মাদক কারবারীদের পূর্বাবস্থায় ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে : ওসি প্রদীপ

Teknaf-pic.....jpg

মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :

মাদক হচ্ছে, সকল অপকর্ম ও অশ্লীলতার মূল। এটি আইন শৃংখলা পরিস্থিতির জন্য
জন্য হুমকি স্বরূপ। এর থেকে উত্তোরন ও দমনের একমাত্র উপায় সকলের সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন। শুধু পুলিশের প্রতি চেয়ে থাকলে হবেনা। দেশের একজন নাগরিক হিসাবে সকলের এ দায়িত্ব রয়েছে। বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্ত হচ্ছে, মাদকের গেটওয়ে এবং এখানের স্থল ও নৌপথে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক পাচার হয়ে আইন শৃংখলা পরিস্থিতিকে বিব্রতর অবস্থার মধ্যে রেখেছে। যুব সমাজ ও মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে তাদের নৈতিক মূল্যবোধ হারাচ্ছে। সেই সাথে হারাচ্ছে মানব সম্পদ। সম্প্রতি এ প্রতিবেদক টেকনাফ মডেল থানার নব নিযুক্ত অফিসার ইনচার্জ (ও’সি) প্রদীপ কুমার দাশ এর দপ্তরে এক সৌজন্য স্বাক্ষতে মিলিত হলে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। তিনি বলেন, পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরোট্রলারেন্স ছাড়া ও ইয়াবা/মাদক ব্যবসায়ীদের কোন ছাড় নাই। যারা মাদকের কালো টাকা নিয়ে দৃশ্যমান প্রসাদ নির্মাণ করে রাজার হালতে জীবন যাপন করছে, তাদেরকে অবশ্যই পূর্বাবস্থায় ফিরে যেতে হবে। রিক্সাওয়ালা, চা-বিক্রেতা, গাড়ীর গ্যারেজ, ড্রাইবার, রংমিস্ত্রি ও মুদির দোকান থেকে যারা ইয়াবা বা মাদকের কালোটাকা থেকে জিরো থেকে হিরো বনে গেছে, তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। অতীতে কে কি করেছে এটি আমার দেখার বিষয় নয়। আমার উপর অর্প্রিত দায়িত্ব দেশ এবং জাতির স্বার্থে প্রয়োগ করেই যাবো। ও’সি প্রদীপ কুমার দাশ চলতি বছর অক্টোবর মাসে টেকনাফ থানায় যোগদানের পর থেকে ছয়জন বন্দোকযুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী নিহতের পর টেকনাফ সীমান্তে মাদক পাচার ও ব্যবসার উপর বিরুপ প্রভাব পড়েছে। অনেকেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাদক বিরোধী অভিযান চলমান থাকবে এবং তাদের নির্মিত প্রাসাদ সমূহ গুড়িয়ে ফেলা হবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মাদক কারবারীদের অপকর্মের কারণে গোটা টেকনাফ আজ বদনামের শিকার এবং এ বদনাম থেকে রেহায় পেতে হলে ওদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট এবং ওদের সাথে বিবাহ বন্ধন থেকে শুরু করে সকল সামাজিক সম্পর্ক চিহ্ন করতে হবে। পুলিশ জনগণের জান ও মালের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত তাই পুলিশ বাহিনী মাদক কারবারীদের হাতে অপকর্মের রাজত্ব ছেড়ে দেয়া যায়না। প্রত্যেকে নিজের বিভেকের আদালতে বিচার করলে এর প্রতি উত্তর পাওয়া যায়। অতীতে মাদক কারবারীরা ছিল কুড়ে ঘরে এবং বর্তমানে হয়ে গেছে রাজ প্রাসাদের মালিক। পুলিশের দুর্বার চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে বন্দোকযুদ্ধ খুনের পর বিভিন্ন সামাজিক গণমাধ্যমে মাদক কারবারীদের আতœসর্ম্পণ খবর ছড়িয়ে পড়লে ও’সি প্রদীপ কুমার দাশ এ সম্পর্কে বলেন, এখন নয়, ওদেরকে পূর্বের অবস্থায় ফিরে যেতে হবে এবং এর পর আতœসর্ম্পণ বিষয়টি চিন্তা করা হবে। ও’সি প্রদীপ মাদক কারবারীর বিরুদ্ধে তার অবস্থান নীতি অনড় থাকায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার এবং মওজুদ শূন্যের কোটায় চলে এসেছে। অতীতে যে পরিমাণ ইয়াবা বা মাদক বিভিন্ন আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে জব্দ হতো, ও’সি প্রদীপ কুমার দাশ টেকনাফ মডেল থানায় যোগদানের পর মাদকের ভয়াবহতার দৃশ্য তেমন দেখা যাচ্ছেনা। ও’সি প্রদীপ এর পূর্বে মহেশখালী থানার কর্মরত ছিলেন এবং তিনি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার অধিবাসী।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top