অসহনীয় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিং এর কবলে উখিয়া-টেকনাফবাসী : ভৌতিক বিলের ঝাতাকলে গ্রাহকগণ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী, স্টাফ রিপোটার, টেকনাফ :
দেশের সর্বদক্ষিণ পূর্ব সীমান্ত উপজেলা উখিয়া-টেকনাফে আজ ১২ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয়ার কারণে ৬লাখ বাংলাদেশী বৈধ নাগরিক মৌলিক নাগরিক অধিকার এবং সেবা থেকে বঞ্চিত। এ দুই সীমান্ত পর্যটন উপজেলা উখিয়া-টেকনাফ পল্লী বিদ্যুতের অসহনীয় যন্ত্রনার শিকার হয়ে এখন প্রায় অন্ধকার জীবনে বসবাস করছে। পল্লী বিদ্যুতের ভেল্কিবাজিতে এ দুই উপজেলার জনগণ রীতিমতো এক অতিষ্ঠ এবং যাতনার মধ্যে ভোগছে। জেলার অন্যান্য উপজেলার চেয়ে এ দুই সীমান্ত উপজেলা নানা ক্ষেত্রে বৈশম্যের শিকার হচ্ছে। তৎমধ্যে বিদ্যুৎ সমস্যা প্রকট। গ্রাহকেরা এ প্রতিষ্ঠান থেকে সত্যিকার সেবা পাচ্ছেনা। পাচ্ছে পদে পদে ভোগান্তি লাঞ্চনা ও প্রতারনা। বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০১৮ সাল থেকে প্রতি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেয়া হবে এবং লোডশেডিং থেকে মুক্তি পাবে। এমন প্রত্যশার মধ্যে ছিল দুই সীমান্ত উপজেলা। কিন্তু সেই আস্বাসের বাণী কাগজে কলমে থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। বিশেষ করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ এবং আশ্রয় নেয়ার কারণে উখিয়া টেকনাফের জনসাধারণ চাহিদা মোতাবেক বিদ্যুৎ পাচ্ছেনা। এ সমস্যা নিয়ে বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা এক জ্বালা যন্ত্রনা এবং অবর্ননীয় ক্ষতির মধ্যে ভোগছেন এ দুই উপজেলার সর্বস্থরের জনগণ। এ নিয়ে একটি গভেশনামূলক প্রতিবেদন। আকাশে মেঘ হলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। কখন বিদ্যুৎ আসে গ্রাহকেরা জানেনা। টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে সংবাদকর্মীরা জানতে চাইলে গ্রায় সময় কর্তৃপক্ষ মোবাইল ফোনে বলেন, কক্সবাজার ৩৩ কেভি লাইনের ত্রুটি অথবা বিদ্যুৎ লাইনে গাছ পড়ার কারণে এসব অজুহাত পেশ করে থাকেন। টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ উপজেলার মোট বিদ্যুৎ গ্রাহক সংখ্যা ৩৫ হাজার। বিদ্যুৎ চাহিদা ১৪ মেগাওয়াট। বর্তমানে আছে সাড়ে ৮ মেগাওয়াট। সাড়ে ৫ মেগাওয়াট ঘাটতি। ৭টি ফিডারের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবারহ দেয়া হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ সচিব সম্প্রতি সামাজিক গণমাধ্যমে দাবী করেছেন, দেশে কোন ধরনের লোডশেডিং নেই। অথচ দেশের সর্বদক্ষিণ সীমান্ত উপজেলা উখিয়া-টেকনাফে প্রতিনিয়তই লোডশেডিং ও ভেলকিবাজি চলছে। এছাড়া কারণ অকারণে কোন কোন সময়ে দিনব্যাপী বিদ্যুৎ থাকেনা। কখন যে, বিদ্যুৎ আসবে এবং যাবে গ্রাহকেরা এ তথ্য থেকে বঞ্চিত। এ কারণে গ্রাহকের ফ্রিজের সংরক্ষিত মাছ ও মাংশ নষ্ঠ হয়ে যায় সেই সাথে। বিদ্যুৎতের ভৌতিক বিল গ্রাহকের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। যাহা অতীতে অন্যান্য মাসের সাথে প্রদত্ত ভৌতিক বিলের সাথে সামজস্য নেই। গড়ে প্রতিমাসে ৫/৬শত টাকার বিদ্যুৎ বিল আসার কথা, সেখানে দেয়া হচ্ছে ১৫ শত টাকার উপরে। যে সকল বিদ্যুৎ গ্রাহক সচেতন এবং প্রতিবাদী তাদের বিল আসে মাত্র ৫ থেকে ৭শত টাকা। যেমন টেকনাফ পৌরসভার পুরাতন পল্লান মোঃ ছালেহ আহমদ, হিসাব নং- ৪৩৮, ২০১৮ সালের মার্চ মাসে, বিদ্যুৎ বিল দেয়া হয়েছে ১৫৭৬ টাকা। যেখানে গড়ে বিল আসার কথা ৬শত সেখানে কোন কোন মাসে আসে ১২ থেকে ১৫শত টাকা। অপরদিকে গ্রাহক মোঃ আমিন হিসাব নং- ৪৩৭, ১৪০ ইউনিটে ডিসেম্বর/১৭ মাসে বিল দেয়া হয় ১৬৩০ টাকা, নভেম্বর/১৭ সালে ৪০ ইউনিটে ৫৫২ টাকা এবং জানুয়ারী/১৮ সালে ১০০৯ টাকা। এভাবে মনগড়া ভৌতিক বিল গ্রাহকের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে, যা গ্রাহকের পক্ষে পরিশোধ করা কষ্টকর। অনুসন্ধানে জানা যায়, মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং এবং গ্রাহক চাহিদানুযায়ী বিদ্যুৎ না পাবার পরও কেন যেন, এতো পরিমান বিদ্যুৎ বিল আসে তাহা নিয়ে গ্রাহকের মধ্যে নানা প্রশ্নের ঝট বেঁধেছে। এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া যায় না। বিশেষ করে টেকনাফ সীমান্তের প্রত্যান্ত এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা এ সমস্যার সম্মুখীন। শিক্ষা ও সচেতনতার অভাব এবং ইয়াবার কালো টাকাকে পুঁজি করে ওরা নীরবে গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। চুক্তি ভিক্তিক অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিল, টমটমের, বিদ্যুৎ চালিত রিক্সার, অবৈধ বিদ্যুৎ বিল, বৈধ গ্রাহকের উপর চাপিয়ে দিয়ে কালোটাকা সাদা করছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, হ্নীলা, বাহারছড়া, সাবরাং ও টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বারেরা দৈনিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ পাচ্ছে মাত্র গড়ে ৬/৭ ঘণ্টা। বাকি সময়ে বিদ্যুৎ থাকেনা। এর পরও বিল আসে ২৪ ঘন্টায়। সম্প্রতি হ্নীলা ষ্টেশন এবং বাহার ছড়ায় বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা বৈশম্যমূলক বিদ্যুৎ এবং সমúরিমান বিদ্যুৎ দিতে মানববন্ধন করে এর প্রতিকার চেয়েছেন। এ দুই উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে গ্রাহকেরা সেবার পরিবর্তে পাচ্ছে প্রতারনা ও ভোগান্তি। গ্রাহকেরা এ দপ্তরের কাছে জিম্মি। অন্যায় আবদারের বিরুদ্ধে গ্রাহকেরা প্রতিবাদ করলে পরবর্তীতে চলে গ্রাহক হয়রানী। টেকনাফ উপজেলা আওমীলীগের সভাপতি ও সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মোঃ আলী এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বর্তমান জেলা পরিষদ সদস্য মোঃ শফিক মিয়া বলেন, বর্তমানে উখিয়া টেকনাফের বিদ্যুৎ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল গ্রাহকের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেই সাথে পাচ্ছে না চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ।