উখিয়ায় জমজমাট অবৈধ ফার্মেসী বাণিজ্য

: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago

অালমগীর অালম নিসা, উখিয়া :
কক্সবাজারে উখিয়ার আনাচে কানাছে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অবৈধ ফার্মেসী। আর এসব ফার্মেসীতে ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই বিক্রি হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক সহ ঝুঁকিপূর্ণ ওষুধ সামগ্রী।

বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক গড়ে উঠা ফার্মেসী গুলোতে দেখা গেছে, যিনি ওষুধ বিক্রেতা তিনিই ফার্মাসিষ্ট, আবার একই ব্যক্তি চিকিৎসক সেজে ওষুধ প্রেসক্রাইব করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন গতকাল ২৩ এপ্রিল রোববার কুতুপালং ক্যাম্প এলাকায় অভিযান শুরু করলে অধিকাংশ ফার্মেসী বন্ধ করে মালিকেরা সটকে পড়েছে।

ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তথ্য মতে দেশে বর্তমান ১ লাখ ২৫ হাজার নিবন্ধিত ওষুধের দোকান রয়েছে। এর বাইরে প্রায় ১৮ হাজার ফার্মেসীর কোন বৈধতা নেই। অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি অনুমোদনহীন ওষুধ দোকান গুলো বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ওষুধ প্রশাসন প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

গত ৪ এপ্রিল ওষুধ প্রশাসন কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশিকা অনুযায়ী কমপক্ষে একজন ¯œাতক ডিগ্রী ধারী ফার্মাসিষ্ট ওষুধের দোকানে থাকতে হবে। তাকে সহযোগীতা করার জন্য বাংলাদেশ ফার্মাসিষ্ট কাউন্সিল থেকে ডিপ্লোমাধারী ফার্মাসিষ্ট ওষুধ বেচা কেনার জন্য জড়িত থাকতে পারবেন।

জাতীয় ওষুধ নীতিতে উল্লেখ করা হয়েছে ৩৯টি ওষুধ ছাড়া কোন ওষুধ ব্যবস্থাপত্র বিহীন বিক্রি করা যাবে না। তাছাড়া ওষুধের দোকানের ভিতরে তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রী সে: নীচে রাখার ব্যবস্থা রাখতে হবে। যাতে ওষুধের গুণগত মান সঠিক থাকে।

এছাড়া নিবন্ধনহীন ওষুধ, সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসককে দেয়া নমুনা ওষুধ বিক্রি করা যাবে।
সরেজমিন কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের বাজারে ঘুরে দেখা যায়, প্রায় শতাধিক ওষুধের দোকানে মুদির দোকানের আদলে ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে। এসব দোকানে ওষুধ বিক্রির সাথে জড়িত এমন কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশ ওষুধ বিক্রেতা রোহিঙ্গা নাগরিক। যারা বাংলায় লেখা এবং পড়তে পারে না।

ওষুধ বিক্রেতা রোহিঙ্গা নাগরিক আব্দুল খালেক নামের এক রোহিঙ্গা ওষুধ ব্যবসায়ী নিজে প্রেসক্রাইব করে এক মহিলাকে ইনঞ্জেকশন পুশ করতে দেখা গেছে। জানতে চাওয়া হলে ওই রোহিঙ্গা জানান, এটা ভিটামিন জাতীয় ইনঞ্জেকশন। প্রায় মহিলারা এ ইনঞ্জেকশন ব্যবহার করে।

ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ওষুধ বিক্রি বন্ধ এবং ওষুধের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে দেশের ওষুধের দোকান গুলো আধুনিকায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্টদের মতে এ উদ্যোগ সফল হলে মান সম্পন্ন ওষুধ পাওয়া এবং ওষুধের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

উখিয়া উপজেলা ফার্মেসী ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ডা: আব্দুল জাব্বার জানান, এখানকার অধিকাংশ ফার্মেসীর বৈধতা নেই। বৈধতা থাকলেও ফার্মাসিষ্ট নেই। অনেকেই আবেদন করে ডাক্তার সেজে রীতিমত প্রেসক্রাইব করে ওষুধ বিক্রি করছে। এদের আইনের আওতায় আনা না হলে অবৈধ ওষুধ বাণিজ্য বন্ধ করা সম্ভব নয়।