Thursday, January 20, 2022
Homeউখিয়াউখিয়া-টেকনাফে রোহিঙ্গাদের একদিনের জন্যও চাই না”

উখিয়া-টেকনাফে রোহিঙ্গাদের একদিনের জন্যও চাই না”

মুহাম্মদ হানিফ আজাদ, উখিয়া :
কক্সবাজারের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন রাখার লক্ষ্যে সরকার মিয়ানমার থেকে এদেশে অনুপ্রবেশ করা উখিয়া টেকনাফে অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের নোয়াখালীর হাতিয়ার ঠেঙ্গার চরে নিয়ে যাওয়ার যে সিন্ধান্ত নিয়েছে তাকে স্বাগত জানিয়েছে উখিয়া-টেকনাফের জনগণ, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজ। একদিনের জন্যও চাই না রোহিঙ্গাদের। রোহিঙ্গারা স্থায়ী ভাবে ক্যাম্পে থাকতে পারলে সীমান্ত এলাকায় জঙ্গির আস্থানা গড়ে তোলার আশংকা রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পে অবস্থান করা রোহিঙ্গা নেতারা বিভিন্ন ভাবে প্রভাবশালী নেতা, এনজিও সংস্থা ও আন্তজার্তিক সম্প্রদায়ের কাছে ধর্ণা দিচ্ছে। ইংরেজীতে পারদর্শী রোহিঙ্গারা বাংলাদেশী মোবাইল কোম্পানীর সিম ব্যবহার করে ই-মেইল সহ তথ্য প্রযুক্তির বিভিন্ন মাধ্যমে আন্তজার্তিক ভাবে লবিং করে যাচ্ছে। ফলে ঠেঙ্গার চরে না যাওয়ার জন্য বহিঃবির্শ্বের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করছে সরকারকে। কেন রোহিঙ্গারা ঠেঙ্গার চর যেতে চাচ্ছেনা। বিশেষ করে বিপুল পরিমান রোহিঙ্গা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। তাছাড়া কেউ স্থায়ীভাবে ব্যবসা করছে, কেউ করেছে বিয়ে। মানবপাচার সহ বেশীর ভাগ রোহিঙ্গা জড়িয়ে গেছে ইয়াবা বানিজ্যে।
টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস কে আনোয়ার জানান, এপার-ওপারে রোহিঙ্গাদের অনেকেই ইয়াবা ব্যবসার নিয়ন্ত্রক। তাই ঠেঙ্গার চরে নিয়ে গেলে সবচেয়ে বিপদে পড়বে তারা। এজন্য প্রভাবশালী রোহিঙ্গা নেতাদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ভাবে লবিং এর জন্য মোটা অংকের টাকার মিশন নিয়ে নেমেছে রোহিঙ্গারা। তাদের উদেশ্যে, যে করেই হোক, রোহিঙ্গাদের ঠেঙ্গার চরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা টেকাবে তারা। যদি রোহিঙ্গারা উখিয়া-টেকনাফে বসবাস করে মারাত্মক আইন শৃংখলার অবনতি ঘটবে। তারা অত্যন্ত দুধর্ষ। হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহামদ আনোয়ারী জানান, সম্প্রতি উখিয়ার কুতুপালং ও টেকনাফের নয়াপাড়া ক্যাম্প ও বস্তিতে আইএমও, মুক্তি, এমএসএফ হল্যান্ড, এসিএফ, মুসলিম এইড ও শেড, শেফ সহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থা রোহিঙ্গাদের জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ করে যাচ্ছে। ফলে এসব এনজিও গুলোও চাচ্ছেনা রোহিঙ্গাদের ঠেঙ্গার চরে না নেওয়ার জন্য। তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গারা উখিয়া-টেকনাফের ক্যাম্প গুলোতে বসবাস করলেও তারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অপরাধ মূলক কর্মকান্ড করছে। উখিয়া উপজেলার রতœাপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরী জানান, উখিয়া এবং টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প হওয়ায় তারা সহজেই এপার ওপারে যেতে পারে। নির্বিঘেœ মাদক, ইয়াবা, অপরাধ মূলক কর্মকান্ড করে পার পেয়ে যায়। তাই একদিনের জন্যও রোহিঙ্গাদের উখিয়া-টেকনাফে থাকা ভাল মনে করছিনা। রোহিঙ্গারা দেশের হুমকি স্বরূপ। তাই যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের হাতিয়ায় নিয়ে গেলে উখিয়া-টেকনাফের লোকজনের সুফল হবে। হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ শাহ আলম জানান, সরকার রোহিঙ্গাদের টেঙ্গার চরে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে আমরা সরকারকে স্বাগত জানাচ্ছি। আইন শৃংখলা বাহিনীর মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের অতি দ্রুত নোয়াখালীর হাতিয়ার ঠেঙ্গার চরে নিয়ে যাওয়া হোক। পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, রোহিঙ্গারা এদেশের জন্য বিষ ফোঁড়া। তারা ইয়াবা, মাদক সহ ক্যাম্পের অভ্যন্তরে সবকিছু করে যাচ্ছে। রোহিঙ্গারা এদেশের শ্রম বাজারকে গিলে খাচ্ছে। তাই তড়িগড়ি করে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে রোহিঙ্গাকে ঠেঙ্গার চরে নিয়ে গেলে উখিয়া-টেকনাফবাসীর স্বস্তির নিশ্বাস ফিরে পাবে।
জানা গেছে, ১৯৯১ সালে উখিয়া টেকনাফ সীমান্তে নাফ নদী অতিক্রম করে মিয়ানমারের প্রায় আড়াই লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নাগরীক স্বপরিবারে উখিয়া, টেকনাফ ও রামু উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়। এ সময় সরকার আশ্রয় কেন্দ্র খোলে এসব রোহিঙ্গাদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করে। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ২ লক্ষ ৩৬ হাজার ৫৯৯ জন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরৎ পাঠাতে সরকার সক্ষম হলেও ২০০৫ সালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বন্ধ হয়ে যায়। যার ফলে উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরে প্রায় ৩২ হাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান করছে। যেসব রোহিঙ্গারা রেজিষ্ট্রেশনের আওতায় এসে সরকারী সাহায্য সহযোগীতা ভোগ করার পাশাপাশি সীমান্ত অতিক্রম করে দেড় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা উখিয়া ও টেকনাফ রোহিঙ্গা শিবিরের এবং বস্তিতে অবস্থান করছে। সরকারী বনভুমির জায়গা দখল করে অবস্থান নেয়া এ রোহিঙ্গারা চুরি ডাকাতি সহ নানা অপরাধ কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হয়ে এসব রোহিঙ্গারা সামাজিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করে তুলেছে। হাতাহাতি, মারামারি, খুন এদের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা বস্তি এলাকা হয়ে উঠেছে মাদাক সেবীর ও মাদক পাচারের নিরাপদ আস্তানা হিসাবে। এখানে হাতবাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা সহ নানা রকমের মাদক দ্রব্য। উখিয়া-টেকনাফের বস্তি হয়ে মিয়ানমারের তৈরী ইয়াবার চালান ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে। র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা রোহিঙ্গা বস্তিতে বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়ে ইয়াবা সহ পাচারকারীদের গ্রেফতার করলেও থেমে নেই ইয়াবা ব্যবসা।
সম্প্রতি র‌্যাব অভিযান চালিয়ে টেকনাফের নয়াপাড়া ক্যাম্পে আনসার কমান্ডার হত্যা ও অস্ত্র লুটের ঘটনায় জড়িত ৩ রোহিঙ্গা সহ ১০টি অবৈধ অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গুলা বারুদ উদ্ধার করে ঘুমধুমের গহীন অরণ্য থেকে। ঐ সময় র‌্যাবের মহা-পরিচালক বেনজির আহমদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন রোহিঙ্গারা অত্যন্ত দুধর্ষ ও সন্ত্রাসী। এসব রোহিঙ্গাদের ছড়িয়ে ছিটিয়ে কোন এক জায়গায় নিয়ে যাওয়া সরকারের উচিত। সরকারি দায়িত্বশীল গুয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে উখিয়ার কুতপালং এর একটি পাহাড়ি মাঠে ৩৫০ জন যুবক রাতের আধারে সশস্ত্র ট্রেনিং নিচ্ছে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোহিঙ্গা নেতা একথা স্বীকার করে বলেন, মাগরিবের নামাজের পরে গহীন রাত পর্যন্ত এ যুবকরা রেজিষ্ট্রার্ট ক্যাম্পের হাফেজ সাইফুল, মাওলানা জালাল, মোঃ ইলিয়াছ, মোঃ ছলিম, আতা উল্লাহ, মৌঃ হাবিব উল্লাহ মাদ্রাসা পার্শ্বে এ অস্ত্রের ট্রেনিং নেওয়া হচ্ছে।

RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments