Monday, January 17, 2022
Homeউখিয়াউখিয়ায় পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং তীব্র আকার ধারণ করেছে

উখিয়ায় পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং তীব্র আকার ধারণ করেছে

আজ থেকে শুরু হওয়া এস এস সি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা বিপাকে

রফিক মাহমুদ, উখিয়া :
উখিয়ায় পল্লী বিদ্যুৎতের ভয়াবহ লোড শেডিংয়ের মাত্রা তীব্র আকার ধারণ করেছে। লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া এস এস সি ও সমমানের ২হাজার ২শত ৪৪জন শিক্ষার্থীসহ উখিয়ার প্রায় ২ লক্ষ অধিক সাধারণ মানুষ ও কৃষকেরা। প্রতিদিন কমপক্ষে ২০ বারের অধিক লোডশেডিং হচ্ছে। লোডশেডিং এর কারনে চলতি বছরের আজ থেকে শুরু হওয়া এস এস সি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা বিদ্যুৎ যন্ত্রনায় শিকার হয়ে তাদের লেখাপড়ার মারাত্বক ক্ষাতি হচ্ছে বলে সচেতন অভিবাবকগণ অভিযোগ করেছেন। বলতে গেলে পরীক্ষার্থী ও অভিবাবকদের মাঝে এক প্রকার হতশা দেখা দিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহকরা জানান, বছরের শুরুতে এই ধরনের পল্লী বিদ্যুৎতের লোড শেডিং একপ্রকার অসনী সংকেত বলে মনে করছেন তারা। ২৪ ঘন্টার মধ্যে ২/৩ ঘন্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। কিছুক্ষণের জন্য বিদ্যুৎ আসলেও ঘন্টার পর ঘন্টা চলে যায় বিদ্যুৎ বিহীন। বিদ্যুৎতের আসা যাওয়া নিয়মে পরিনত হয়েছে। এ হচ্ছে উখিয়ার পল্লী বিদ্যুতের নমুনা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বুরো মৌসুমের শুরু থেকে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবারহ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি এস এস সি পরীক্ষার্থীদের পড়ালেখার বিঘœ না ঘটার জন্য এমনকি খোদ প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবারহ বজায় রাখার জন্য নির্দেশ দেন। কিন্তু উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম উক্ত নির্দেশ কে অমান্য করে ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ লোড শেডিংয়ের নামে পুরো এলাকা অন্ধকারে রেখেছে। শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করছে কূপির বাতিতে। শুধু তাই নয় বিদ্যুৎ সরবারহ না থাকায় সেচ পাম্প বন্ধ থাকার কারণে মাঠ জুড়ে শুরু হওয়া বুরো মৌসুমের চাষাবাদের বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। পানির অভাবে কৃষকেরা জমিতে চেষ দেওয়া বিলম্ভ হচ্ছে।
এদিকে অভিভাবকগণ জানান, আজ থেকে এস.এস.সি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুতের যন্ত্রণায় হাজার হাজার শিক্ষার্থীর লেখা পড়ায় মারাতœক ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শত শত শিক্ষার্থী পাঠদান করতেও হিমসিম খাচ্ছে। পালং আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও রতœাপালং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, বিদ্যুৎ লোড শেডিংয়ের নামে পুরো ব্যবসা বাণিজ্য অচল হয়ে পড়েছে। পরীক্ষার্থীদের লেখাপড়া মারাত্বক ক্ষাতি হচ্ছে। সারাদিনে মিলে ২ ঘন্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। তিনি আরও বলেন, অনন্ত পক্ষে পরীক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে পল্লী বিদ্যুৎ কতৃপক্ষ পরীক্ষা চালাকালীন সময়ে নিবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ রাখার দাবি জানাচ্ছি। নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, বর্তমান সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন ও জনগণকে উত্তেজিত করতে উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কতৃপক্ষ লোডশেডিং এর নামে তালবাহনা করে যাচ্ছে।
উখিয়া উপজেলা কৃষক লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন বলেন, পরীক্ষার শুরুতে পল্লী বিদ্যুৎতের এই অবস্থা হলে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়া-লেখার ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তাছাড়া চলতি মৌসমের কৃষকদের চাষাবাদ নিয়েও শংখ্যা রয়েছে।
কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম এর এই নাম্বারে ০১৭৬৯৪০০০২৩ ফোন করা হলে ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments