আজ বাউল শাহ আবদুল করিমের মৃত্যু দিবস

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৪ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : ২০০৯ সালের এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন বাউল শাহ আবদুল করিম। ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই থানার ধলআশ্রম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা ইব্রাহীম আলী, মায়ের নাম নাইওরজান। দারিদ্র্য ও জীবন-সংগ্রামের মধ্যে বড় হওয়া শাহ আবদুল করিমের সংগীত সাধনার শুরু ছেলেবেলা থেকেই। ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনের সুখ-প্রেম-ভালোবাসার পাশাপাশি তার গান কথা বলে অন্যায়, অবিচার, কুসংস্কার আর সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে। দারিদ্র্যের কারণে কৃষিকাজ করলেও গান সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখা যায়নি। তিনি বাউলগানের দীক্ষালাভ করেছেন সাধক রশীদ উদ্দীন, শাহ ইব্রাহীম মাস্তান বকশের কাছ থেকে। তিনি শরিয়তি, মারেফতি, দেহতত্ত্ব, গণসংগীতসহ বাউলগান এবং গানের অন্যান্য শাখার চর্চাও করেছেন। স্বশিক্ষিত বাউল শাহ আবদুল করিম পাঁচ শতাধিক গান লিখেছেন এবং সুরারোপ করেছেন। বাংলা একাডেমির উদ্যোগে তার ১০টি গান ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে। কিশোর বয়স থেকে গান লিখলেও কয়েক বছর আগেও এসব গান শুধু ভাটি অঞ্চলের মানুষের কাছেই জনপ্রিয় ছিল। তার মৃত্যুর কয়েক বছর আগে বেশ কয়েকজন শিল্পী বাউল শাহ আবদুল করিমের গানগুলো নতুন করে গেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করলে তিনি দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন। বাউল শাহ আবদুল করিম ২০০১ সালে একুশে পদক লাভ করেন। তাকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে প্রামাণ্যচিত্র ‘ভাটির পুরুষ’। তাকে নিয়ে শাকুর মজিদের লেখা ‘মহাজনের নাও’ নাটকের প্রদর্শনী করেছে সুবচন নাট্য সংসদ।