৬ নভেম্বর ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশের মাস্টারপ্ল্যান ফাঁস : একমাত্র পলিটিক্যাল কিলিং বাঁচাতে পারে বিএনপিকে

PicsAr.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক :: পহেলা নভেম্বর রাতে গণভবনে ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে সংলাপে বিশেষ সুবিধা আদায় করতে পারেনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে নির্বাচনের পূর্বে আন্দোলন জমিয়ে তুলতে ৬ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের ডাক দিয়েছে বিএনপি। সূত্রের খবরে জানা গেছে, সমাবেশের নামে দেশব্যাপী সহিংসতা ছড়িয়ে দিতে একাধিক ভয়ংকর মাস্টারপ্ল্যান করেছে বিএনপি। সমাবেশে নারী নেত্রীদের পুলিশের উপর লেলিয়ে দিয়ে সহিংসতায় উস্কানি দেওয়া, কর্মীদের মাঝে সংঘর্ষ বাধিয়ে শতাধিক কর্মীদের প্রাণের বিনিময়ে সহিংসতা ছড়িয়ে নির্বাচনী তফসিল পিছিয়ে দেওয়ার মত পরিবেশ সৃষ্টি করতে রক্তক্ষয়ী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিএনপি। সূত্র বলছে, দলীয় সমন্বয়হীনতায় ভরাডুবির চিন্তায় নিজ দলের কর্মীদের প্রাণের বলি দিয়ে হলেও নির্বাচন পেছানোর পরিকল্পনা করছে দলটি।

বিএনপির নয়াপল্টন পার্টি অফিস সূত্রের খবরে জানা যায়, দলের একাধিক নেতা মনে করছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে সরকারি দলের সঙ্গে বহুল প্রত্যাশিত সংলাপ করেও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে বিএনপিকে। খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সরকারের সঙ্গে নরম সুরে আলোচনা করে ব্যর্থ হয়ে সরকারকে তাদের দাবি মানতে বাধ্য করার জন্য ২০১৪ সালের ন্যায় সহিংস কর্মসূচি ঘোষণা দিতে চায় বিএনপি। সহিংস কর্মসূচির ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করার প্রস্তুতি নিতে ৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদের বাসায় বৈঠকে বসেন মির্জা ফখরুল, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

বৈঠকে উপস্থিত মির্জা আব্বাসের ব্যক্তিগত সহকারীর সূত্রে জানা যায়, আগামী ৬ নভেম্বরের সমাবেশে সহিংসতা উস্কে দিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য একাধিক কৌশল সমন্ধে আলোচনা করেন মির্জা ফখরুলরা। আলোচনার এক পর্যায়ে মওদুদ আহমেদ বিএনপির নারী কর্মীদের ব্যবহার করে পুলিশের সাথে হট্টগোল বাধানোর পরিকল্পনার পরামর্শ দেন। মওদুদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিএনপির নারী নেত্রীরা স্লোগান দিতে দিতে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করবে। এসময় বাছাইকৃত কয়েকজন নারী নেত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে পুলিশের গায়ের উপর গিয়ে পড়বে এবং এটিকে শ্লীলতাহানি হিসেবে পুঁজি করে পুলিশকে বদনাম করা যাবে।

এসব কাজের দায়িত্ব গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মেয়ে অপর্ণা রায় ও ছেলের বউ নিপুন রায়কে দিতে অনুরোধ করেন মওদুদ। মওদুদ মনে করছেন, মিশন সফল হলে পুলিশের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হবে এবং পুলিশের মনোবল ভেঙ্গে যাবে। এতে করে পুলিশের উপর প্রতিশোধ নিতে পারবে বিএনপি। কারণ বিএনপির বিগত সব আন্দোলন-সংগ্রাম পণ্ড করে দিয়েছে পুলিশ। সুতরাং পুলিশকে শায়েস্তা করতে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার পক্ষে মতামত দেন মওদুদ আহমেদ। এসময় মির্জা ফখরুল এত বড় সমাবেশ সফল করার জন্য অর্থের সংস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুললে মির্জা আব্বাস বিএনপির ব্যাংকখ্যাত আবদুল আউয়াল মিন্টুকে চাপ দিতে পরামর্শ দেন। আব্বাসের মতে, বিগত বিএনপি সরকারের সময় ব্যবসায়ীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পয়সা ইনকাম করেছেন মিন্টু। দলের বিপদের দিনে খরচ করে বিএনপির ঋণ শোধ করার জন্য মিন্টুর অর্থ ব্যবহার করার পক্ষে নিজের মতামত দেন আব্বাস। পরবর্তীতে মির্জা ফখরুল মিনটুকে ফোন করে ৬ নভেম্বরের সমাবেশে অর্থ বিনিয়োগ করার জন্য নির্দেশ দিলে মিন্টু কালক্ষেপণের চেষ্টা করেন। এসময় ফখরুল তাকে বিএনপির পেছনে বিনিয়োগ করলে আগামীতে লাভবান হওয়ার প্রলোভন দেখান। মিন্টু বিগত দশ বছরের বেশি সময় ধরে বিএনপির পেছনে বিনিয়োগ করে খালি হাতে ফেরার বিষয়ে যুক্তি দেখালে কিছুটা বিব্রত হয়ে পড়েন মির্জা ফখরুল। এক পর্যায়ে তারেক রহমানের দোহাই দিলে সমাবেশে বিনিয়োগ করতে মত দেন মিন্টু। আলোচনার এক পর্যায়ে মির্জা ফখরুল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীতা বাছাইয়ের নামে চাঁদা সংগ্রহ করে লন্ডনে তারেক রহমানের কাছে অর্থ পাঠানের বিষয়ে উপস্থিত নেতাদের তাগিদ দেন। নির্বাচনের পূর্বে অন্তত ৫০ কোটি টাকা লন্ডনে পাঠানোর টার্গেট নির্ধারণ করে দেন মির্জা ফখরুল। প্রয়োজনে বিএনপির শাসনামলে আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যাওয়া ব্যবসায়ী নেতাদের কাছে ধরণা দিয়ে চাপ দিয়ে হলেও টার্গেট পূরণ করা বিষয়ে জোর দেন ফখরুল।

এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় সমন্বয়হীনতায় ভরাডুবির শঙ্কায় সমাবেশের দিন প্রয়োজনে দলীয় কর্মীদের মাঝে কৌশলে বিবাদ বাধিয়ে শতাধিক লাশ ফেলে দেওয়ার পক্ষে মতামত দেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তার মতে, লাশের রাজনীতি করে দেশব্যাপী সহিংসতা ছড়িয়ে দিতে পারলে সরকার অন্তত নির্বাচন পিছিয়ে দিতে বাধ্য হবে। নির্বাচন পিছিয়ে গেলে বিএনপি সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে। কারণ বিএনপির বর্তমান অবস্থা ভালো না। এ অবস্থায় নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপির ভরাডুবি হবে। তাই খালেদা জিয়ার বিএনপিকে বাঁচাতে হলে দলীয় কর্মীদের কুরবানী দেওয়ার বিকল্প নেই। সহিংতা ও লাশের রাজনীতিই বিএনপিকে রাজনীতির মাঠে স্বমহিমায় ফিরিয়ে আনবে। পলিটিক্যাল কিলিংয়ের মিশন সফল হলে বিএনপি বাঁচবে বলেও মতামত দেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

আলোচনার এক পর্যায়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ড. কামালের প্রসঙ্গে কথা বলে নিজের মনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ড. কামালকে ডাবল ডিলার বলে আখ্যায়িত করেন গয়েশ্বর চন্দ্র। তিনি বলেন, তারেক রহমান সাহেবও ড. কামালকে অবিশ্বাস করেন। তিনি বিএনপিতে ভাঙ্গন ধরানোর চেষ্টা করছেন। তারেক সাহেব ৩ নভেম্বর রাতে ফোন করে ড. কামালের হাত থেকে বিএনপিকে বাঁচাতে আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। ড. কামাল কৌশলে মির্জা ফখরুলকে ঐক্যফ্রন্টমুখী করে তুলছেন।

গয়েশ্বর চন্দ্রের আক্রমণাত্মক কথা-বার্তায় মির্জা ফখরুল বাধা দিলে সভায় হট্টগোল শুরু হয়ে যায়। এসময় মির্জা ফখরুল ড. কামালকে একজন বিদগ্ধজন হিসেবে উপস্থাপন করে তার কাছ থেকে বিএনপি নেতাদের রাজনীতি শেখার পরামর্শ দেন। এক পর্যায়ে মির্জা ফখরুল বলেই ফেলেন, ড. কামালের সততা ও নিষ্ঠা দেখে ইমেজ সংকটে পড়েছেন তারেক স্যার। তিনি মনে করছেন ড. কামাল বিএনপির ক্ষতি করছেন, বিএনপির কর্তৃত্ব কেড়ে নিতে চান। বিএনপি না বুঝেই ড. কামালকে ভুল বুঝছে। এসময় উপস্থিত বাকি নেতারা ড. কামালের এত প্রশংসা করার জন্য মির্জা ফখরুলের সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেন। বিএনপি করতে হলে এবং নির্বাচনে জয়ী হয়ে মন্ত্রী হতে হলে তারেক রহমানের কথায় সুর মেলানোর জন্য মির্জা ফখরুলকে জ্ঞানও দেন নজরুল ইসলাম খান। পাশাপাশি ড. কামালের চাটুকারিতা না করে মির্জা ফখরুলকে ৬ নভেম্বরের সমাবেশে সহিংসতা ছাড়ানোর আরো নতুন নতুন পরিকল্পনা করারও পরামর্শ দেন নেতারা।

এদিকে ৪ নভেম্বর রোববার ঢাকার আশেপাশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে অস্বাভাবিক মাত্রায় পেট্রোল ও অকটেন বিক্রির খবর শুনে কিছুটা চিন্তায় পড়েছে পুলিশ। এই অতিরিক্ত পেট্রোল ও অকটেন আগামী ৬ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে আগুন সন্ত্রাসের জন্য ব্যবহার করা হবে কি না তা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top