Monday, January 17, 2022
Homeটপ নিউজঅনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা নাগরিকদের অধিকাংশই দেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে অবস্থান করছে : উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী

অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা নাগরিকদের অধিকাংশই দেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে অবস্থান করছে : উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী

জামাল উদ্দিন, টেকনাফ।
কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়াসহ বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে সম্প্রতি অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা নাগরিকদের অধিকাংশই বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে ভাড়া বাসা ও বসতবাড়ীতে অবস্থানের খবর পাওয়া গেছে।
এসব রোহিঙ্গাদের পুঁজি করে মুনাফালোভী গ্রামাঞ্চলের কিছু অসাধু নাগরিক মানবতার ধোয়া তুলে নতুন করে ভাড়াবাসা তৈরি করে দিয়ে ভাড়াটিয়া হিসেবে অবস্থান করার সুযোগ করে দিচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- সম্প্রতি চলমান মিয়ানমারের সহিংসতা ও সামারিক জান্তার নানা নির্যাতনের ধোয়া তুলে টেকনাফসহ কক্সবাজার জেলার প্রায় ৩০টি সীমান্ত পয়েন্ট ৩০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা নাগরিক নারী, পুরুষ, শিশু এদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। উক্ত অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা নাগরিকরা টেকনাফ উখিয়ার নিববিন্ধত অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঢুকে পড়ার পাশাপাশি অধিকাংশ রোহিঙ্গা নাগরিক বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে অবস্থান ও ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলা উপজেলা শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থান নিয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত হওয়া গেছে।
টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ, সাবরাং, টেকনাফ সদর, পৌরসভা, বাহারছাড়া ইউনিয়নের শামলাপুর ভাসমান রোহিঙ্গা বস্তি ও বিভিন্ন গ্রাম হ্নীলা ইউনিয়ন, হোয়াইক্যং ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী উখিয়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ বাড়ীতে ও ভাড়া বাসাতে অবস্থান করার ফলে এদের ভবিষ্যত নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন নাগরিকদের মাঝে দারুনভাবে উদ্বেগ উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। অনুপ্রবেশকারী গ্রামাঞ্চলে বসবাসকৃত এসব অবৈধ রোহিঙ্গা নাগরিকদের জীবনমান ও এদেশীয় কিছু অসাধু মুনাফা লোভী লোকজন ও জনপ্রতিনিধি অতীতের ন্যায় মোটা অংকের টাকায় বশ হয়ে কৌশলে হালনাগাদ ভোটার তালিকায় অর্ন্তভূক্ত করার কাজে সহায়তা করবে? নাকি তালিকা তৈরি করে এদের নির্দিষ্ট জায়গায় পুর্নবাসন করে বসবাস করার সুযোগ করে দিবে নিয়ে নতুনভাবে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এসব রোহিঙ্গা নাগরিকদের নতুন তালিকা করে সাময়িকভাবে হলেও এক জায়গায় অবস্থানের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি দু’দেশের পররাষ্ট্র নীতির মাধ্যমে সেদেশ পাঠিয়ে পুনঃবাসন করার দাবী জোরালো হয়ে উঠছে। তা না হলে রোহিঙ্গাদের কারণে এদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শ্রমনীতি, নীতি-নৈতিকতা ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দারুনভাবে প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদের পুনঃবাসন ও প্রত্যাবাসনে সহায়তা করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিদের দেশ-প্রেম নিয়ে সকল নীতি-নৈতিকার উর্ধ্বে থেকে কাজ করতে হবে। তা না হলে অতীতের ন্যায় এদের পুনঃবাসন ও প্রত্যাবাসন কার্যক্রম আজীবন সফলতার মুখ দেখবে না বলে অভিজ্ঞ মহলের কথা উঠছে।

এ ব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন- গ্রামে গঞ্জের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের অবস্থানের কথা শুনেছি। তালিকা করে এদের চিহ্নিত করার মধ্য দিয়ে পুনঃবাসন ও প্রত্যাবাসনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

টেকনাফ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন- বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ এটা নতুন বিষয় নয়। অতীতেও এদেশে ১৯৭৮ সাল থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে আসছে। তবে অতীতে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকাতে আবারও নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের বিষয়টি দেশের জন্য শুভ পরিণাম বয়ে আনবে না। এমনিতে দেশের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসবাস করছে। তাতে আবার নতুন অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের নতুনভাবে স্থান দিলে আল্লাহই জানে দেশের ভবিষ্যৎটা কি হবে? তাই এদের পুনঃবাসন ও প্রত্যাবাসন বিষয়ে সচেতন নাগরিক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সচেতনতার সহিত দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা উচিত।

উখিয়া উপজেলা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন- সম্প্রতি সময়ে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা বস্তি টাল ও ক্যাম্পে ঢুকে পড়ার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।
সরকারী নিয়ম বর্হিভূতভাবে যারা এসব রোহিঙ্গাদের সহায়তা ও আশ্রয়-পশ্রয় দিচ্ছে তাদের তালিকা করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। তাছাড়া অনুপ্রবেশকারী এসব রোহিঙ্গারা যাতে এদেশের জন্য বিষফোঁড়া না হয় সে জন্য নতুন তালিকা করে তাদের পুনঃবাসন ও প্রত্যাবাসনে সহায়তা দিয়ে এদেশে জিইয়ে থাকা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে স্ব স্ব এলাকার সচেতন নাগরিক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

এসব ক্ষেত্রে সরকারের পররাষ্ট্রনীতির কঠোরতায় একমাত্র যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments