মাদক বিরোধী অভিযান থেকে দৃষ্টি ফেরাতে মানব পাচার!

02.jpg

খাঁন মাহমুদ আইউব(কক্সবাজার)প্রতিনিধি#
কক্সবাজারের টেকনাফে আবার মাথা নাড়া দিয়ে উঠেছে মানবপাচার কারীরা।মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে বিজিবি ও কোস্টগার্ড দালাল সহ সর্বমোট ৫৩জন রোহিঙ্গা নারী পুরুষ কে আটক করেছে।হঠাৎ মানবপাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠার বিষয়কে সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে মাদক বিরোধী অভিযানকে ব্যাঘাত ঘটানোর ষড়যন্ত্র বলে মতামত উঠে এসেছে।

দেশ ব্যাপী মানব পাচার কারীদের বিরুদ্ধে আইন প্র‍য়োগকারী সংস্থার শক্ত অবস্থানের ফলে মানবপাচার শুন্যের কৌটায় নেমে এসেছিলো।সম্প্রতি সময়ে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারীরা নতুন ভাবে সিন্ডিকেট করে শুরু করে দিয়েছে আদম পাচারের মতো জগন্য অপরাধ।এসব কাজে স্থানীয় দালালদের সাথে আতাত করে সক্রিয় রয়েছে কতিপয় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানরত তালিকাভূক্ত পুরাতন দালালরা।এরা কৌশলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নারী পুরুষদের বিভিন্ন লোভে ফেলে সাগর পথে অবৈধ ভাবে মালয়েশিয়া পাচার করে দিচ্ছে।তবে সীমান্তে আইন শৃংক্ষলা বাহিনীর কঠোর নজরদারীতে এসব দালালদের পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।
চলতি ৬ নভেম্বর ১৪ জন রোহিঙ্গা নারী পুরুষ ও পাচারকাজে ব্যবহৃত নৌকাসহ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ ঘোলার চর এলাকাহতে আটক করেছে বিজিবি।টেকনাফ ২-বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার জানান,উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের আলোচিত কাটাবুনিয়া মানবপাচার ঘাট থেকে তাদের নৌকায় তুলে পাচার করা হয়েছিলো বলে এমন তথ্য জানিয়ে আটককৃতরা।আটক রোহিঙ্গাদের অভিযোগ,নৌকায় করে তিন দিন পর্যন্ত গভীর বঙ্গোপসাগরে ঘুরিয়ে শেষ পর্যন্ত থাইল্যান্ড ঘাটে পৌছার কথা বলে শাহপরীরদ্বীপ সংলগ্ন ঘোলার চর এলাকায় রাতের অন্ধকারে নামিয়ে দেয় পাচারকারীরা।প্রাথমিক ভাবে দালালরা মাথাপিছু ১০/২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার কথাও স্বীকার করেছেন তারা।

অপরদিকে,৭ নভেম্বর ৬জন মানব পাচারকারী দালাল,১০ জন রোহিঙ্গা নারী,১০জন রোহিঙ্গা পুরুষ,৪জন বাংলাদেশী পুরুষ এবং ৯ জন শিশুসহ মোট ৩৯জন ভিকটিম আটক করেছে কোস্ট গার্ড।কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের লেঃ কমান্ডার বিএন সাইফুল ইসলাম জানান,
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা ৬ জন রোহিঙ্গা দালালের মধ্যস্থতায় সাগর পথে মালয়েশিয়া গমনের জন্য শীপে উঠার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য মতে,গেলো ২০১৫ সালের ৮মে আদমঘাট খ্যাত কচুবনিয়া ঘাট থেকে আদম পাচারকালীন এক অভিযানে টেকনাফ মডেল থানার পুলিশের সাথে বন্ধুক যুদ্ধে জড়িয়ে পরে দালালরা।এতে পুলিশের চারজন সদস্য আহত হলেও নিহত হয়েছে অন্তত শীর্ষ তিন মানব পাচারকারী।এর ধারাবাহিকতায় রোহিঙ্গা দালাল আমান উল্লাহ সহ বেশ ক’জন বন্ধুক যুদ্ধে নিহত হওয়ার পর ছত্র ভঙ্গ হয়ে যায় আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী সিন্ডিকেট।তবে কচুবনিয়া ঘাটের ইজারাদার মৃত আজিজুল হকের পুত্র ফয়েজ উল্লাহ উরফে ভোতা ধরা ছোয়ার বাহিরে রয়ে গেছে।সেই মানব পাচারের প্রধান মাষ্টার কী বলে জানা গেছে।অনেকে প্রান ভয়ে বিদেশে পালিয়ে এখনো দেশে ফিরেনি।তবে তালিকাভূক্ত রোহিঙ্গা দালাল হাফেজ আইউব সহ অনেকে দেশে অত্মগুপনে থাকলেও পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন সময় টেকনাফ মৌলভী পাড়া এলাকার মোস্ট ওয়ান্টেড দালাল আনোয়ারের পুত্র দালাল জাবেদ সহ হাতে গুনা কয়েক জনকে আটক করা হয়েছে।এসব শীর্ষ স্থানীয় দালালরা আটকের কয়েকদিন পর আবার জামিনে বেরিয়ে আসে।

স্থানীয়দের মতে,আত্বগুপনে থাকা চিহ্নিত দালালরা আবারো শীত মৌসুমে সমুদ্র শীতল থাকার সময়কে কাজে লাগিয়ে মানবপাচার শুরু করে দিয়েছে।ইতোমধ্যে স্থানীয় ভাবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল হাসানের নেতৃত্বে উপজেলার তুলাতলী,মহেশখালীয়া পাড়া,খালকাটা,কাটাবনিয়া ঘাটসহ উপকূলীয় বিভিন্ন পয়েন্টে মানাবপাচার বিরোধী অভিযান ও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।এবিষয়ে উক্ত কর্মকর্তা জানান,মানবপাচারের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন জিরো ট্রলারেন্স নিতিতে অটল।পালিয়ে থাকা চিহ্নিত দালালদের অতি শিগ্রই আইনের আওতায় আনার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সচেতন মহলের মতে বিরাজমান রোহিঙ্গা ও ইয়াবা আগ্রাসনের মধ্যে যদি আদমপাচারের মতো অপরাধ কার্যক্রম সক্রিয় হলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে আইন শৃংক্ষলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।স্বেচ্চাসেবী সংগঠন রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির চেয়ারম্যান মুজাম্মেল হক জানান,চলমান মাদক বিরোধী কার্যক্রমের গতিশীলতা ব্যাঘাত ঘটাতে স্থানীয় প্রশাসনকে আদমপাচার নিয়ে ব্যস্ত রাখতেই ইয়াবা গডফাদারদের নতুন চক্রান্ত জড়িত থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন।তাই ইয়াবা বিরোধী অভিযান ধারাবাহিকতা রাখতে গেলে প্রাথমিক অবস্থায় মানবপাচার ঠেকাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সীমান্তে গোয়েন্দা নজড়দারী বাড়ানো সহ তালিকা ভূক্ত মানবপাচারকারী দালালদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি ও র‍্যাবের অভিযান অত্যান্ত জরুরী।একাজে প্রশাসন ব্যর্থ হলে নির্বাচন মূখী সময়ে আইনশৃংক্ষলা পরিস্থিতি অবনতি ও সরকার বেকায়দায় পরার আশংকা উড়িয়ে দেয়া যায়না।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top