্য ও অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে মিয়ানমারে গিয়েছিল। এসময় জাহাজটি মিয়ানমারের প্রতিবাদের মুখে পড়ে। এরপরও মিয়ানমারে ৫০০ টন ত্রাণ নামিয়ে, বাকি ২ হাজার ২০০ টন ত্রাণ বাংলাদেশে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের জন্য নিয়ে আসা হয়েছে। সে মতে সোমবার জাহাজটি কুতুবদিয়া আসার সমুদ্রে আসার কথা ছিল এবং এসে কক্সবাজার নোঙ্গর করার পর আবার চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে চলে গেছে। বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নোঙর করা জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজে করে আনা ত্রাণসামগ্রী ট্রাকে করে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের জন্য নেয়া হবে। আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা (আইওএম) এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এসব ত্রাণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিতরণ করবে। আইওএম‘র কক্সবাজারের এক কর্মরতা নাম না প্রকাশের শর্তে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ অক্টোবর মিয়ানমার মংডু সীমান্তে বিজিপির তিনটি পুলিশ ক্যাম্পে দূর্বৃত্ত হামলা হয়। সেখানে ৯ পুলিশ মারাযায় এবং বেশ কিছু অস্ত্র লুট হয় বলে দাবি করে মিয়ানমার সরকার। এরপরই অপরাধীদের আশ্রয় দেয়া এবং হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাখাইন রাজ্যের বেশ কয়েকটি গ্রামে সেদেশের সেনা ও পুলিশ যৌত অভিযান চালিয়ে পৈচাশিকতা চালায়। এতে অগণিত রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হন। পুড়িয়ে দেয়া হয় অর্সখ্য বাড়িঘর। এতে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। নব্বই দশকের শুরু থেকে রেজিস্টার ও আনরেজিস্টার মিলে আরো চর-পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে।

এদিকে, শুরু থেকে নিপীড়ন ও হত্যা যজ্ঞের প্রতিবাদ করে আসছিল মালয়েশিয়া সরকার। এ ব্যাপারে একসাথে প্রতিবাদ জানাতে বিশ্বমুসলিম রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহবানও জানান মালয়েশিয়া রাষ্ট্রপ্রধান। মিয়ানমারে রাখাইন প্রদেশে নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিমদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব আব্দুল রাজাক। যার প্রমাণ সরূপ ত্রাণবাহি এ জাহাজটি পাঠানো বলে মন্তব্য কূটনৈতিক মহলের।

RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments