দূর হতে যাচ্ছে কারিগরি শিক্ষকের অভাব, সাড়ে ৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ ১০০ স্কুলে

photo-1457589961-1-650x400.jpg

ডেস্ক নিউজ :
স্কুল আছে, আছে শিক্ষার্থীও কিন্তু নেই তাদের শিক্ষার আলো প্রদান করার মতো অভিজ্ঞ শিক্ষক। দেশের বিভিন্ন উপজেলায় এটি একটি খুব সাধারণ দৃশ্য। যদিও এই করুণ দৃশ্যপটের পরিবর্তন হয়েছে দেশের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অবদানে। এই ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই তথ্যপ্রযুক্তি খাতও। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্কুল। শুধু স্কুলই নয়, এই স্কুলকে আলোকিত করার জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে অভিজ্ঞ শিক্ষক এবং সংযোজন করা হয়েছে আধুনিক মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম।

বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে দেশও এখন এগিয়ে যাচ্ছে। পুরো বিশ্বে বর্তমানে পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজন কারিগরি শিক্ষার। দেশের এই কারিগরি শিক্ষাকে আরও বিস্তৃত করতে দিন দিন গড়ে তোলা হচ্ছে নতুন নতুন কারিগরি শিক্ষা স্কুল। সম্প্রতি কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে সারাদেশে ১০০ টি উপজেলায় গড়ে তোলা হচ্ছে কারিগরি স্কুল বা টেকনিক্যাল স্কুল (টিএস)। বর্তমান যুগের চাহিদা মোতাবেক যুগোপযোগী নতুন কিছু বিষয় চালু করা হবে নির্মিতব্য এসব কারিগরি স্কুলে। প্রতিটি স্কুলে বিভিন্ন বিষয়ে মোট ৭৫ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।

প্রথমবারের মতো সারাদেশে ১০০টি উপজেলায় টিএস বা ভোকেশনাল স্কুল নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯২৪ কোটি টাকা যা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে। প্রতিটি স্কুলে ৮৪০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের জন্য ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত কারিগরি বিষয় অন্তর্ভুক্তকরণ, এসএসসি (ভোকেশনাল) সার্টিফিকেট কোর্স ও স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এসব কোর্সের মাধ্যমে দেশের জনগণকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। এর ফলে দেশে এবং দেশের বাহিরে শ্রম বাজারে চাকরির জন্য সুযোগ সৃষ্টি হবে, জীবিকা নির্বাহের জন্য দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ হবে এবং স্কুল পর্যায়ে কারিগরি বিষয় ছাড়াও চারটি ট্রেড কোর্স ও স্বল্পমেয়াদী চাহিদা সম্পন্ন প্রশিক্ষণ কোর্স প্রবর্তন করা হবে।

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, ১০০টি একাডেমিক প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ (প্রতিটি ২২৬৫ বর্গমিটার), দেড়শ একর জমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন, মেশিনারি ও যন্ত্রপাতি ক্রয়, আসবাবপত্র ক্রয়, বাউন্ডারি ওয়াল ও অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। দেশের ৯৪ টি উপজেলায় জমি অধিগ্রহণ কাজ শেষ করার পর সেখানে ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে। এই ভবনগুলো ৫ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ভবনের জন্য ব্যয় করা হবে ১৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে কয়েকটি উপজেলায় ৩ থেকে ৪ তলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে সকল উপজেলায় ভবন নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে।

এসব ভোকেশনাল বা কারিগরি স্কুলে চাহিদা সম্পন্ন ডিপ্লোমা ও শর্ট কোর্সে নতুন কিছু বিষয় চালু করা হবে। তার মধ্যে পেপার প্রোডাকশন, রেডিক্যাল এনার্জি, ফুড প্রসেসিং অ্যান্ড কোয়ালিটি কন্ট্রোল, টেক্সটাইল ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং, নিটিং অ্যান্ড ডায়িং, উড ওয়ার্কিং, রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং, জুয়েলারিসহ প্রায় ২০টি নতুন বিষয় চালু করা হবে। নতুন বিষয় শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরার জন্য ১০০টি কারিগরি স্কুলে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে সারা দেশে।

কারিগরি দিক আরও বেশি ত্বরান্বিত করার জন্য দেশে কারিগরি স্কুল নির্মাণের এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশে শিক্ষিত ও দক্ষ জনবল তৈরী করা হবে। বিদেশে কর্মক্ষেত্র তৈরীর মাধ্যমে দেশের সুনাম বাড়বে এবং বেকারত্ব দূর হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top