অবৈধ টাকা পাচারের শীর্ষে আব্দুল আউয়াল মিন্টুর পরিবার

aaaaa-715x400.jpg

ডেস্ক নিউজ :
ফেনী-২ আসনের বিএনপির সম্ভাব্য মনোনীত প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তাকে সবাই রাজনীতির ‘টাকার কুমির’ নামেই চেনে। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা।

২০১৬ সালের প্রথম দিকে ওয়াশিংটন ভিত্তিক ‘ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস’ (আইসিআইজে) ‘পানামা পেপারস’ নামে নথি প্রকাশ করে। একই বছরের ১৭ নভেম্বর বেনামি প্রতিষ্ঠান খুলে বিদেশে বিনিয়োগ করার ২৫ হাজার নথি ফাঁস করে প্যারাডাইস পেপারস। যেখানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী আবদুল আউয়াল মিন্টু, তার স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়াল, ছেলে তাফসির আউয়াল ও তাবিথ আউয়ালসহ মোট ১০ জন বাংলাদেশির নাম আসে। সর্বশেষ, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ট্যাক্স ফাঁকি দিতে মাল্টায় বিভিন্ন কোম্পানিতে অর্থ বিনিয়োগ করার নতুন তালিকা প্রকাশ পায়।

পুত্র তাবিথ আউয়ালের অর্থ কেলেংকারি

আব্দুল আউয়াল মিন্টুর পুত্র তাবিথ আউয়ালের বিরুদ্ধে বিএনপির শীর্ষ আট নেতার সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনভাবে ১২৫ কোটি টাকা লেনদেন করার আরেকটি অভিযোগের অনুসন্ধান করছেন দুদকের উপ-পরিচালক শামসুল আলম। গত ২রা এপ্রিল বিএনপির শীর্ষ আট নেতাসহ ১০ জনের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ১২৫ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। তারা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান, সহ-সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু, এম মোর্শেদ খান, যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, নির্বাহী সদস্য তাবিথ আউয়াল, এম মোর্শেদ খানের ছেলে ফয়সাল মোর্শেদ খান ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান।

লন্ডনে তারেক জিয়ার যাবতীয় খরচ জোগায় আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং তার ছেলে তাবিথ আউয়াল। তবে, মাসিক খরচের টাকা শুধু একজন নয় আরও কয়েকজন দেন। তারেককে টাকা পাঠানো ছাড়াও মিন্টু ও তার ছেলে তাবিথ অবৈধভাবে বিদেশে টাকা পাচার করে স্বর্গদ্বীপে একাধিক কোম্পানি খুলেছে বলেও দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে।

কর ফাঁকি ও অর্থ পাচারের সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিকদের সম্পৃক্ততায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ‘ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ’ (টিআইবি)। ঘটনাটিকে ‘প্রকট দুর্নীতি-সহায়ক পরিস্থিতির দৃষ্টান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সংস্থাটির পক্ষে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পানামা ও প্যারাডাইস পেপারসে যাদের নাম এসেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থা ‘দুদক’ আরো কঠোর হবে বলে আশা করছি।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top