রোববার দুপুরে ঐক্যফ্রন্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

image-110338-1541872072.jpg

: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের যাওয়া না যাওয়ার বিষয়ে আগামীকাল রোববার সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার রাতে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের বৈঠকের পর তিনি এ তথ্য জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, রোববার দুপুর ১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন ড. কামাল হোসেন।

শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ে বৈঠক করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

জোটের শীর্ষ নেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন এতে উপস্থিত না থাকলেও বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এছাড়া অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সহ-সভাপতি তানিয়া রব, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, মোকাব্বির খান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ডা. জাহেদ উর রহমান, শহিদুল্লাহ কায়সার, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, বিকল্পধারা বাংলাদেশের শাহ আহমদ বাদল প্রমূখ অংশ নেন।

এর আগে শনিবার বিকালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাওয়া না-যাওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্যরা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।

পরে সন্ধ্যায় শুরু হয় ২০ দলীয় জোটের স্থগিত বৈঠক। ৭টায় শুরু হয়ে এ বৈঠক চলে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। তাকে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়কের দায়িত্ব দেয়া হয়। ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে জোটের হয়ে তিনি প্রতিনিধিত্ব করবেন।

সেই বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্ত সন্ধ্যায় ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে অবহিত করা হয়। এ সময় জোটের বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে শরিকরা মতামত তুলে ধরেন।

স্থায়ী কমিটির সদস্যদের প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে চলা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া অসুস্থতার কারণে বৈঠক চলাকালে বেরিয়ে যান।

পরে ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, কল্যাণ পার্টির মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিজেপির ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, এলডিপির ড. রেদওয়ান আহমেদ, জামায়াতের মাওলানা আব্দুল হালিম, এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাতীয় পার্টির মোস্তফা জামাল হায়দার, খেলাফত মজলিসের মাওলানা ইসহাক, জাগপার ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, লেবার পার্টির ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ডিএল’র সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, মাইনোরিটি জনতা পার্টির সুকৃতি কুমার মণ্ডল, ইসলামী ঐক্যজোটের অ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব, ন্যাপের চেয়ারম্যান শাওন সাদেকী প্রমুখ।

বৈঠকের শেষপর্যায়ে অংশ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শরিক দলগুলোর উদ্দেশে বলেন, গণতান্ত্রিকপন্থায় আইনের যে পথগুলো আছে তাদেরকে সেদিকেই যেতে হবে।

বৈঠক শেষে জোটের শীর্ষ নেতা কর্নেল অলি আহমেদ বলেন, তাদের আন্দোলন অব্যাহত আছে। নির্বাচনে যাব কি যাব না, এ ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। দু-একদিনের মধ্যে ২০ দল, মূল দল বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনা করে জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি হলো আমাদের প্রাধান্য। তাকে মুক্ত করতে হবে। তাহলে নির্বাচনের পরিবেশ ফিরে আসবে। এখন পর্যন্ত বিশেষ করে বিএনপির নেতাকর্মীকে গত দুদিনে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাস্তাঘাটে তাদের নির্যাতন করা হচ্ছে। এগুলো বন্ধ না করা পর্যন্ত সুস্পষ্টভাবে আমাদের সিদ্ধান্ত জানাতে পারব না।

অলি বলেন, যদি আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি। তাহলে অনেকে তারা দলীয় প্রতীকে অংশগ্রহণ করব, অনেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করব।

২০ দলীয় জোট নির্বাচনে যাবে বলে গণমাধ্যমের খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে অলি আহমেদ বলেন, আমরা এমন কথা গণমাধ্যমে বলিনি। যদি কেউ বলে থাকে তাহলে অনৈতিক কাজ করেছে।

তিনি বলেন, এই যে সরকার বলছে সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আসলে তা কাগজে কলমে আর পত্রিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। এখন পর্যন্ত সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। এটা সরকারের দায়িত্ব।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top